হোয়াইট হাউস সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের নূতন স্ট্র্যাটেজি প্রকাশ করেছে. এই দলিলে রাজনীতির চরম পরিবর্তন ঘোষণা করা হয়েছে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আর বিদেশে সামরিক কাজকর্ম করতে চায় না, তার বদলে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় জোর দিতে চায়. বিশ্ব সমাজ থেকে তাড়িয়ে দেওয়া দেশ গুলির ক্ষেত্রেও লক্ষ্য পাল্টানো হবে. আরও একটি খুবই কৌতুহলের উদ্যোগ – মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চাইছে "মুসলমান ভাইদের" সাথে আলোচনায় বসতে চায়. বিশেষজ্ঞরা সাবধান করে দিচ্ছেন যে, ওয়াশিংটন আবার ঝুঁকি নিচ্ছে চরমপন্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করার.

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্ব সন্ত্রাসের সঙ্গে লড়াই শেষ হওয়া ঘোষণা করেছে.রাষ্ট্রপতির উপদেষ্টা জন ব্রেন্নানের কথামতো, দেশ সীমানার বাইরে কোন সামরিক অপারেশনে যাওয়া থেকে নিরত হচ্ছে. তার বদলে বিশেষ বাহিনী এর পর থেকে সন্ত্রাসবাদী দলগুলির উপরে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে আঘাত হানবে, আর দেশের ভিতরে সন্ত্রাস বিরোধী শক্তি প্রয়োগে বিশেষ করে জোর দেওয়া হবে. রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের একাডেমীর প্রাচ্য অনুসন্ধান বিভাগের প্রধান আন্দ্রেই ভলোদিন বিশ্বাস করেন যে, এই ধরনের সন্ত্রাস প্রতিরোধের বিষয়ে ব্যবস্থা এক রকমের বাধ্য হয়ে করা ব্যবস্থা. তাই তিনি বলেছেন:

    "প্রথম কারণ হল – একেবারেই অর্থনৈতিক. কারণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখনই বিশ্বের সবচেয়ে বড় ধারে ডুবে যাওয়া দেশ. দেশের আভ্যন্তরীণ ঋণ এবারে ১৪, ৫ ট্রিলিয়ন ডলার ছুঁতে চলেছে. আমেরিকা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী একেবারেই বেঁচে নেই. আর পরবর্তী কালে এই ধরনের কোন বেহিসাবী রাজনীতি চালিয়ে যেতে থাকলে, তা এই সবচেয়ে বড় ঋণী দেশের পরিস্থিতি আরও খারাপ করবে. আর দ্বিতীয় কারণ হল – তাদের সন্ত্রাস বিরোধী স্ট্র্যাটেজির সব মিলিয়ে বিফল হওয়া, আফগানিস্থান ও ইরাকে হেরে যাওয়া, লিবিয়ার বিরুদ্ধে নেওয়া অপারেশনে অসাফল্য".

হোয়াইট হাউসের প্রতিনিধি আরও একবার মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইসলাম ধর্মের প্রতি বিরুদ্ধাচরণ করছে না. আর বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন: "আল কায়দা" হল প্রধান বিপক্ষ. ওয়াশিংটন এবার থেকে ইয়েমেন, সোমালি, পাকিস্তান ও উত্তর আফ্রিকার দেশ গুলিতে সম্মিলিত ভাবে অপারেশন চালাবে, এই সব দেশের সরকারের সাথে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার মাধ্যমে. পরিবর্তন হয়েছে তথাকথিত সমাজ বহির্ভূত দেশ গুলি সম্বন্ধেও. এবার থেকে আমেরিকার লোকেরা আশ্বাস দিচ্ছে যে, তারা আর ইরান, সিরিয়া অথবা বলা যাক উত্তর কোরিয়ার মত দেশের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলাবে না. নিজেদের লক্ষ্য তারা এর পর থেকে শুধু পররাষ্ট্র নীতির পদ্ধতি অনুসরণ করেই অর্জন করতে চাইবে, এই রকম ঘোষণা করেছেন জন ব্রেন্নান. রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গের আধুনিক নিকট প্রাচ্য গবেষণা কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞ গুমের ইসায়েভ মনে করেন যে, এই ধরনের ঘোষণার প্রতি সন্দিগ্ধ হয়ে থাকাই ঠিক, তিনি বলেছেন:

