আমেরিকার কংগ্রেসে রিপাব্লিকান দলের বিরোধী পক্ষ এখন ঋণ বকেয়া রাখা নিয়ে বিচার করছে, অর্থাত্ সরকারের ঋণের উপরে দেয় সুদ না দিতে চাইছে, যাতে প্রশাসনকে বাধ্য করা যেতে পারে সরকারি খরচ কমানোর জন্য. বৃহত্তম বিদেশী ঋণ দাতারা, তাদের মধ্যে চিনও রয়েছে, সাবধান করে দিয়ে বলেছে - এটা বিশ্বের অর্থনীতিতে সঙ্কট জনক পরিবর্তন ঘটাতে পারে.

    রিপাব্লিকান দের মধ্যে কৌশলগত বকেয়া রাখার ধারণা নতুন নয়. তারা বিদেশী ঋণের পরিমান বাড়ানোর জন্য দাবী করছে যে, সরকারের খরচ কমাতে হবে. এমনিতেই তা বর্তমানে প্রায় সীমানার বাইরে চলে গিয়েছে – ১৪ লক্ষ ৫০ হাজার কোটি ডলার. কিন্তু, ডেমোক্র্যাট দলের লোকেরা যাঁদের দলে রয়েছেন রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামা, তাঁরা ২রা আগষ্ট থেকে এই ঋণের উর্দ্ধ সীমা আরও বাড়িয়ে দিতে বলেছেন, তা না হলে দেশ বর্তমানের বকেয়া শোধ করতে পারবে না. যদি তা হয়, তবে এটা হবে আমেরিকার সরকারের ধার শোধে বাকী পড়ে যাওয়া. বোঝাই যায় যে, তা হোয়াইট হাউসের প্রয়োজন নেই, বিদেশী ঋণ দাতাদের জন্যও নয়. রিপাব্লিকান দল এই ধরনের একটা কাণ্ডের জন্য তৈরী. প্রধান হল – নিজেদের লক্ষ্য পূরণ ও প্রশাসনকে শক্ত করে "কষে কোমর বাঁধতে" চাপ দেওয়া. এই লক্ষ্য গুলি – মনে হয়েছে খুবই ভাল – ওয়াশিংটনকে দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক সমস্যা নিয়ে সমাধান বের করতে চাপ দেওয়া, সরকারি ঋণের বরফের ডেলা আর বাড়তে না দেওয়া. ওবামা সহমতে আসার কারণে খুবই বড় মাপের সরকারি খরচ কমাতে বোধহয় তৈরী আছেন, কিন্তু তা সামাজিক দেয় থেকে কমিয়ে. রিপাব্লিকান দলের লোকেরা সরকারি প্রশাসনিক খরচ বিশাল পরিমানে কমানোর জন্য চাপ দিচ্ছে.

    আপাততঃ পারস্পরিক ভাবে সহমতে আসা সম্ভব হয় নি, কিন্তু বকেয়া রাখা হবে, তা খুবই কম সম্ভাব্য, এই কথা বলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা ইনস্টিটিউটের ভাইস ডিরেক্টর ভিক্তর সুপিয়ান বলেছেন:

    "অবশ্যই, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এই বিষয় নিয়ে নানা ধরনের রাজনৈতিক খেলা চলছে. আর চলছে দরাদরি. রিপাব্লিকান দলের লোকেরা কংগ্রেসে সংখ্যাধিক্য হওয়ায় নিজেদের ধারণাকে এগিয়ে দেওয়ার জন্য চেষ্টা করছে আরও বেশী করে সুবিধা জনক শর্তে পৌঁছতে. কিন্তু কখনও না কখনও এটার শেষ হবে. কারণ সকলেই বুঝতে পারছে যে, খুব বেশী কিছু এখন এই চালের পিছনে রাখা হয়ে গিয়েছে: বহু দেশেরই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উপরে নির্ভরতা এত বেশী যে, এমনকি আমেরিকা কৌশলগত ভাবে বকেয়া রাখলেও তা যেমন আমেরিকা, তেমনই বাকি বিশ্বের অর্থনীতির উপরে খুবই গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব না ফেলে সম্ভব হবে না".

