বিশ্বে আর মাত্র ১০০ দিন চলার মতো খাবার রয়েছে. এই রকমের একটা চাঞ্চল্যকর সাবধান বাণী করে বক্তৃতা দিয়েছেন রাষ্ট্রসংঘের বিশেষজ্ঞরা. বিগত সময়ে, ভয় পাইয়ে দেওয়ার মতো নিয়মিত ভাবে উদয় হওয়া খাদ্য নিয়ে সঙ্কট যাতে এড়ানো যায়, তাই প্রস্তাব করা হয়েছে বিশ্বজোড়া খাবারের ভাণ্ডার নির্মাণের.

    পৃথিবীর জনসংখ্যা সাতশো কোটি হতে চলেছে. আর সকলকে খেতে দেওয়া হয়ে দাঁড়াচ্ছে খুবই কঠিন সমস্যা. জীবনের সমস্ত ক্ষেত্রেই প্রযুক্তির বিপুল উন্নতি হওয়া স্বত্ত্বেও, দুর্ভিক্ষ বর্তমানে বিশ্বের বেশীর ভাগ মানুষের জন্যই বাস্তব বিপদ হয়েছে. শুধু ২০০৭ ও ২০০৮ এই দুই বছর শষ্যের ফলন কম হওয়াতে বহু কোটি মানুষের মৃত্যু হয়েছে. এখন বহু কোটি মানুষ না খেয়ে ও গরীব হয়ে বেঁচে রয়েছেন.

    খাদ্য নিরাপত্তা বহু প্রাচীন কাল থেকেই রাষ্ট্রের কর্ণধারদের উদ্বিগ্ন করেছে. প্রাচীন মিশরে, চিনে ও রোমান সাম্রাজ্যে শষ্য ভাণ্ডার তৈরী করা হয়েছিল, যেগুলি এই রকমের কম ফলনের বছর গুলিতে খাবারের দাম নিয়ন্ত্রণে সক্ষম হয়েছিল. আজও এই ধরনের ভাণ্ডার তৈরী করা হচ্ছে, কিন্তু তা আঞ্চলিক ভাবে. রাশিয়া, চিন, ভারত, ব্রাজিল, ইন্দোনেশিয়া, মালি, কানাডা ও মালয় দেশে সঙ্কট কালের জন্য শষ্য জমা করা রয়েছে. কিন্তু বিগত বর গুলিতে এই ভাণ্ডার নিঃশেষ হয়ে আসছে. আজ এর মোট পরিমান ৪৯ কোটি ৪০ লক্ষ টন – সারা বিশ্বের শষ্য উত্পাদনের মাত্র ২১ শতাংশ. বিশ্বের পরিস্থিতিতে এই ভাণ্ডার পরিস্থিতি পাল্টে দিতে পারবে না. রাষ্ট্রসংঘের খাদ্য ও কৃষি পরিষদের বিশেষজ্ঞদের ধারণা অনুযায়ী প্রয়োজন ঐক্যবদ্ধ – ফলপ্রসূ ও দুর্নীতি মুক্ত খাদ্য ভাণ্ডার তৈরী করা দরকার.

    রাষ্ট্রসংঘের পরিষদের এই ধারণাকে সমর্থন করে বড় বেসরকারি আন্তর্জাতিক সংস্থা গুলিও, যাদের মধ্যে রয়েছে অ্যাকশন এইড ও অক্সফ্যাম সংস্থা. বিশ্বজোড়া কাঠামো মানব সমাজকে খাদ্য নিরাপত্তা দেবে সঙ্কট মুক্ত রাখবে, কারণ এই সমস্যা দুঃখের হলেও এড়ানো যায় না, এই কথা উল্লেখ করে রেডিও রাশিয়াকে অক্সফ্যাম সংস্থার অর্থনৈতিক ন্যায় প্রকল্পের যোগাযোগ কারী ইউলিয়া এভতুশক বলেছেন:

    "এটা নূতন বিশ্ব নিয়ন্ত্রণ সৃষ্টি করা. সরকারের সবচেয়ে বড় প্রাথমিক কাজ হল দুর্ভিক্ষ মোকাবিলা. আর যখন নূতন করে খাদ্য সঙ্কট দেখা দেয় – রাষ্ট্রসংঘ নিজে, আর আমাদের সংস্থাও এর পুনরাবৃত্তি বন্ধ করার চেষ্টা করে – এই ভাণ্ডার গুলি সকলের জন্যই সঞ্চয় হতে পারে, যেখান থেকে খাবার নিয়ে সবচেয়ে সমাজের দুর্বল স্তরে বণ্টন করা যেতে পারে".

    বিশ্ব জোড়া ব্যবস্থা তৈরীতে খুব বড় মাপের কাজ সেই সব দেশই করে থাকে, অংশতঃ রাশিয়াও, যাদের খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে, এই কথা উল্লেখ করে ইউলিয়া এভতুশক বলেছেন:

    "রাশিয়া প্রাথমিক ভাবে নিজের অভিজ্ঞতা সম্বন্ধে বলতে পারে, শষ্য ভাণ্ডার নিয়ন্ত্রণে কি ধরনের শিক্ষা পাওয়া সম্ভব হয়েছে. কারণ রুশ প্রজাতন্ত্র বিশ্বের একটি অন্যতম বড় শষ্য রপ্তানী কারক দেশ, এই দেশ শষ্যের অধিক ফলনের থেকে কিছু একটা অংশ আরও দরিদ্র দেশ গুলির জন্য এই তহবিলে দিতেই পারত".

    বোঝাই যাচ্ছে যে, বিশ্বের সামগ্রিক সঞ্চয়  - এটা সঙ্কটের মুহূর্তে নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা. আর অবশ্যই এই রোগ থেকে সুস্থ হওয়ার কাজে লাগতে হবে যাতে আর সঙ্কট না হয়, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির উন্নতি হওয়া প্রয়োজন. এর জন্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে, প্রথমে প্রয়োজন ক্ষুদ্র কৃষকের সহায়তা. এই ধরনের নীতিতে শুধু তাদের নিজস্ব অবস্থাই বদলাবে না, বহু লক্ষ দরিদ্র দুর্ভিক্ষের হাত থেকে বাঁচবেন.