রাশিয়া ন্যাটো পরিষদের সভা ফলপ্রসূ হয়েছে, বাস্তব প্রশ্ন গুলি নিয়ে আলোচনা করে অগ্রগতি হয়েছে. এই সম্বন্ধে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ রাশিয়ার ইউরোপীয় অংশের দক্ষিণে সোচী শহরের আলোচনার পরে ঘোষণা করেছেন. এই আলোচনাতে অংশগ্রহণকারী সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাত্কারের সময়ে দিমিত্রি মেদভেদেভ বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন: রাশিয়া এবং ন্যাটো জোটের উচিত হবে নিরাপত্তা প্রশ্নে বিভাজন না করেই স্ট্র্যাটেজিক সহযোগিতা সৃষ্টি করা, পারস্পরিক ভরসা ও পূর্বানুমান করার সম্ভাবনা থাকা উচিত – এটা সমস্ত দেশেরই জন্য ভাল হবে.

এই আলোচনা সক্রিয় হয়েছিল গত বছরে লিসাবন শহরে রাশিয়া – ন্যাটো পরিষদের শীর্ষ সম্মেলনের পর থেকে, এই কথা মনে করিয়ে দিয়ে দিমিত্রি মেদভেদেভ বলেছেন:

"লিসাবনে ন্যাটো জোটের নতুন স্ট্র্যাটেজিক ধারণা গৃহীত হয়েছিল. সেখানে বিশ্বের সমস্ত প্রশাসন ও সংস্থার সঙ্গেই সহযোগিতা বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছিল. আমাদের মনে হয়েছে যে এটা প্রয়োজনীয়, যাতে আমরা সারা বিশ্বেই আরও বেশী স্থিতিশীল ও নিরাপদ সমাজ গড়ে তুলতে পারি. এই মাত্র দক্ষিণ আফ্রিকার রাষ্ট্রপতি জ্যাকব জুমার সঙ্গে আমি লিবিয়ার সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেছি. এটাই সেই ক্ষেত্র, যেখানে আমরা শক্তি প্রয়োগ করতে পারি, যাতে কোন সাফল্য আসে, আর সহকর্মী হিসাবে সবচেয়ে জটিল সমস্যা গুলি নিয়ে আলোচনা করে সেই গুলি থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজে পেতে পারি".

সোচীতে বিশেষ করে উড়ে এসেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার রাষ্ট্রপতি, যে দেশ কয়েকদিন আগেই বেসরকারি ব্রিক সংগঠনের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, জ্যাকব জুমা রাশিয়া ও ন্যাটোর নেতৃত্বকে লিবিয়ার পরিস্থিতিকে শান্তিপূর্ণ ভাবে নিয়ন্ত্রণের জন্য সেই প্রস্তাব পেশ করেছেন, যেটি আফ্রিকা সংঘের শীর্ষ সম্মেলনের সমর্থন পেয়েছে. রাশিয়া – ন্যাটো পরিষদ যে ভরসা যোগ্য কোন মঞ্চ হতে পারে, যেখানে বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং জটিল সমস্যা থেকে বেরোনোর পথ বার করা যেতে পারে, তা উল্লেখ করে ন্যাটো জোটের সাধারন সম্পাদক আন্দ্রেস ফগ রাসমুসেন বলেছেন:

"আমরা চুক্তি করেছি যে, রাশিয়া – ন্যাটো পরিষদ যে কোন সময়ে, যে কোন রকমের প্রশ্ন নিয়ে আলোচনার জন্য মঞ্চ হবে ও আমরা চুক্তি করেছি যে, কোনও বড় ধরনের মতান্তর হতে দেবো না. ন্যাটো ও রাশিয়া নিরাপত্তা সংক্রান্ত বহু বড় সমস্যার আজ সম্মুখীণ হয়েছে. আমরা সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে জলে, স্থলে ও অন্তরীক্ষে একসাথে লড়াই করছি হাতে হাত মিলিয়ে. আফগানিস্তানে পরিস্থিতি স্থিতিশীল করার জন্য ও মাদক প্রসার রোধে শক্তি প্রয়োগ করছি. কিন্তু আমরা আরও অনেক বেশীই করতে পারি, আমরা জানি যে, বিশ্বে ৩০টি দেশের কাছে হয় রকেট প্রযুক্তি রয়েছে, অথবা তা তারা পাওয়ার প্রচেষ্টা করছে. তাই আমাদের উচিত হবে সহযোগিতার মাধ্যমে নিজেদের ক্ষমতা বৃদ্ধি করা".

