কয়েকদিন আগে মার্কিন রাষ্ট্র সচিব শ্রীমতী হিলারি ক্লিন্টনের ঘোষিত মিশরের "মুসলমান ভাইদের" দলের সাথে আমেরিকার প্রশাসনের সম্পর্ক পুনরারম্ভ করার ইচ্ছা, খুব কম আগ্রহের সৃষ্টি করে নি, আর তা বেশী হয়েছে আরব দুনিয়াতে.

    আমেরিকার কূটনীতিবিদেরা হোসনি মুবারকের সময় থেকেই প্রচেষ্টা করেছিলেন "মুসলমান ভাইদের" দলের সাথে সম্পর্ক তৈরী করার. এই ধরনের সম্পর্ক তখন সীমাবদ্ধ চরিত্রেরই ছিল. আমেরিকার কূটনীতিবিদেরা তখন শুধু সেই সমস্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিষিদ্ধ সংগঠন গুলির প্রতিনিধিদের সাথেই দেখা করতেন, যারা মিশরের পার্লামেন্টে নির্দলীয় প্রার্থী হিসাবেই নির্বাচিত হতেন. "মুসলমান ভাইদের" সাথে আমেরিকার যোগ তখন খুব একটা ঘোষণা করা হত না, আবার তা ঢেকে রাখার চেষ্টাও করা হত না.

    এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের প্রতিনিধিরা আরও সুদূর প্রসারিত যোগাযোগের ব্যাপারে "সবুজ সঙ্কেত" পেয়েছে, তা যেমন "মুসলমান ভাইদের" দলের সাথে, তেমনই তাদের উদ্যোগে গঠিত "স্বাধীনতা ও ন্যায়ের" দলের সঙ্গেও.

    সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়ে "মুসলমান ভাইদের" দলের সরকারি প্রতিনিধি মাহমুদ আল-গোজলান অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে ঘোষণা করেছেন যে, "মুসলমান ভাইদের" দল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করতে তৈরী, "যাতে দুই পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক বোঝার অভাব ও দূরত্ব কম হয়". আর "মুসলমান ভাইদের" দলের পরিচিত নীতি নির্ণায়ক এবং কায়রো শহরের "স্বাধীনতা ও ন্যায়" দলের নেতা মুহাম্মদ আল- বেলতাগি কয়েকদিন আগে এক প্রবন্ধ প্রকাশ করেছেন, খুবই চরিত্র চিত্রণের উপযোগী নাম দিয়ে – "হিলারি ক্লিন্টনকে পাঠানো বার্তা". এই প্রবন্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে মিশরের প্রতি সম্পর্ক নতুন করে দেখতে আহ্বান করা হয়েছে. তিনি মনে করেন যে, দুই দেশের সম্পর্ক তৈরী হওয়া উচিত পারস্পরিক মর্যাদা বজায় রেখে, কোন রকমের নির্দেশ না দিয়ে, মিশর ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যেমন বিশেষ, তেমনই যৌথ স্বার্থ বজায় রেখে.

    মিশরের সমাজে আমেরিকার পক্ষ থেকে "মুসলমান ভাইদের" সাথে যোগাযোগ বজায় রাখার বিষয়ে তৈরী থাকা খুবই প্রসারিত প্রতিধ্বনি তুলেছে. নানা ধরনের বিভিন্ন গূঢ় অর্থ ব্যাখ্যা করতে চাওয়া হয়েছে, যে কেন এই রকম হল. এমনকি এমন এক ধারণা ব্যাখ্যা করা হয়েছে যে, আমেরিকা ও "মুসলমান ভাইদের" মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে এই বছরের ফেব্রুয়ারী মাস থেকেই, হোসনি মুবারকের প্রশাসনের পতনের কয়েকদিন আগেই.

    প্রসঙ্গতঃ এই আলোচনাতে সম্ভাব্য মধ্যস্থতা কারী দেশ হিসাবে তুরস্কের নাম করা হয়েছে! "রেডিও রাশিয়াকে" দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে মিশরের "আল- আখবার" প্রকাশনার রাজনৈতিক বিশ্লেষক আলিয়া আল- হালিয়াভানি বলেছেন:

    "আজ মিশরে সমস্ত রকমের রাজনৈতিক দল ও প্রবাহের উপরেই খুবই শক্তিশালী চাপ অনুভব করা যাচ্ছে. রাজনৈতিক মঞ্চে শুনতে পাওয়া যাচ্ছে পারস্পরিক হুমকি, বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ. এটা "মুসলমান ভাইদের" দলকেও স্পর্শ করেছে. তারা অন্যান্য রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে করা অভিযোগের উত্তর দিতে বাধ্য হচ্ছে যে, তাদের আমেরিকার লোকেদের সাথে জোটের সম্পর্ক তৈরীর কারণ হল দেশের ভবিষ্যত পার্লামেন্টের উপরে প্রভাব বিস্তার করা. আর যদিও "মুসলমান ভাইদের" দল ঘোষণা করছে যে, তারা দেশের রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনে অংশ নেবে না, তাও কোন সন্দেহ নেই যে, যখন ভোটের সময় আসবে, "মুসলমান ভাইদের" দল তাদের তিনজন প্রার্থীর যে কোন একজন প্রার্থীর জন্যই ভোট দেবে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে "মুসলমান ভাইদের" দলের যোগাযোগের বিষয়ে তুরস্কের মধ্যস্থতা করা নিয়ে যে সংবাদ পাওয়া গিয়েছে, তা আমার মতে, দুই পক্ষের মধ্যে দৃষ্টিকোণের নৈকট্য তৈরীর জন্য তুরস্ক সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছে".

    আমেরিকার সঙ্গে নৈকট্যের কারণে "মুসলমান ভাইদের" দল লাভবান হতে পারে. এর জন্য পুরস্কার হতে পারে মিশরের ক্ষমতার শীর্ষে তাদের সরাসরি রাস্তা খুলে যেতে পারে.

    আরব বিশ্লেষকের মত সাধারন মিশরের লোকেরাও সমর্থন করেন. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমানের প্রশাসন মিশরের "মুসলমান ভাইদের" সাথে সম্পর্ক স্থাপন ও প্রসার করা নিয়ে যে ঘোষণা করেছে, তা শুধু তত্কালীণ ধারণা নিয়েই করা হচ্ছে না, যাতে মিশরের কাজকর্মে নিজেদের ভূমিকা বজায় রাখা যায়, বরং তারা আরও চেষ্টা করছে নিকট প্রাচ্যের মধ্যে আর তার বাইরের সমস্ত ঐস্লামিক দল ও আন্দোলনকে মৈত্রীর সঙ্কেত পাঠানোর প্রচেষ্টাই করছে. কিন্তু নিকট প্রাচ্যে খুব কম লোকই আমেরিকার লোকেদের সদিচ্ছা সম্বন্ধে বিশ্বাস করেন. আমেরিকা বিরোধী মনোভাব এখানে জনতার মধ্যে খুবই প্রবল. আমেরিকার নিকট প্রাচ্য সংক্রান্ত রাজনীতি বিগত বছর ও দশক গুলিতে খুবই নেতিবাচক ফল দিয়েছে.