"বুলগারিয়া" স্টীমার ডুবি হওয়ায় বহু যাত্রীর মৃত্যুর কারণে ১২ই জুলাই রাশিয়ার তাতারস্থান রাজ্যের মতই সারা দেশে শোক দিবস ঘোষিত হয়েছে. রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ নিহতদের পরিবার বর্গকে সমবেদনা জানিয়ে এই ঘোষমা করেছেন. শেষ অবধি পাওয়া খবর অনুযায়ী এই বিপর্যয়ে এখন অবধি ১২ জনের মৃতদেহ পাওয়া গিয়েছে ও ৮০ জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে. বহু লোকের খবর এখনও পাওয়া যায় নি. ডুবুরিদের প্রাথমিক অনুসন্ধানের ফলে জানা গিয়েছে যে: মৃতের সংখ্যা শতাধিক হতে পারে. এই স্টীমারে যাত্রী ও নাবিক মিলিয়ে সর্বমোট ২০৮ জন ছিল. ঝোড়ো আবহাওয়া স্বত্ত্বেও সারা রাত ধরেই উদ্ধার ও ত্রাণের কাজ চলেছে. রাষ্ট্রপতিকে এই খবর দিয়েছেন বিপর্য নিরসন মন্ত্রণালয়ের প্রধান সের্গেউ শঈগু.

কুইবীশেভ জলাধারের বিপদ সঙ্কেত তাতারস্থানের আঞ্চলিক বিপর্যয় নিরসন দপ্তরে এই স্টীমার ডুবি হওয়া এলাকায় চলা আরও একটি স্টীমার "আরাবেল্লা" থেকে পৌঁছেছিল ১০ই জুলাই দিনের বেলায়. এর পরেই ত্রাণ পরিষেবা দপ্তরের লোকেরা ও "আরাবেল্লা" স্টীমারের নাবিকেরা সমস্ত কিছুই করতে চেষ্টা করেছিলেন, ডুবে যাওয়া "বুলগারিয়া" স্টীমারের যাত্রীদের প্রাণ বাঁচানোর জন্য. এই কাজের জন্য বহু রকমের লঞ্চ ও স্টীমার এমনকি হেলিকপ্টার ও কাজে লাগানো হয়েছিল, ঘটনা স্থলে পৌঁছে গিয়েছিলেন শতাধিক ত্রাণ কর্মী.

স্টীমার ডুবে যাওয়ার কারণ ছিল খুবই বাজে আবহাওয়া, বজ্র বিদ্যুত্সহ ঝড় ও প্রবল বর্ষণ, আর তার সঙ্গে এই স্টীমারে লোক সংখ্যাও ছিল মাত্রাতিরিক্ত. খবর অনুযায়ী শুধু ১৮ বছর বয়সের কম ছেলে মেয়েই ছিল প্রায় পঞ্চাশ জন. পার থেকে তিন কিলোমিটার দূরে ২০ মিটার গভীরে স্টীমারটি ডুবে গিয়েছে. প্রত্যক্ষদর্শীরা সমর্থন করে বলেছেন যে, "বুলগারিয়া" মোড় ফেরানোর সময়ে ডান দিকে কাত হয়ে যায় ও কয়েক মিনিটের মধ্যেই ডুবে যায়, আর এই সময়ে যাঁরা স্টীমারের ডেকে ছিলেন, তাঁরাই শুধু হাতের কাছে যা পেয়েছেন, তাই সম্বল করে ভেসে থাকার চেষ্টা করতে পেরেছেন.

বর্তমানে ভোলগা নদীতে স্টীমার ডুবি হওয়ার জায়গায় খোঁজ ও উদ্ধারের কাজ চলছে বলে খবর জানিয়ে "রেডিও রাশিয়াকে" দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে রুশ রাষ্ট্রীয় বিপর্যয় নিরসন মন্ত্রণালয়ের তথ্য দপ্তরের প্রধান ইরিনা আন্দ্রিয়ানভা বলেছেন:

 "সারা রাত ধরেই এই উদ্ধারের কাজের জন্য দল বাড়ানোর কাজ হয়েছে. বর্তমানে এই ট্র্যাজেডির ফল অপসারণের জন্য ৩২৯ জন লোককে আনা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে ৯১ জন ডুবুরি আর ৭৪ টি যন্ত্র. এঁরা আমাদের নানা বিভাগের বিশেষজ্ঞ, যেমন, মস্কো থেকে – "সেন্ট্রোস্পাস" বাহিনী ও "লিডার" কেন্দ্রের লোকজন, তাতার, বাশকির ও ক্রাসনাদার অঞ্চলের উদ্ধার কর্মীরা রয়েছেন. প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে জলের নীচে কাজ করার উপযুক্ত টেলিভিশন ব্যবস্থা "গ্নোম" রয়েছে. এখন অবধি ১১টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে. গতকালই একজনের মৃতদেহ কাজান শহরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল. এই ভাবে এখন অবধি ১২টি মৃতদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে. ৮০ জনকে উদ্ধার করা গিয়েছে তাঁদের মধ্যে ৮ জন হাসপাতালে আছেন. ত্রাণ ও উদ্ধারের কাজ চলবে".

