মুহম্মর গাদ্দাফি ও তার চারপাশের লোকেদের কাছ থেকে বিগত সময়ে লিবিয়ার সমস্যার সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে খুবই পরস্পর বিরোধী সঙ্কেত এসে পৌঁছচ্ছে. গাদ্দাফি তাঁর পুত্র সৈফ আল- ইসলামের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার শর্ত পালন করা হলে ও তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তার ভরসা পেলে নেতৃত্ব থেকে অপসৃত হতে রাজী. ফ্রান্স এর মধ্যেই প্রয়োজনীয় গ্যারান্টি দিতে রাজী হয়েছে – রাশিয়ার সংবাদ মাধ্যমে এই খবর বেরিয়েছে এক উচ্চ পদস্থ সরকারি কর্মচারীর কাছ থেকে পাওয়া খবর হিসাবে.পরে রয়টার সংবাদ সংস্থা লিবিয়ার মন্ত্রীসভার তথ্য সম্প্রচার সচিব মুসা ইব্রাহিমের কথা বলে উল্লেখ করে জানিয়েছে যে, গাদ্দাফি যে অপসৃত হবেন এই খবর ঠিক নয়. কিন্তু লিবিয়ার সমস্যার সমাধানের জন্য এই পথকে অনেকেই মনে করেছেন খুবই বাস্তব বলে.

    গাদ্দাফির ক্ষমতা থেকে অপসরণ বিষয়কে এর মধ্যেই লিবিয়ার বিরোধের এক দিক পরিবর্তনের ঘটনা বলে উল্লেখ করা হয়েছে. উচ্চ পদস্থ উত্স ঠিক করে বলেছেন যে, এই প্রক্রিয়াতে সহযোগিতা করতে সরকারি ভাবে প্যারিস তৈরী. অংশতঃ, ফ্রান্স গাদ্দাফির কিছু ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট আবার চালু করতেও রাজী. আবার এমনকি সাহায্য করবে, যাতে গাদ্দাফি আন্তর্জাতিক ফৌজদারী আদালতের গ্রেপ্তার পরোয়ানাও এড়াতে পারেন! যখনই হোক প্যারিস এই রাস্তায় চলতে বাধ্য বলে উল্লেখ করে রাশিয়ার এক স্ট্র্যাটেজিক মূল্যায়ণ নামের ইনস্টিটিউটের সভাপতি ও রাশিয়ার আইন মন্ত্রী আলেকজান্ডার কনোভালভ জানিয়েছেন:

    "পরিস্থিতি যে পাল্টাবে তা খুবই সম্ভাব্য ছিল. ফ্রান্স কেন এটা করল? কারণ যে কিছু করে না, সেই একমাত্র কোন ভুল করে না. দ্রুত ভুল সংশোধন করার দরকার রয়েছে. ফ্রান্স পরিস্কার বুঝতে পরেছে যে, অন্যান্য ইউরোপের দেশের সঙ্গে একসাথে এই বিষয়ে তারাও আটকে পড়েছে. আমার মনে হয়, গাদ্দাফির সমস্ত অ্যাকাউন্ট ওরা চালু করবে না, আর সবটাই হবে, কোথায় পরে গাদ্দাফি ও তার পরিবার থাকবে তার উপরে, তাকে লিবিয়া ছেড়ে চলে যাওয়ার ব্যাপারে রাজী করানো যাবে কি না".

    বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন যে, আপাততঃ পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে তা নির্ণয় করা খুবই কঠিন. তার উপরে এর সামান্য আগেই সৈফ আল-ইসলাম ব্রিটেনের দ্য টেলিগ্রাফ কাগজকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে খুবই স্পষ্ট করে বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, তিনি বা তাঁর পরিবারের কেউ অথবা মুহম্মর গাদ্দাফি নিজে লিবিয়া ছাড়ার কথা ভাবছেন না. এই প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন:

    "আপনারা চান লিবিয়াতে গণতন্ত্র – আমরা তৈরী. আপনারা চান যে, এখানে নির্বাচন হোক, আমরা উত্তর দিয়েছি সহমতে এসেই, আপনারা চাইছেন নতুন সংবিধান হোক – ঠিক আছে, যাতে আমরা গুলি বর্ষণ বন্ধ করি – আমরা এটাও করতে তৈরী. এই সব কিছুর জন্যই প্রধান শর্ত দিচ্ছেন, যাতে আমার বাবা দেশ ছেড়ে চলে যান. আমি মনে করি যে এটা বোকামি, একটা ঠাট্টা. আমরা কোনদিনও এই পথে যাবো না".

    আজ ন্যাটোর প্রধান সমস্ত জোটের হয়ে ঘোষণা করছেন যে, গণতন্ত্রের পথে পরিবর্তনের জন্য শক্তি প্রয়োগ করে লিবিয়াতে গাদ্দাফির অপসরণের পরে রাষ্ট্রসংঘ রাজনীতিতে নেতৃত্ব করবে. এই ধরনের এক হয়ে যাওয়াটা একেবারেই হঠাত্ করে নয়, এই কথা মনে করে মস্কোর রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউরো অতলান্তিক গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বিশেষজ্ঞ তাতিয়ানা পানোভা বলেছেন:

    "আমি মনে করি এই ধরনের উদ্যোগের মধ্যে একটা নির্দিষ্ট যোগাযোগ রয়েছে. এই আলোচনা শুরু জোটের সমস্ত প্রধান সদস্য দেশেরই স্বার্থের সঙ্গে মিলে যাচ্ছে. মার্কিন কংগ্রেস লিবিয়াতে পদাতিক অনুপ্রবেশের বিষয়ে খুবই কট্টর পরিপন্থী. ফ্রান্স এমনকি সামরিক কাজ কারবার শুরু করেও কোন বড় ধরনের যুদ্ধে যেতে চায় নি. ন্যাটো জোটে এই বিষয়ে কোন একক দৃষ্টিকোণ নেই, ইউরোপীয় সংঘেও – মত বিরোধ রয়েছে. অর্থাত্ এই বিরোধ মেটানো – এখন প্রাথমিক হয়েছে. এখন যে এই প্রক্রিয়াকে রাষ্ট্রসংঘের নেতৃত্বে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে, এটা খুবই ইতিবাচক. আর রাশিয়ার দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে এটা খুবই মূল্যবান, কারণ হল যে, রাশিয়া রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য ও লিবিয়াতে পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে প্রভাব বিস্তার করতে পারে".

    এখানে মনে করিয়ে দেওয়া দরকার যে, মে মাসে লিবিয়াতে শান্তিপূর্ণ নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে "আট বড়" দেশের বৈঠকে ঘোষণা করা হয়েছিল. তখন এই জোটের সদস্যরা রাশিয়াকে আহ্বান করেছিল এই প্রক্রিয়াতে মধ্যস্থতা করার জন্য.