ইউরোপ্রো সম্বন্ধে যা বলা যেতে পারে, তা হল এই প্রশ্নে আবারও কোন সহমতে আসা সম্ভব হয় নি. এক সময়ে ইহুদী রাষ্ট্র ইজরায়েল এই ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা বর্মের কথা তুলেছিল, তারা ভয় পেয়েছিল ইরানের পক্ষ থেকে আঘাতের. পরে এই সূত্র ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সক্রিয় হয়েছিল ও বর্তমানে ওয়াশিংটন এই কাজ বাস্তবায়িত করছে, অংশতঃ এই ধরনের পরিকল্পনা নিয়ে যে, আগামী ২০২০ সালের মধ্যেই সারা পূর্ব ও মধ্য ইউরোপে রকেট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরী হয়ে যাবে. যদি এটা হয়, তবে রাশিয়ার রাজনীতিবিদেরা বিশ্বাস করেন যে, তাতেই নূতন অস্ত্র প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যাবে.

মস্কোতে ইউরোপ্রো সম্বন্ধে সবচেয়ে গ্রহণ যোগ্য যে কাঠামো মনে করা হয়েছে, তা হল, রাশিয়া ও মার্কি যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্মিলিত ভাবে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরী করা, যাতে জোটের ইউরোপীয় দেশ গুলিও অংশ নেবে, যেখানে প্রত্যেক পক্ষেরই নিজস্ব এলাকা থাকবে বিপদ নির্ণয় করা নিয়ে. রাশিয়ার জন্য সবচেয়ে বেশী পছন্দের বিষয় হল – ইউরোপ্রো থেকে সম্পূর্ণ ভাবে বিরত হওয়া.

ন্যাটো জোটের লিবিয়াতে অপারেশন নিয়ে বলতে গিয়ে রাসমুসেন উল্লেখ করেছেন যে, জোটে রাশিয়ার উদ্বেগ সম্বন্ধে সকলেই জানে ও রাশিয়ার মত বিচার করে দেখে. কিন্তু তাঁর কথামতো, এই অপারেশন করা হচ্ছে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্ত মেনেই ও তার উদ্দেশ্য সেই দেশের জনসাধারনের নিরাপত্তা রক্ষা. এই সাধারন সম্পাদকের আশ্বাসের সঙ্গে মত মেলানো খুবই কঠিন, যার সম্বন্ধে মস্কো থেকে একাধিক বার বলা হয়েছে. ১৯৭৩ সিদ্ধান্ত নির্দেশ করেছিল শুধু লিবিয়ার আকাশকে উড়ান মুক্ত রাখার জন্যই, সেই দেশে বোমা ফেলার জন্য নয়.

এই সভায় উল্লেখ করা হয়েছে সম্মিলিত ভাবে সন্ত্রাস বিরোধী মহড়ার সাফল্য নিয়ে, আফগানিস্তানের পাইলটদের প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত পরিকল্পনার বাস্তবায়ন করার জন্য, ও মাদক পাচার আর জলদস্যূ মোকাবিলায় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য. এই ছোট কাজ গুলিই সম্পূর্ণ রকমের স্ট্র্যাটেজিক সহযোগিতার শুরু করবে. এই সম্বন্ধে কথা হবে আগামী বছরে চিকাগো শহরে রাশিয়া ন্যাটো জোটের পরিষদের পরবর্তী সভায়.