আজ যখন ভারতবর্ষ আন্তর্জাতিক কাজকর্মে নিজেদের ওজন অনেকটাই বাড়াতে পেরেছে ও এক বিশ্বব্যাপী ক্ষমতা হিসাবে পরিবর্তনের এক কদম পিছনে দাঁড়িয়ে রয়েছে, তখন এই দেশ শুধু ব্রিটিশ কমনওয়েলথ ভুক্ত দেশগুলির মধ্যে ৫১টির একটি না হয়ে গ্রেট ব্রিটেনের সঙ্গে সমানভাবে দুটির একটি নেতৃত্ব দান কারী দেশে পরিনত হতেই পারে. এটা – আন্তর্জাতিক রাজনীতির ক্ষেত্রে ভারতীয় একজন বিজ্ঞানী, বিশেষজ্ঞ সি. রাজা মোহনের প্রবন্ধের একটি প্রধান সূত্র. এই প্রবন্ধটি প্রকাশিত হয়েছে জুন মাসের শেষে আনুষ্ঠানিক ভাবে লন্ডনে প্রকাশিত একটি প্রবন্ধ সমগ্রের মধ্যে, যার নাম দেওয়া হয়েছে "ব্রিটেন ও ভারতকে আবার যুক্ত করানো".

    বিগত দশক গুলির প্রক্রিয়া গুলি (সেগুলির মধ্যে রাজা মোহন বিশেষ করে আলাদা করেছেন চিনের দ্রুত উত্থান ও ঐস্লামিক চরম পন্থার বৃদ্ধি) দাবী করে, লেখকের মতে, ভারত ও পশ্চিমের দেশ গুলির মধ্যে যোগাযোগ রেখে কাজ করার. আর এই প্রসঙ্গে কমনওয়েলথ দেশ গুলির মধ্যে গ্রেট ব্রিটেন ও ভারতবর্ষের সংযুক্ত নেতৃত্ব হয়ত চিনের প্রভাব ও ঐস্লামিক চরমপন্থার ক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে একটি বাধা দেওয়ার মতো বিষয় হতেই পারত.

    "যদি দিল্লী ও লন্ডন এক সঙ্গে কাজ না করে, তবে তারা শীঘ্রই দেখতে পাবে যে, চিন, যার ব্যবসায়িক ও স্ট্র্যাটেজিক উপস্থিতি বিশ্বের বিভিন্ন এলাকায়, দখল করা সংস্থা গুলিতে ক্রমবর্ধমান, তারা বাধ্য করবে কমনওয়েলথ কে ইতিহাসের বর্ণনায় এক পংক্তির শেষের ব্যাখ্যায় পরিনত করেছে", - লিখেছেন রাজা মোহন আর তারপরে লিখেছেন: "আমি মনে করি যে, যখন ভারত ও যদি তা উল্লেখ যোগ্য ক্ষমতায় পরিনত হয়, তবে তার পররাষ্ট্র নীতি আরও বেশী করেই ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের নীতিকেই সেই ক্ষেত্রে মনে করিয়ে দেবে, যা তার থেকেও দুর্বল দেশের সহায়তা ও আঞ্চলিক ভাবে সমস্ত কিছুর শৃঙ্খলা বজায় রাখতে গিয়ে করতে হবে. জেগে ওঠা ভারতবর্ষের এক সময়ে কমনওয়েলথের নেতৃত্বের দায়িত্বও নিতে হবে".

    আসলে এই ধারণা, যা প্রফেসর রাজা মোহন এই প্রবন্ধে লিখেছেন, তা নূতন নয়, এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজিক গবেষণা কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞ বরিস ভলখোনস্কি বলেছেন:

    "লেখক বিশেষ করে পরিচিত একজন সবচেয়ে বেশী বিশ্বাসী লোক বলে, যাঁরা মনে করেন ভারতের উচিত বেশী করে পশ্চিমের দেশ গুলির ঘনিষ্ঠ হওয়া, বিশেষত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে. তার উপরে তিনি অনেক দিন ধরেই মন্তব্য করে আসছেন যে, ভারতবর্ষই ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সত্যিকারের উত্তরাধিকারী দেশ, আর ভারতবর্ষের ক্রমবর্ধমান আর্থিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতা, বিশ্বের প্রায় সর্বত্র ছড়িয়ে থাকা ভারতীয় বংশোদ্ভূত লোকেদের সঙ্গে একসাথে ভারতবর্ষকেই বিশ্বের মাপে একমাত্র স্থিতিশীলতার নির্ভর যোগ্য দায়িত্ব দিতে পারে.    আর এই সূত্র খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ বিতর্কের উদ্রেকও করে না. কিন্তু একটা প্রশ্ন থেকেই যায়: আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের মূল্য বাড়ার সঙ্গে (যা বিতর্কের উর্দ্ধে), লেখক ক্রমান্বয়ে চাইছেন মনে করিয়ে দিতে যে, শেষ লক্ষ্য হল অন্যান্য ক্ষমতাশালী শক্তিকে ধরে রাখা, যারা বিশ্বের আঙ্গিনায় আজ সরবে আত্মপ্রকাশ করেছে – প্রথমতঃ চিন ও তারপরে চরমপন্থী ইসলাম".

    এখানে কথা হচ্ছে না যে, স্থিতিশীলতার গ্যারান্টি দেওয়া, আর বরং উল্টোটাই – সেই বিষয়ে, যে বিশ্বের বিরোধকে একটা নতুন স্তরে উন্নত করার, মনে করেছেন রুশ বিশেষজ্ঞ. আর ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের প্রতি উল্লেখ এই ক্ষেত্রে প্রফেসর রাজা মোহনের যুক্তিরই বিরুদ্ধে গিয়েছে: বিশ্বের অভিজ্ঞতা বহুবারই দেখিয়েছে যে কোন ধরনের সাম্রাজ্যই হয় আগে নয় তো পরে পতিত হয়. আর এই প্রসঙ্গে ভারতবর্ষের বোধহয় উচিত হবে না বিগত মেট্রোপলিসের অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি করার.