কি ধরনের ব্যবস্থা নিলে তা অর্থনৈতিক ভাবে বিভেদের অগ্রগতি রোধ করতে পারবে? এই প্রশ্ন বর্তমানে আরও বেশী করে বাস্তব হয়ে দাঁড়াচ্ছে. এর একটি লক্ষণ হল পৃথিবীতে সমাজের মধ্যেই স্তর বিভেদ শুধু বেড়েই চলেছে – সবচেয়ে বেশী দামের জিনিস পত্রের চাহিদা বিশ্বে অর্থনৈতিক সঙ্কটের সময়েই অনেক বেড়ে গিয়েছে. দামী জিনিস ব্যবহার যে সমস্ত দেশে বেশী করা হয়ে থাকে, তাদের মধ্যে চিন, ব্রাজিল ও রাশিয়া এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আর ইউরোপীয় সংঘকেও পিছনে ফেলে দিয়েছে. আর এটা সেই অবস্থায় হচ্ছে, যখন রাশিয়ার পরিসংখ্যাণ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী দেশের শতকরা ষোল ভাগ লোক দারিদ্র সীমার নীচে বাস করছে. আর চিনে উদাহরণ হিসাবে বলা যেতে পারে যে, প্রায় ১৫ কোটি লোক দৈনিক ১ ডলারের সমান অর্থে কোন রকমে বাঁচার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন. সমাজের এই স্তর বিভেদের সঙ্গে লড়াই করার জন্য রাশিয়ার বিশেষজ্ঞরা নিজেদের প্রেসক্রিপশন দিয়েছেন.

    বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী বিশ্বের বাজারে যে সমস্ত কোম্পানী অত্যন্ত দামী সব জিনিস বিক্রয় করে থাকে, তাদের গত বছরের কারবার হয়েছে ১৭২ বিলিয়ন ইউরো, আর এই বছরে তা বেড়ে ১৮২ বিলিয়ন হতে পারে. রাশিয়াতে দামী জিনিস – দামী ব্র্যান্ডের ঘড়ি থেকে ব্যক্তিগত বিমান পর্যন্ত কিনছেন শতকরা দশ ভাগ ধনী লোক, যাদের কাছে সমস্ত আয়ের একের তৃতীয়াংশ পৌঁছচ্ছে. তারা দেশের বাকী লোকেদের চেয়ে অন্ততঃ কুড়ি গুণ ধনী. কিছু বিশেষজ্ঞের মতে, পেনশন প্রাপক ও বহু সন্তান সন্ততি সহ পরিবারের মতো সবচেয়ে দুঃস্থ লোকেদের সাহায্য করার জন্য আয় বন্টনের ব্যবস্থায় পরিবর্তন করা দরকার. যারা দামী জিনিস ব্যবহার করছেন, তাদের উচিত নিজেদের আয়ের একাংশ কর হিসাবে দেওয়ার.

    সমাজের এই স্তর বিভেদের সঙ্গে লড়াই করার জন্য উচিত হবে সব দিক থেকেই চিন্তা করে এগোনো, এই কথা সামাজিক গবেষণা ও উদ্ভাবনী প্রযুক্তি কেন্দ্র ও আধুনিক প্রগতি ইনস্টিটিউটের কার্যকরী পরিষদের সদস্য প্রফেসর ইভগেনি গন্তমাখের উল্লেখ করে বলেছেন:

    "আমাদের উচিত হবে অর্থনীতির শুধু কাঁচামাল রপ্তানীর কাঠামো ছেড়ে মিশ্রিত কাঠামোতে যাওয়া. অবশ্য খনিজ তেল ও গ্যাস থেকে আমরা আরও অনেকদিন নিবৃত্ত হবো না. কিন্তু অংশতঃ, আমাদের ইনস্টিটিউট পরিকল্পনা করেছে এই শিল্পকে খনিজ তেল ও গ্যাসের রাসায়নিক শিল্পে রূপান্তরের এক বহু প্রসারিত প্রকল্প, অর্থাত্ আমরা যা মাটির তলা থেকে তুলে আনছি তাকে নিজেরাই পরিশোধন করে উচ্চ মানের জিনিসে রূপান্তর করে চিন, ইউরোপ ও অন্যান্য দেশে রপ্তানী করার, আর যদি অর্থনীতির অন্যান্য ক্ষেত্র গুলির কথা বলা হয়, তবে আমাদের প্রয়োজন হবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ আধুনিকীকরণের".