     তা স্বত্ত্বেও চিনের বিনিয়োগকারীরা, যারা আমেরিকার রাষ্ট্রীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের ঋণপত্রই শুধু ১০০ কোটি ডলারের বেশী নিজেদের কাছে রেখেছে, তারা এই বকেয়া রাখার ব্যাপারটা যারা সমর্থন করছেন, তাদের চেষ্টা করছে এই নিয়ে কথাবার্তাই বন্ধ করতে রাজী করানোর. এখন এই দানের উপরে খুবই বেশী নির্ভর করে রাখা হয়ে গিয়েছে ও চিন প্রজাতন্ত্রের জন্য এমনকি তত্ত্ব গত ভাবেও ধার বাকী পড়া খুবই ভয়ঙ্কর হতে পারে.

    দেশের ঋণের বাকী পড়ার বিষয়ে হিসাবের বিপর্যয় হওয়ার মতো ফল সম্বন্ধে হোয়াইট হাউস থেকেও বলা হয়েছে, এই কথা গুলিকে ওই সহমতে আসতে না চাওয়া রিপাব্লিকান দলের লোকেদের উদ্দেশ্য করেই. মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রধান টিমোথি হাইটনার মনে করেন যে, এর ফলে এমন পরিস্থিতি তৈরী হতে পারে, যার তুলনায় বিগত কয়েক বছর আগের সঙ্কট কে মনে হতে পারে "ফুলের ঘা". আর এর মধ্যে আবার রেটিং সংস্থা "স্ট্যাণ্ডার্ড অ্যান্ড পুয়োরস্" বসন্ত কালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ঋণের ভবিষ্যত সম্পর্কে মূল্যায়ণ "স্থিতিশীল" থেকে কমিয়ে "নেতিবাচক" করেছিল. প্রসঙ্গতঃ বিগত সময়ের অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে রিপাব্লিকান ও ডেমোক্র্যাট দলের লোকেরা এর থেকে বের হওয়ার পথ বার করবেই, তাই ভিক্তর সুপিয়ান বলেছেন:

    "এটা একটা ব্যবস্থাগত পদ্ধতি মাত্র, যখন সরকারি ঋণের সর্ব্বোচ্চ পরিমান বাড়ানো হয়ে থাকে. কিন্তু এখানে মনে রাখা দরকার যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ঋণ  - এটা অন্যান্য দেশের থেকে সম্পূর্ণ অন্য রকমের ব্যাপার. কারণ আমেরিকার ঋণ তৈরী হয় অন্যান্য দেশের থেকে এই দেশের ঋণ পত্র কেনা দিয়ে, যখন বিশ্বের অন্য দেশেরা সাধারণতঃ ঋণ করে থাকে অন্য দেশ বা আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছ থেকেই. যদিও এর জন্য তার সুদ দেওয়া বা ফেরত দেওয়া নির্ভর করে না. কিন্তু এখানে মুখ্য হল – বিশ্বের অর্থনীতির একে অপরের প্রতি নির্ভরশীলতা, যা কোন ভাবেই আঘাতের সামনে রাখা যেতে পারে না".

0    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতির ভিতরের তর্ক বিতর্কের ইতিবাচক একটা ফলাফলে সমস্ত বৃহত্ ঋণ দাতা দেশ গুলিই উত্সাহী ও তার মধ্যে রাশিয়াও রয়েছে. (আমেরিকার অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঋণপত্রে রাশিয়ার বিনিয়োগ ১২ হাজার পাঁচশ কোটি ডলার). সমস্ত ধরনের আতঙ্ক স্বত্ত্বেও মনে আশার সঞ্চার করে যে, বারাক ওবামা এখন প্রায়ই স্বীকার করতে শুরু করেছেন: আমেরিকার স্বপ্ন সফল করা সম্ভব, যদি শুধু দেশ,