"বুলগারিয়া" স্টীমার ডুবি হওয়ায় রাশিয়াতে আজ দেশ জুড়ে শোক দিবস পালিত হচ্ছে, সমস্ত সরকারি কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে, রেডিও ও টেলিভিশনে সমস্ত প্রমোদ মূলক অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে. স্টীমার ডুবেছে রবিবার ১০ই জুলাই. প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী এই স্টীমারে ছিলেন ২০৮ জন মানুষ. তাদের মধ্যে ত্রাণ পেয়েছেন মাত্র ৭৯ জন.

সমস্ত ক্ষতিগ্রস্ত ও নিহতদের পরিজনকে রাশিয়ার নেতারা ও অন্যান্য দেশের নেতারাও নিজেদের সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন.

১০ই জুলাই রাশিয়ার নতুন ইতিহাসে এক খুবই শোকের দিন হয়ে রইল. বুলগারিয়া নামের বেড়ানোর স্টীমার ডুবে যাওয়া – যা বিগত তিরিশ বছরে দেশে কখনও হয় নি, তা সকলকেই স্তম্ভিত করেছে. সারা রুশ দেশ ও বিদেশ থেকেও কাজান শহরে আসছে বহু চিঠি, টেলিগ্রাম সমবেদনা, সাহায্য ও শোকের বার্তা নিয়ে. এই ট্র্যাজেডির বলি হয়েছেন একশরও উপরে মানুষ. চমকে দেয় নিহত শিশু কিশোরের সংখ্যা. এর আগে রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ মন্ত্রীদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ সভাতে মঙ্গলবার ১২ই জুলাইকে দেশের শোক দিবস বলে ঘোষণা করেছেন, সমবেদনা জানিয়েছেন ও খুবই কঠোর ভাষায় এই ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করতে বলেছেন, যাতে এই ট্র্যাজেডি আর কখনও না ঘটতে পারে.

এখন সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, শুধু কারা দোষী, তাদের খুঁজে বার করলেই চলবে না, বরং সাহায্য করতে হবে তাঁদের, যাঁরা বেঁচে ফিরেছেন. আর সেটা বোধহয়, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ – যাঁরা নিকট জনকে হারিয়েছেন, তাঁদের কথা ভাবা – এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার স্বাস্থ্য ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রী তাতিয়ানা গোলিকভা বলেছেন:

"সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল সামাজিক- মনস্তাত্বিক সাহায্য. কারণ সেই সব মানুষেরা – যাঁরা রক্ষা পেয়েছেন, তাঁরা ও আত্মীয় পরিজনরা রয়েছেন খুবই কঠিন মানসিক যন্ত্রণায়. আমরা কাজান শহরে আমাদের বিশেষজ্ঞদের পাঠিয়েছি, যাঁদের প্রয়োজন, তাঁদের গুণগত ভাবে উত্কৃষ্ট সহায়তা দিতে".

নিহতদের নিকট লোকেদের মনের জোর যোগাতে বিভিন্ন ধর্মের প্রতিনিধিরা মন্তব্য করেছেন.

সমবেদনা আসছে বিভিন্ন দেশের নেতাদের কাছ থেকে. বিভিন্ন দেশে বহু রুশ রাজদূতাবাসে সমবেদনা জানানোর জন্য খাতা খোলা হয়েছে, আর কূটনৈতিক ভবন গুলির সামনে লোকে ফুল এনে রাখছে.