নমনীয় চাকা, যা রেলগাড়ীর গতিকে দ্বিগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে, পাইলট বিহীণ বিমান ও অতি ক্ষুদ্র অ্যান্টেনা ওমস্ক শহরে আয়োজিত উচ্চ প্রযুক্তি ও অস্ত্র ব্যবস্থার প্রদর্শনীতে ("ভি ভি টি ভি – ওমস্ক – ২০১১") দেখানো হয়েছে. এই প্রদর্শনীতে সামরিক অস্ত্র সম্ভার ছাড়াও দ্বৈত প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরী করা বহুবিধ যৌথ ক্ষেত্রে ব্যবহার যোগ্য ও সামাজিক প্রয়োজনীয় জিনিসও দেখানো হয়েছে.

১২০টি রুশ ও বিদেশী অংশগ্রহণকারী প্রদর্শক কোম্পানী এই প্রদর্শনীতে নানা রকমের বৈমানিক ও মহাকাশ প্রযুক্তি ও চিকিত্সা ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি, যোগাযোগের ব্যবস্থা, রেডিও ইলেকট্রনিকস ও আরও অন্য প্রযুক্তির জিনিস এনেছে. প্রায় ৬০ হাজারেরও বেশী দর্শকদের বেশী উত্সাহের কারণ হয়েছে পাইলট বিহীণ বিমান – সাইবেরিয়ার বিজ্ঞানীদের বুদ্ধি প্রসূত নবজাতক. এই বিমান ব্যবহার করা যেতে পারে ভিডিও পর্যবেক্ষণ থেকে শুরু করে ত্রৈমাত্রিক মানচিত্র গঠনের কাজে, এই কথা উল্লেখ করে ওমস্ক রাজ্যের শিল্প মন্ত্রী আলেকজান্ডার গর্বুনভ বলেছেন:

"এটা একটা ছোট যন্ত্র, যা সম্পূর্ণ ভাবেই ত্রৈমাত্রিক মডেল তৈরী ও যন্ত্র তৈরীর প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরী করা হয়েছে. এটাতে রয়েছে ভিডিও ব্যবস্থা, যা প্রায় চার কিলোমিটার অবধি উচ্চতা থেকে তথ্য পাঠাতে পারে, আর আকাশে উড়তে পারে এক টানা দুই ঘন্টা. এই প্রদর্শনীতে পাইলট বিহীণ বিমান দেখিয়েছে সেনাদলের মহড়ার মাঠ থেকে সরাসরি প্রচার করা ঘটনা, যেখানে বাহিনী এক প্রশিক্ষণ মূলক মহড়ায় নিযুক্ত ছিল. খুবই ভালো গুণ মানের ছবি, কোন রকমের ছবির গন্ডগোল ছাড়াই, সব কিছুই দর্শকদের স্পষ্ট দেখানো সম্ভব হয়েছে. আমার মতে, এই যন্ত্রের ভবিষ্যত খুবই সুদূর প্রসারী".

নূতনতম সামরিক অস্ত্র সম্ভার যুদ্ধের কাজে আরও কম মানুষের উপস্থিতি প্রয়োজনীয় করে. ওমস্ক শহরে দেশের ট্যাঙ্ক নির্মাণের সবচেয়ে বড় কারখানা গুলি রয়েছে, সেখানে বিশ্বের বর্তমান ঝোঁক সম্বন্ধে খুব ভাল করেই ওয়াকিবহাল. এখানে দেখানো হয়েছে একটি ছোট রোবট ট্যাঙ্ক দেখানো হয়েছে, যা সন্ত্রাসবাদী ও লুকিয়ে গুলি চালানো স্নাইপার সেনাকে ধ্বংস করতে সক্ষম, যা টেলিভিশনের ব্যবস্থার মাধ্যমে দেখতে পাওয়া যায়. এই ১১০ কিলো ওজনের যন্ত্রটি ভাসতে পারে, উল্টে গেলে "পায়ে দাঁড়িয়ে উঠতে" পারে ও মাইন পাতা থাকলে, তা তুলে আনতে পারে. এই ধরনের প্রযুক্তি স্থানীয় বিরোধে ব্যবহার করা যেতেই পারে.