এই ট্র্যাজেডির সরকারি ভাবে কারণ এখনও জানানো হয় নি. ডুবে যাওয়া সম্বন্ধে কয়েকটি ধারণা করা হয়েছে, তার মধ্যে স্টীমার টির বাজে যান্ত্রিক হাল, বেশী লোক নেওয়া ও যাত্রা পথে জলের তলায় উঁচু জায়গায় ধাক্কা খাওয়ার কথা বলা হয়েছে. যাই হোক, সমর্থন যোগ্য ভাবে শুধু জানা আছে যে, দুটি ডেক বিশিষ্ট যাত্রী বাহী ডিজেল ও বিদ্যুত চালিত স্টীমার "বুলগারিয়া" ১৯৫৫ সালে চেখো স্লোভাকিয়াতে তৈরী হয়েছিল ও সেটাকে নতুন কোন মতেই বলা যাতে পারে না. এই প্রকল্পের স্টীমারে এক সঙ্গে ২৩৩ জন যাত্রী থাকার কথা, কিন্তু নানা রকমের আধুনিকীকরণের পরে সবচেয়ে বেশী ১৪০ জন যাত্রী নেওয়ার সম্ভাবনা ছিল.

আপাততঃ কারণ সম্বন্ধে বলা তাড়াতাড়ি হয়ে যাবে, তার জন্য বিশেষ পরিষদ তৈরী করা হয়েছে. প্রধান হল – সর্ব শক্তি দিয়ে যাঁরা বেঁচে আছেন, তাঁদের উদ্ধার করা, এই কথা উল্লেখ করে ইরিনা আন্দ্রিয়ানভা বলেছেন:

 "জলের তলায় দেখতে পাওয়া যাচ্ছে, খুবই অল্প, তাই উদ্ধারের কাজে অসুবিধা হচ্ছে. যেখানে স্টীমার ডুবে আছে, সেখানে মাত্র ৫০ থেকে ৭০ সেন্টিমিটার দূর পর্যন্ত দেখতে পাওয়া যাচ্ছে, তার ওপরে ২ মিটার উঁচু ঢেউ ডুবুরি বিশেষজ্ঞদের কাজের অসুবিধা করছে. তা স্বত্ত্বেও ডুবে যাওয়া লোকেদের খোঁজার জন্য সব কিছুই করা হচ্ছে. এর মধ্যে বোট থাকার ডেক পরীক্ষা শেষ হয়েছে, এখন কাজ হচ্ছে প্রধান, মাঝের ও নীচের ডেকে: সমস্ত স্টীমারটি বিভিন্ন এলাকায় ভাগ করে নিয়ে কাজ হচ্ছে".

কাম নদীর স্টীমার চলাচল কোম্পানী, যারা এই বুলগারিয়া স্টীমারের মালিক, তারা বলেছে যে, স্টীমার প্রযুক্তির দিক থেকে ও যাত্রী বহনের জন্য সম্পূর্ণ উপযুক্ত ছিল. এই তথ্য কতটা সত্য, তা অনুসন্ধান কারীরা দেখবেন, এই কাজের জন্য রেল পথ, জল পথ ও আকাশে পরিবহন ব্যবস্থা ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা  সংক্রান্ত নিয়ম ভঙ্গের জন্য ফৌজদারী মামলা দায়ের করা হয়েছে. কাজান শহরে এর মধ্যেই রাশিয়ার তদন্ত পর্ষদের প্রধান আলেকজান্ডার বাসত্রীকিন পৌঁছে গিয়েছেন. মনে করিয়ে দেবো যে, গত কালই এই ট্র্যাজেডির অব্যবহিত পরেই রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ তাতারস্থানের নেতৃত্বকে ক্ষতিগ্রস্থ দের সাহায্য করতে নির্দেশ দিয়েছেন ও তদন্ত পর্ষদের প্রধানকে – এই স্টীমার ডুবি নিয়ে সমস্ত দিক বিচার করে সম্পূর্ণ কারণ সম্বন্ধে তদন্ত করতে বলেছেন.