    "আপাততঃ আমরা নিকট প্রাচ্যের বহু দেশেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় হস্তক্ষেপই দেখতে পাচ্ছি. আর লিবিয়া ও কিছুটা সিরিয়ার পরিস্থিতি তা একেবারে চোখের সামনে তুলে ধরেছে. আমার মতে, এখানে একটা বিশেষ ধরনের কূটনৈতিক খেলা চালু করা হয়েছে. আমি ক্লিন্টন ও ওবামার এই ধরনের বহু আশ্বাসের ঘোষণাকে বেশীটাই মনে করি যে তা জনপ্রিয়তা অর্জনের জন্য করা".

    নূতন সন্ত্রাস বিরোধী স্ট্র্যাটেজি প্রকাশের অব্যবহিত পরেই হিলারি ক্লিন্টনের জোরালো ঘোষণা শোনা গিয়েছে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্র সচিব জানিয়েছেন যে, আমেরিকার কূটনীতিবিদেরা ইজিপ্টের মুসলমান আন্দোলন "মুসলমান ভাইদের" সাথে যোগাযোগ স্থাপন করেছেন, তাঁরা আশা করেন যে, এদের সাহায্যে ইজিপ্টে সত্যিকারের গণতন্ত্র তৈরী করা যাবে. রাশিয়ার আরব দেশ গুলির সঙ্গে মৈত্রী ও ব্যবসায়িক সহযোগিতা সমিতির সভাপতি ভিয়াচেস্লাভ মাতুজোভ মনে করেন যে, এই ঘোষণা আবার একটি চালাকি. তাঁর বিশ্বাস মতো, সি আই এ সংস্থা গত শতকের দ্বিতীয়ার্ধ থেকেই এই "মুসলমান ভাইদের" নিয়ন্ত্রণ করছে. এটা ওসামা বেন লাদেনের সঙ্গে যেমন শোনা কথা অনুযায়ী সি আই এ সংস্থার কর্মদাতা হিসাবে যোগের কথা বলা হয়ে থাকে, তেমনই ব্যাপার. তিনি যোগ করেছেন:

    "স্বাধীন আন্তর্জাতিক সংস্থা বলে উল্লেখ করে "মুসলমান ভাইদের" দলের সঙ্গে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে একটা হিসাবে আসা দরকার যারা বলছেন – তারা একেবারেই একটা কল্পিত সূত্র ধরে কাজ করতে চাইছেন, যেন তুরস্কের মত এই দেশ গুলিতেও এক ধরনের মধ্য পন্থী ঐস্লামিক শক্তিকে যেন দাঁড় করানোর পরিকল্পনাকে ঢেকে রাখার চেষ্টা চলছে. আর আসলে এই ধরনের শক্তি তুরস্কের চেয়ে খুবই চরম পন্থী এবং তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যও সম্পূর্ণ অন্য ধরনের, তার ওপরে এই দল একেবারে সম্পূর্ণ রকমের তর্কাতীত নিয়ন্ত্রণে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সি আই এ সংস্থার. আমি মনে করি এটা খুবই বিপজ্জনক লক্ষণ".

0    বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, "মুসলমান ভাইদের" দল বিশ্বের বহু দেশেই নিষিদ্ধ, তার মধ্যে রাশিয়াও রয়েছে, কারণ মনে করা হয় যে, এটা চরমপন্থী দল. আর ইজিপ্টের নতুন প্রশাসনের ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরী করা তো নিজের থেকেই সব বুঝিয়ে দিয়েছে. সুতরাং, প্রাচ্য বিশারদেরা সাবধান করে দিয়েছেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আবার এই ধরনের সহযোগিতা করতে গিয়ে খুবই ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে.