পাকিস্তানের এলাকা বাদ দিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের বাহিনীকে আফগানিস্থানে মাল পাঠানোর পথ খুঁজছে. "ওয়াশিংটন পোস্ট" খবরের কাগজে এক বিশাল প্রবন্ধ বেরিয়েছে, যাতে বলা হয়েছে আফগানিস্থানে জোটের সেনা বাহিনীকে সরবরাহ পৌঁছনোর জন্য অন্যান্য সম্ভাব্য পথের বর্ণনা দিয়ে.

দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের ইতিহাসে আমেরিকা ও পাকিস্তানের বিগত কয়েক মাসে খুবই অবনতি হয়েছে. এই বিষয়ে চোখ বন্ধ করে থাকতে কেউই পারছে না, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও নয়, পাকিস্তানেও নয়, এমনকি বিশ্বের অন্যান্য দেশেও নয়. আর তারই সঙ্গে বহু প্রতীক্ষিত ও ভবিষ্যত বাণী করা দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের বন্ধনও ছিঁড়ে যাচ্ছে না, কারণ এই দুই দেশ ঐতিহাসিক ভাবেই খুব ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে জড়িত এবং বর্তমানেও তারা একে অপরকে ছেড়ে কোথাও যেতে পারছে না, যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানে এক নৈরাশ্যের যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে ও জানে না কি করে নিজেদের মুখ রক্ষা করে এই যুদ্ধ থেকে বের হওয়া যায়. এই যুদ্ধ চালানোর জন্য পাকিস্তান হয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো জোটের সেনা বাহিনীর জন্য রসদ যাচ্ছিল.

আর তা স্বত্ত্বেও গত কয়েক মাসের ঘটনা দেখিয়ে দিয়েছে যে, পাকিস্তানের এলাকা হয়ে রসদ যোগানের ব্যবস্থাতেই সন্দিগ্ধ হতে হচ্ছে. গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে পাকিস্তানে স্বল্প সময়ের জন্য এই রাস্তা বন্ধ রাখা হয়েছিল, যার ফলে তালিব ও আল কায়দা দলের জঙ্গীরা কয়েকটি মালবাহী কনভয় পুড়িয়ে দিতে সক্ষম হয়েছিল. পাকিস্তানের রাজধানীর কাছে আমেরিকার বিশেষ বাহিনীর হাতে চোরাগোপ্তা আক্রমণে ওসামা বেন লাদেন নিধন যজ্ঞের শেষ হওয়ার পরে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী বর্তমানে দেশের আমেরিকা বিরোধী শক্তির মতই সন্ত্রাসে উদ্যত হয়েছে. এখান থেকেই পাকিস্তানকে বাদ দিয়ে আলাদা করে পথ খোঁজার এই আকুলি বিকুলি শুরু হয়েছে. যেহেতু দুই বছর আগে চিন নিজেদের দেশের ভিতর দিয়ে এই ধরনের রসদ যোগানোর কাজ করতে দিতে রাজী হয় নি ও ইরানের মধ্য দিয়ে রাস্তা বন্ধ রয়েছে, তুর্কমেনিয়া খুব একটা তালিবদের সঙ্গে লড়াইতে সামিল হতে চায় না, সুতরাং পথ বাকি থাকছে একটাই – তা খুবই জটিল ও দীর্ঘ, সেটা তুরস্ক থেকে, জর্জিয়া হয়, আজারবাইজান, কাজাখস্থান ও উজবেকিস্থান হয়ে পাঠানো. কিন্তু সেটা খুব একটা ভরসা যোগ্য মনে হয় না, বর্তমানের রাস্তার চেয়ে, এই কথা মনে করেছেন রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজিক গবেষণা কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞ বরিস ভলখোনস্কি, তিনি বলেছেন:

"এমনকি বিশ্বের মানচিত্রের দিকে একটা সহজ দৃষ্টি রাখলেই দেখতে পাওয়া যায় যে, এই রাস্তা খুবই জটিল. আর এটা শুধু সময় ও অর্থের খরচের বিষয়ই নয়, সমস্যা হল যে, বেশীর ভাগ দেশ, যাদের ভিতর দিয়ে সম্ভাব্য রসদ যোগানোর পথ মনে করা হয়েছে, একমাত্র তুরস্ক বাদে, সকলেই আমেরিকার মতে সেই ধরনের মৃত্যু দণ্ড যোগ্য অপরাধ করে চলেছে, যে কারণে আজ আমেরিকা পাকিস্তানকে দোষ দিয়েছে. এটা জর্জিয়াতে রাজনৈতিক পরিস্থিতির টলায়মান অবস্থা, তারপরে স্বৈরতন্ত্রী দুর্নীতি যুক্ত সব প্রশাসন, যাদের আরব বসন্তের মত ঘটনা এক লহমাতেই সরকার উল্টে দিতে পারে – আর বাইরের পর্যবেক্ষকদের পক্ষে তা একেবারেই হঠাত্ করে হতে পারে. আর এই সব দেশে মানবাধিকার রক্ষা নিয়ে তো বলা ঠিকই হবে না.

যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ধরা যাক উজবেকিস্তানে ইসলাম কারিমভের প্রশাসনকে মানবাধিকার নিয়ে বেশী কড়া সমালোচনা করতে যায়, তবে এই সরকারের পক্ষে আফগানিস্থানে আমেরিকার সেনা দলের রসদ পাঠানো বন্ধ করতে বেশী সময় লাগবে না. আর তখন এই রসদ যোগানের পথে এমনকি সবচেয়ে ভাল সম্পর্ক বাকি দেশ গুলির সাথে থাকলেও কোন লাভ হবে না".

বরিস ভলখোনস্কি উপসংহারে বলেছেন যে, ২০১৪ সালের আমেরিকার সেনাবাহিনী প্রত্যাহারের সময়েই অনেক কিছু স্পষ্ট হয়ে যাবে, তার পরে ২০১২ সালে যখন আমেরিকাতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হবে, তখন যদি বারাক ওবামা আবার নির্বাচিত হন, তবে পাকিস্তানের প্রয়োজন আমেরিকার জন্য ফুরিয়ে যাবে, কারণ বারাক ওবামা এই ধরনের নিষ্ফল অর্থ ব্যয় আর করতে চান না.

 অন্য ব্যাপার হল, যদি ক্ষমতায় আবার রিপাব্লিকান দলের লোকেরা আসে, তবে তারা যেহেতু এখন ওবামাকে এই স্ট্র্যাটেজিক ভাবে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল ছেড়ে খুবই দ্রুত সৈন্যরা ফিরে আসছে বলে অভিযোগ করছেন, তারাই হয়ত আফগানিস্তানে বাহিনী রাখতে বলবেন, তখন সেই নূতন রাষ্ট্রপতিকে স্থির করতে হবে যে, পাকিস্তানের সঙ্গে জোট বাঁধবেন, নাকি আমেরিকার বাজেটের জন্য আরও একটি উত্তোলনের অযোগ্য ভার ন্যস্ত করবেন.