মস্কো লিবিয়ার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রধান ভূমিকা নিতে পারে বলে ঘোষণা করেছেন ফ্রান্সের পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান অ্যালেন জ্যুপ্পে রাশিয়া রাজধানীর হায়ার স্কুল অফ ইকনমিক্সে বক্তৃতা দিতে এসে. তিনি আগের মতই উল্লেখ করেছেন যে, ফ্রান্স লিবিয়াতে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ১৯৭৩ সিদ্ধান্ত কঠোর ভাবে মেনে তবেই কাজ করছে. অ্যালেন জ্যুপ্পে দেখাই যাচ্ছে যে, চালাকি করছেন. লিবিয়ার বিদ্রোহীদের ফরাসী অস্ত্র সরবরাহ সম্বন্ধে খবর, যা গত বৃহস্পতিবারে ফাঁস হয়ে গিয়েছে, তা ১৯৭৩ সিদ্ধান্তে মোটেও নেওয়া হয় নি.

প্যারিসের এই অকূটনৈতিক আচরণ সম্বন্ধে ৩০ শে জুন খবর দিয়েছিল "লা ফিগারো" নামের সংবাদপত্র. তাদের তথ্য অনুযায়ী, ফ্রান্স লিবিয়াতে বের্বের প্রজাতির লোকেদের অস্ত্র যোগান দিচ্ছে. তাদের কাছে আকাশ পথে পাঠানো হচ্ছে গ্রেনেড লঞ্চার, ট্যাঙ্ক বিধ্বংসী গতি নিয়ন্ত্রিত রকেট, মেশিন গান ও স্বয়ংক্রিয় রাইফেল. ফরাসী সামরিক দপ্তরের প্রধান কার্যালয়ের প্রতিনিধি কর্নেল টিয়েরি বুরখার্ড এই প্যারাশুট ব্যবহার করে অস্ত্র সরবরাহের খবরের সত্যতা স্বীকার করেছেন. আর ন্যাটো জোটের দেশ গুলির সরকারি কোনও প্রতিনিধি সোজাসুজি এই ধরনের অস্ত্র সরবরাহের সত্যতা কিন্তু স্বীকার করে নি. অথচ পশ্চিমের কূটনীতিবিদেরা তাড়াহুড়ো করে প্রমাণ করার চেষ্টা করছেন যে, প্যারিসের কাজকর্মের মধ্যে তাঁরা রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্তের বিরোধী কিছুই দেখতে পাচ্ছেন না.

রাশিয়ার কূটনৈতিক মহল, নিজেদের পক্ষ থেকে, সেই দিনই প্যারিসে প্রয়োজনীয় জবাব চেয়ে পাঠিয়েছিল. যার সম্বন্ধে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বলেছেন:

"রাশিয়া ফ্রান্সে এই খবরের সততা সম্বন্ধে প্রশ্ন পাঠিয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে যে, ফরাসী পক্ষ থেকে লিবিয়ার বিদ্রোহীদের অস্ত্র দেওয়া হয়েছে. আমরা উত্তরের অপেক্ষায় রয়েছি. যদি এই সংবাদ সত্য হয়, তবে তা হবে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের গৃহীত ১৯৭০ নম্বর সিদ্ধান্তের খুবই কর্কশতম লঙ্ঘণ, যা প্রসঙ্গতঃ, নেওয়া হয়েছিল সর্বসম্মতি ক্রমেই".

পশ্চিম থেকে চেষ্টা হচ্ছে একটা ব্যাখ্যা দেওয়ার, কিন্তু তা শোনাচ্ছে খুবই দুর্বোধ্য এবং উল্টোপাল্টা. দেখা গিয়েছে যে, "রাশিয়ার অবস্থানের প্রতি সমস্ত রকমের মর্যাদা দেওয়া স্বত্ত্বেও" মস্কোতেই রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্ত সঠিক ভাবে বোঝা হয় নি. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্র সচিবের প্রতিনিধি মার্ক টোনের বলেছেন রাষ্ট্রসংঘের ১৯৭০ ও ১৯৭৩ দুটি সিদ্ধান্তেই লিবিয়ার বিদ্রোহী পক্ষকে প্রতিরক্ষার জন্য জিনিস পাঠাতে কোনও বাধা তৈরী করা হয় নি. আর রাষ্ট্রসংঘে ফরাসী স্থায়ী প্রতিনিধি জেরার আরো ঘোষণা করেছেন যে, বিদ্রোহীদের অস্ত্র সরবরাহ – এটা ১৯৭৩ সিদ্ধান্তের চার নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী করা হয়েছে. লিবিয়াতে অস্ত্র সরবরাহের নিষেধাজ্ঞা না মানার জন্য এই অনুচ্ছেদ নাকি ব্যবস্থা করে দিয়েছে.

আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মূল্যায়ণ কেন্দ্রের ডিরেক্টর ইভগেনি মিনচেঙ্কো ন্যাটো জোটের তরফে এই সমস্ত কাজের ব্যাখ্যা শুনে আর কূটনৈতিক বাক্য ব্যবহারের কাঠামোর মধ্যে নিজেকে ধরে রাখতে পারেন নি, তিনি "রেডিও রাশিয়াকে" মন্তব্য করে বলেছেন:

"আমি মনে করি ওরা অনেক আগেই এই সিদ্ধান্তের সমস্ত অনুচ্ছেদের উপরে উপেক্ষার থুতু ফেলেছে, আর যা ইচ্ছে, তাই করে চলেছে. এটা হল একেবারে ইহুদীদের সবচেয়ে নিম্ন মানের ব্যাখ্যা. আর বহু সংখ্যক শান্তিপ্রিয় লোকের মারা যাওয়ার ঘটনা, যা বিগত সময়ে এই জোটের সেনারা ঘটিয়েছে, এটার কি করে ব্যাখ্যা দেওয়া হবে? আমি মনে করি যে, লিবিয়াতে ফ্রান্স যে ধরনের লজ্জার কাজ করছে, তা বিগত কয়েক দশকে কখনও করে নি".

বিদ্রোহীদের অস্ত্র সাহায্যের বিষয়ে আরও একটি ব্যাখ্যা, যা ফরাসী কূটনীতিবিদেরা দিয়েছে তা হল: লিবিয়ার লোকেদের ভবিষ্যত তারাই ঠিক করবে. এই ব্যাখ্যার সঙ্গে মস্কো একমত – রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ মাত্র কয়েকদিন আগেই এই কথা বলছেন. কিন্তু ন্যাটো জোটের সেনা বাহিনী তো আর লিবিয়ার নাগরিক নয় যে, তারা ঠিক করে দেবে কখন কোথায় এই আগুণ জ্বলা বিরোধের আগুণে "নতুন করে উস্কানি" দিতে হবে.

লিবিয়ার লোকেদের স্বার্থ সম্বন্ধে যেমন প্রতিনিধিত্ব করতে পারে আফ্রিকা সংঘের প্রতিনিধিরা, যারা কিছুদিন আগে লিবিয়ার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য এক "পথ নির্দেশ" প্রস্তাব করেছিল নিজেদের তরফ থেকে. আফ্রিকা সংঘের পরিষদ প্রধান জান পিং ফরাসী সেনা বাহিনীর কাজের সমালোচনা করেছেন. তাঁর কথামতো, লিবিয়াতে এই অস্ত্র সরবরাহ এমন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে, যা সোমালির মতই পরবর্তী কালে হতে পারে.