এই প্রদর্শনীর এক বিজয়ী  - ছোট্ট ক্ষুদ্র বেতার তরঙ্গের অ্যান্টেনা, যার পরিমাপ মাত্র ৩০ সেন্টিমিটার, কিন্তু যেটির কাজের ক্ষমতা একটি ৪০ মিটার উঁচু বিশাল অ্যান্টেনার মতই. এটা দিয়ে বিশাল পরিমানে তথ্য পাঠানো সম্ভব হয়. এর সাহায্যেই এখানে পাইলট বিহীণ বিমান থেকে পাঠানো ছবি পাওয়া গিয়েছে, যেটি মহড়ার মাঠে উড়ে সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণের ছবি তুলছিল.

অন্যান্য দ্রষ্টব্য বস্তু গুলির মধ্যে  - বিপর্যয় নিরসন মন্ত্রণালয়ের জন্য বিশেষ যন্ত্রপাতি ও নূতন সামরিক গাড়ী, তার মধ্যে বায়বীয় স্তরের উপরে চলা গাড়ী. ন্যানো আস্তরণের সাহায্যে যন্ত্রপাতির ব্যবহার উপযুক্ত হওয়ার মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে. পঞ্চম প্রজন্মের বিমানের জন্য ইঞ্জিনের অনুকল্প.

অসামরিক প্রযুক্তি গুলিও দর্শকদের কাছে জনপ্রিয় হয়েছে, আলেকজান্ডার গর্বুনভ তাই বলেছেন:

"তোমস্ক শহরের কোম্পানী গুলির জিনিস গুলির কথাও উল্লেখ যোগ্য: এক প্রোগ্রাম তৈরী করা যন্ত্র, যার সাহায্যে খুব তাড়াতাড়ি মানুষের রক্তের মূল চরিত্র সম্বন্ধে জানতে পারা যায়. শক্তি ব্যবস্থার জন্যও বহু প্রযুক্তি এখানে দেখানো হয়েছে. অংশতঃ, স্বয়ং সম্পূর্ণ চলমান যন্ত্র, যেটি দিয়ে যেখানে এখনও বৈদ্যুতিক তারে বিদ্যুত পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না, সেখানে আলো দেওয়া যায়".

যদি আগে ওমস্ক শহরের প্রদর্শনী দেখতে উত্তর কোরিয়া থেকে দর্শক আসত, বিশেষ করে সামরিক প্রযুক্তি দেখতে, তবে এখন আমাদের এই উদ্ভাবনী প্রযুক্তি প্রদর্শনীতে দেখতে আসেন সমস্ত পশ্চিমী দেশের প্রতিনিধিরাই. এই রাজ্যের রাজ্যপাল লিওনিদ পলিঝায়েভ বলেছেন, ওমস্ক শহরের প্রদর্শনী, যা এই বার নিয়ে নবম বার করা হচ্ছে, বহু পরিকল্পনারই পথ খুলে দিয়েছে, যা বিপন্ন ১৯৯০ এর দশকে সাইবেরিয়ার প্রযুক্তি ও শিল্পের ক্ষমতাকে ধরে রাখতে সাহায্য করেছে. ভবিষ্যতে, এই রাজ্যের প্রধানের মতে, এই প্রদর্শনী বহু দেশ ও এখানের কারখানা গুলির মধ্যে চুক্তি করার এক উপযুক্ত মঞ্চ হবে. প্রদর্শনীতে পুরস্কৃত জিনিস গুলির সম্বন্ধে বলা যেতে পারে যে, এই গুলির বহুল পরিমানে উত্পাদনের সম্ভাবনা এখন এহ বাহ্য. ওমস্ক শহরের উদ্ভাবনী প্রযুক্তি গুলিকে দেশের ভিতরে ও বাইরে কাজে লাগানোর কাজ করবে রাষ্ট্রীয় সংস্থা "রসটেকনোলজি".