দক্ষিণ ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্যে আলাদা করে তেলেঙ্গানা রাজ্য সৃষ্টি করার দাবীতে উত্তাল আন্দোলন চলছে. রাজ্য জুড়ে হরতাল চলছে, অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্যের ৮০ জনেরও বেশী রাজ্য সভার সদস্য এবং ভারতীয় লোকসভার ১০ জনেরও বেশী এই রাজ্যের সদস্য প্রতিনিধি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন, রাজ্যের সবচেয়ে বড় বিশ্ববিদ্যালয় ওসমানিয়া তে চলছে ছাত্র ও পুলিশের মধ্যে লড়াই, কয়েক দশক এমনকি হতে পারে কয়েক শো লোক গ্রেপ্তার হয়েছেন.

    তেলেঙ্গানা রাজ্যকে আলাদা করার দাবী কোন নতুন দাবী নয়, তা চলছে আজ পঞ্চাশ বছর ধরে. আর অনেকবারই পরিস্থিতি এতই তীক্ষ্ণ হয়েছে যে, এর পক্ষের ও বিপক্ষের লোকেদের মধ্যে লড়াইতে বহু শান্তিপ্রিয় মানুষেরই প্রাণ গিয়েছে.

    এই আলাদা রাজ্য সৃষ্টি করার দাবী আমাদের আবার সেই পুরনো প্রশ্নের সামনেই উপস্থিত করেছে – কি করে সার্বভৌমত্বকে অক্ষুণ্ণ রেখে স্বেচ্ছা নির্ণয়ের অধিকারের প্রতি সম্পর্ক রাখা যায়. এই প্রশ্নের কোনও একক উত্তর হতে পারে না, প্রতি ক্ষেত্রেই আলাদা করে সমাধান খুঁজতে হয়েছে. কিন্তু প্রশ্নটি রয়ে গিয়েছে একই রকমের তীক্ষ্ণ ও জটিল – আর তা শুধু ভারতের জন্যই নয়, অন্যান্য বহু দেশের জন্যেও, এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজিক গবেষণা কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞ বরিস ভলখোনস্কি বলেছেন:

    "আজ এমনকি পশ্চিমের সবচেয়ে মঙ্গলময় দেশ গুলিতে যেমন কানাডা, বেলজিয়াম, ফ্রান্স, স্পেন ইত্যাদিতেও বিচ্ছিন্নতাবাদের ভাইরাস থেকে রেহাই নেই. এশিয়ার সম্বন্ধে যা বলা যেতে পারে, তা হল এখানে বোধহয় একটি দেশও নেই, যারা এই ভাইরাসের কবলে পড়ে নি. আর এর প্রধান বিপদ হল মোটেও এই নির্দিষ্ট বাস্তব সমস্যাতে নয়, বরং এটা ভারতের অন্যান্য রাজ্য ও প্রতিবেশী দেশ গুলিতেও বিচ্ছিন্নতাবাদের প্রসারের একটি ধাক্কা হতে পারে. এক সময়ে কোসভা একাই স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিল. তখন রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বলেছিলেন যে, কোসভার স্বাধীনতা স্বীকার করলে প্যাণ্ডোরার বাক্স খুলে ধরা হবে, সারা বিশ্বেই এর প্রতিধ্বনি হবে. তাই ঘটেছে. প্রত্যেক বারই যখন কোন আলাদা প্রজাতি বা ধর্মীয় সম্প্রদায় একটি দেশের ভিতরে স্বাধীনতা পাচ্ছে, তখনই অন্যান্য দেশেও একই রকমের দাবী নিয়ে অন্যরা এগিয়ে আসছে. খুবই বেশী করে এটা আন্দোলনের পদ্ধতিকে আরও চরমপন্থী করে তুলছে ও তার ফলশ্রুতিতে যেমন কেন্দ্রীয় সরকার, তেমনই নিরীহ জনসাধারন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অথচ বিচ্ছিন্নতাবাদীরা বোঝাতে চায় যে, তারা জনতার দাবীতেই নাকি পথে নেমেছে".

    অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্য বহু মুসলমান রয়েছেন ও তারা বেশীর ভাগই রাজ্যের উত্তর দিকের অনুন্নত অঞ্চল গুলিতে আছেন, তাদের অভিযোগ বর্ধিষ্ণু দক্ষিণের অঞ্চলের প্রতি, তারা নাকি এই দক্ষিণের জন্যই উন্নতি করতে পারছেন না ও তাদের স্বার্থ নাকি দেখা হচ্ছে না.

    আসলে রাজধানী হায়দ্রাবাদ এই উত্তরের এলাকার মধ্যে না থাকলে হয়ত বহু আগেই আলাদা রাজ্য তৈরী হয়ে যেত, কিন্তু হায়দ্রাবাদ ছেড়ে দিতে অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্য হিসাবে চায় না.

যদিও গত বছর দেড়েক আগে কেন্দ্রীয় সরকার ঘোষণা করেছিল যে, আলাদা রাজ্য সৃষ্টি হবে, তাও পরে বলা হয়েছিল যে, এর জন্য আরও আলোচনার প্রয়োজন. আর এখন যখন আবার অন্ধ্রপ্রদেশে আগুণ জ্বলছে, কেন্দ্রীয় সরকার অদ্ভূত ভাবে মৌনব্রত নিয়ে বসে আছে, যা দ্রুত ও শান্তিপূর্ণ মীমাংসার জন্য মোটেও উপকারী হচ্ছে না.

তেলেঙ্গানার সমস্যা নিয়ে সমস্ত পক্ষেরই উচিত্ হবে খুবই সাবধানে পা ফেলা. কারণ হিংসা, যা এই রাজ্য সৃষ্টির জন্য এখন প্রতি পক্ষই ব্যবহার করবে, তা পরে রাজ্য সৃষ্টি হয়ে গেলেও সুপ্রতিবেশী হতে দেবে না ও গঠন মূলক কাজ ও প্রক্রিয়া শুরু হতে দেবে না.