    অর্থনীতির উদ্ভাবনী প্রযুক্তি অনুযায়ী অভিযোজনের অর্থ হল দেশের সার্বিক জাতীয় আয়ের উন্নতি শতকরা চার – পাঁচ ভাগ প্রতি বছরে করা. আর তখন, বিশেষজ্ঞদের হিসাব অনুযায়ী রাশিয়ার অর্ধেক জনসাধারনকে ২০৩০ সালেই বলা যেতে পারবে যে, তারা মধ্যবিত্ত শ্রেনীর লোক.

    সারা বিশ্বের মতই, রাশিয়ার লোকেদের জীবন যাপনের মানে দেশের অঞ্চল গুলির অসমান উন্নতিও প্রভাব ফেলেছে. রুশ প্রজাতন্ত্রের ধনী ও দরিদ্র রাজ্য গুলির মধ্যে ব্যবধান কয়েক গুণ, এই কথা উল্লেখ করেছেন সামাজিক রাজনীতি ও সামাজিক- অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর সের্গেই স্মিরনভ. তিনি বলেছেন:

    "রাজ্য গুলিতে উন্নতির বিন্দু তৈরী করার কোন সর্বজন গ্রাহ্য ও একক প্রেসক্রিপশন আজ অবধি মানব সমাজ তৈরী করে নি. যে কোন ধরনেরই অর্থনৈতিক ভাবে উন্নত দেশ চেষ্টা করে নিজেদের দেশের কম উন্নত অঞ্চল গুলিকে সাহায্য করার. বিপ্লব পূর্ব রাশিয়ার বিখ্যাত প্রধানমন্ত্রী স্তলীপিন বলেছিলেন যে, দেশের সমস্ত এলাকারই উচিত দুর্বলতম এলাকার সহায়তা করতে এগিয়ে আসা – এটাই রাষ্ট্রের একক সম্পূর্ণ অস্তিত্বের প্রমাণ".

    সের্গেই স্মিরনভের কথায়. আজ রাশিয়ার ৮৩ টি রাজ্যের মধ্যে ১৭টি রাজ্যে দেশের ভিতরের অভিবাসন প্রক্রিয়াতে লোকসংখ্যা বৃদ্ধি হচ্ছে, আর এর অর্থ হল যে, অন্যান্য জায়গার লোকসংখ্যা কমছে. শ্রমের প্রয়োজন মেটাতে আসছেন শ্রমিক হয়ে অভিবাসন করে আসা মানুষেরা, যাঁদের অধিকাংশই প্রতিবেশী দেশ গুলি থেকে আসা লোক – প্রাক্তন সোভিয়েত দেশের মানুষ. এক চরমপন্থী মূল্যায়ণ রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞ উল্লেখ করেছেন, যেখানে বলা হয়েছে যে, ২০৫০ সালে রাশিয়ার জনসংখ্যার শতকরা ৪০ ভাগ হবেন অভিবাসিত মানুষেরা. রাশিয়ার প্রশাসন এই সমস্যাকে দেখছেন, আর এখন দেশের আঞ্চলিক উন্নয়ন মন্ত্রক তৈরী করছেন খুবই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প, দেশের সমস্ত এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য. অংশতঃ তার ফলে রাশিয়ার লোকেদের দেশের ভিতরেই যাওয়ার উত্সাহ হবে অর্থনৈতিক কারণেই.

    সামাজিক অসাম্যের সঙ্গে লড়াই করার বিষয়টি আসন্ন তৃতীয় আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ফোরাম "সামাজিক বহুত্বের যুগের আধুনিক রাষ্ট্র" নামের সম্মেলনে রুশী ও বিদেশী বিশেষজ্ঞদের আলোচনার বিষয় বস্তু হতে চলেছে. তা রুশ রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভের অভিভাবকত্বে সেপ্টেম্বর মাসে ইয়ারোস্লাভল শহরে হতে চলেছে. এখানে তিনটি বিভাগে আলোচনার কথা হয়েছে, তার একটির নামই হবে এই বিষয় নিয়ে "ধনী ও দরিদ্র: ন্যায় কোথায়"?