পৃথিবীর রাজনৈতিক মানচিত্রে নতুন এক রাষ্ট্রের আবির্ভাব হল আজ. আজ দক্ষিণ সুদান তার স্বাধীনতা প্রাপ্তির উত্সব পালন করছে. জাতিসংঘের সাধারণ সম্পাদক বান কি মুন এই উত্সবে যোগ দেবেন. রাশিয়ার তরফ থেকে উত্সবে যোগদান করবেন আফ্রিকার রাষ্ট্রগুলির সাথে সহযোগিতা বিষয়ক রাষ্ট্রপতির বিশেষ প্রতিনিধি মিখাইল মার্গেলভ. ার রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রক ঘোষণা করেছে, যে জাতিসংঘের পরিচালনায় শান্তি অভিযানে রাশিয়া যে ৮টি ‘মি-৮’, সেগুলি নতুন স্বাধীন রাষ্ট্রকে দান করা হবে.

     সুদানে গৃহযুদ্ধ শুরু হয় ১৯৮৩ সালে. জাতিগত ও ধর্মীয় কারনে বিভিন্ন প্রদেশের মধ্যে বিবাদের ফলেই গৃহযুদ্ধ শুরু হয়. সুদানের উত্তরাঞ্চলে মুলতঃ মুসলমানদের বসতি, আর দক্ষিণাঞ্চলে প্রধানতঃ বসবাস করে কালো চামড়ার খ্রীশ্চানরা. কেবলমাত্র ২০০৫ সালে গৃহযুদ্ধের অবসান ঘটে. চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে সারা দেশে জাতীয় স্তরে গভোটের আয়োজন করা হয়, যেখানে ৯৮ শতাংশ ভোটদাতা স্বাধীন দক্ষিণ সুদান রাষ্ট্র পত্তণের স্বপক্ষে মতপ্রকাশ করেন. নতুন রাষ্ট্রের রাজধানী জুবা শহরে এবং প্রথম রাষ্ট্রপতির পদে মনোনীত হয়েছেন প্রাক্তন গণসেনাবাহিনীর প্রধান সালভা কির. বিশেষজ্ঞদের আশংকা, যে গৃহযুদ্ধের বদলে দুই স্বাধীন রাষ্ট্রের মধ্যে বচসা শুরু হওয়ার সম্ভাবণা আছে. সীমান্তবর্তী এলাকায় বিতর্কমুলক ভূখন্ড আছে - এককালে খনিজ তেলে সমৃদ্ধ আববেই প্রদেশ.

‘রেডিও রাশিয়া’কে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে বিশেষজ্ঞ লেওনিদ ফিতুনি বলছেনঃ ‘আববেই প্রদেশে মজুত খনিজ তেল প্রায় পুরোটাই নিস্কাষণ করা হয়ে গেলেও ঐ এলাকার গুরুত্ব কমে যায়নি. বিশেষতঃ সম্ভাব্য মজুত তেলের ভান্ডার মুলতঃ দক্ষিণ সুদানে অবস্থিত’.

         বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদেশী বিনিযোগকারীরা নতুন দক্ষিণ সুদান রাষ্ট্রের মজুত খনিজ তেলের ওপর বিশেষভাবে আগ্রহ দেখাবে.দেশ বিভাগের পরে অধিকাংশ মজুত খনিজ তেলের ভূখন্ড দক্ষিণ সুদানের ভাগে পড়েছে. বহু দেশ ইতিমধ্যেই ঐ দেশে খনিজ তেল সনাক্ত করা এবং তা নিস্কাষণের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করছে. শুধুমাত্র চীনই গত ১৫ বছরে সুদানে বিশহাজার কোটি ডলারের বেশি অর্থ বিনিয়োগ করেছে. ভারত, ফ্রান্স, মার্কিন-যুক্তরাষ্ট্রও সুদানে মজুত খনিজ তেলের ব্যাপারে আগ্রহ দেখাচ্ছে. দক্ষিণ সুদান অদূর ভবিষ্যতে আফ্রিকার অন্যতম প্রধান প্রভাবশালী রাষ্ট্রে পরিনত হতে পারে. প্রায় সৌদি আরবের মতো প্রভাবশালী.