রাশিয়া, কিরগিজিয়া ও তাজিকিস্থানের বিশেষ বাহিনীগুলি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির অন্তর্ভুক্ত দেশ গুলিতে মাদক পাচার ও সন্ত্রাসের সঙ্গে একসাথে লড়াই করবে. এই বিষয়ে আর্মেনিয়ার রাজধানী ইয়েরেভান শহরে মাদক কারবারের বিরুদ্ধে কাজ করার জন্য আয়োজিত এক সভায় রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় মাদক নিয়ন্ত্রণ সংস্থার প্রধান ভিক্তর ইভানভ এই ঘোষণা করেছেন.

দেশ গুলি শুধু নিজেদের শক্তিকেই এক করবে না, বরং সম্মিলিত ভাবে এক বিশেষজ্ঞ পরিষদ তৈরী করবে. প্রতিটি দেশের জন্য আফগানিস্তান থেকে আসা মাদকের বিপদ নিয়ে এই পরিষদ পর্যালোচনা করবে. এই বিপদের বিরুদ্ধে সম্মিলিত ভাবে লড়াই করার ও তা শুধু যৌথ নিরাপত্তা চুক্তির অন্তর্ভুক্ত দেশ গুলির মধ্যেই নয় – এমন উদাহরণও আছে. এই বছরের জুন মাসে প্রায় তিন টনেরও বেশী মাদক ধরা পড়েছে ও তিন হাজারেরও বেশী মাদক সংক্রান্ত অপরাধ পশ্চিমের চ্যানেল নামের বিশেষ অপারেশনে ধরতে পারা গিয়েছে. এই অপারেশনে যোগ দিয়েছিল রাশিয়া, ইউক্রেন, বেলোরাশিয়া, কাজাখস্থান, লাতভিয়া, লিথুয়ানিয়া ও পোল্যান্ডের বাহিনী. এই সমস্যা, যা ভাবা হয়ে থাকে, তার থেকেও অনেক বেশী গভীরে, এই কথা আর্মেনিয়ার রাজধানীর সভায় উল্লেখ করেছেন ভিক্তর ইভানভ, তিনি বলেছেন:

"আফগানিস্তানের মাদক উত্পাদনের বিগত দশক গুলিতে এই দেশ থেকে বিশ্বে অপরাধের প্রসারের জন্য দশ লক্ষ কোটি ডলারেরও বেশী বিনিয়োগ করেছে".

মাদক ব্যবসা আলাদা করে প্রতিটি দেশের জাতীয় নিরাপত্তার ভিত্তিতেই বিস্ফোরণ ঘটিয়ে থাকে ও সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করে. অপরাধী দল গুলি খুবই দ্রুত অভিযোজিত হয়ে যায়, আরও বেশী করে তারা হয়ে ওঠে বিপজ্জনক, প্রায়ই চরমপন্থী সংগঠন গুলিকে সাহায্য করে থাকে. তাই প্রয়োজন হয়েছে সহযোগিতার মাধ্যমে বহু স্তরের প্রতিরোধ ব্যবস্থা তৈরী করার, মাদকের চাহিদা কমানো ও তার সরবরাহ কমানোর ব্যবস্থা করা. আর এই ভাবেই মাদক অপরাধের ভিত্তিকে ধ্বংস করা. এই বিষয়ে নিজের পক্ষ থেকে বিশ্বাসের কথা বলেছেন যৌথ নিরাপত্তা চুক্তি সংস্থার সাধারন সম্পাদক নিকোলাই বরদ্যুঝা. শুধু মাদক ব্যবসায়ীদের রাস্তা আটকে দিলেই চলবে না, যাদের এমনিতেই খুব কঠিন হয় ধরতে পারা, মাদক বিরোধী ফলপ্রসূ প্রচার করারও প্রয়োজন, এই কথা রেডিও রাশিয়াকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে রাশিয়ার সামাজিক সভার সদস্য এবং সুস্থ দেশ তহবিলের সভাপতি ভিতালি বগদানচিকভ বলেছেন:

"এখন এমনকি মাদক ব্যবহারকারীকে অকুস্থলে ধরা কঠিন হয়ে পড়ছে, কারণ অর্থ লেনদেনের কোন স্পষ্ট প্রমাণ নেই. সবই করা হচ্ছে এস এম এস দিয়ে. মাদক ব্যবহারকারী ব্যবসায়ীর টেলিফোন অ্যাকাউন্টে অর্থ জমা দিচ্ছে, আর এটা ফৌজদারী অপরাধ বলে প্রমাণ যোগ্যই নয়. মাদকের চাহিদা কমলে তা এই জিনিসের ব্যবসায়ীর উপরেই আঘাত হবে. যদি জনসাধারনকে যথেষ্ট ভাবে মাদক কি ধরনের কষ্ট দিতে পারে, তা জানানো সম্ভব হয়, যদি ফলপ্রসূ ভাবে এর সম্বন্ধে আগে থেকেই প্রতিষেধক ব্যবস্থা নেওয়া যায়, তবে, এমনকি যদি মাদক প্রতিটি কোনেও বিক্রী হয়, তাও লোকে কখনোই তা কিনবে না".

আর্মেনিয়ার রাজধানীতে আয়োজিত সভায় সীমান্ত পার হয়ে আসা মাদক ব্যবসায়ের সঙ্গে লড়াই করা নিয়ে পরবর্তী সময়ে আরও শক্তি প্রয়োগের বিষয়ে সহমতে আসা সম্ভব হয়েছে. অংশতঃ, এই বিষয় নিয়ে ইয়েরেভান শহরে অক্টোবর মাসে যৌথ নিরাপত্তা চুক্তি সংস্থার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে আলোচনা হবে.