৩ জুলাই ন্যাটোর কার্যনির্বাহী কমিটির একটি প্রতিনিধি দল রাশিয়া-ন্যাটো সম্মেলনে যোগদানের উদ্দেশ্যে রাশিয়ার সোচি শহরে আসছেন। অতিথিদেরকে সোচি শহরে শুধু আমন্ত্রনই জানানো হবে না বরং তাদেরকে অলিম্পিক শহর ঘুড়ে দেখানে হবে। আগামী ২০১৪ সালের শীতকালিন অলিম্পিক গেমস আয়োজনের জন্য সোচি শহর এখন পুরোদমে তৈরী হচ্ছে। আগামীকাল এখানেই রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রনালয় ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রনালয়ের সাথে ন্যাটোর বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভের সাথে ন্যাটো সেক্রেটারী জেনারেল আন্দেরস ফগ রাসমুসেনের সাথে সাক্ষাত অনুষ্ঠিত হওয়ারও কথা রয়েছে।

বিগত কয়েক বছর ধরেই রাশিয়া-ন্যাটো সম্পর্ক উন্নয়নে বেশ চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। দিনব্যাপী আলোচনা কর্মসূচিতে যে বিষয়বলী প্রাধান্য পাচ্ছে তা হচ্ছে, রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা ও জঙ্গিবাদ হুঁমকি। এছাড়াও আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রয়েই যাচ্ছে এবং তা হল, রাশিয়াকে ছাড়াই ইউরোপে রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা তৈরী করা। এই বিষয়টি অবশ্য রাশিয়া-ন্যাটো সম্পর্ক উন্নয়নে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে ধারনা করছেন ন্যাটোতে নিযুক্ত রাশিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধি দিমিত্রি রাগোজিন। তিনি বলছেন,যদি দক্ষিণ প্রান্ত থেক আঘাতহানা রকেট হামলা মোকাবেলা করার জন্য ইউরোপে রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা তৈরী করা হয় তাহলে মিলিত উদ্দোগেই করতে হবে। রাশিয়ার ভৌগলিক অবস্থান এমনই যে ঐ সব অঞ্চল থেকে ইউরোপে রকেট হামলা চালানো হলে তা অবশ্যই রাশিয়ার আকাশ পথ হয়েই যাবে।কার্যত,ইউরোপে রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা তৈরীর নঁকশা মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার আগ্রহের কারণেই সৃষ্টি হয়েছে।

ইউরোপে রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা তৈরীর যাবতীয় প্রকল্প যা রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের একান্ত নিয়ন্ত্রনে রয়েছে বলে বিষয়টি সবার জানা রয়েছে।

সোচিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই আলোচনায় লিবিয়া পরিস্থিতি নিয়েও আলোকপাত করা হবে।রাগোজিন বলছেন,আমরা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সাথে ১৯৭৩ সালের রেজুলেশন সম্পর্কে সুনির্দিষ্টি আলোচনার ভিত্তিতে ঐক্যমতে পৌঁছাই।যার মধ্যে ছিল,লিবিয়াকে ‘নো ফ্লাই জোন’ ঘোষণা এবং দেশটিতে অস্ত্র সরবারাহ বন্ধ করে দেওয়া।কিন্তু আমরা কিভাবে আমাদের সহযোগিদের বিশ্বাষ করব?।যারা লিবিয়ায় রাজনৈতিক সংঘাত সমাধানের পথ খুঁজছে,আন্দোলনকারীদের কাছে অস্ত্র পৌঁছে দিচ্ছে এবং অন্যপক্ষ আবার বিমান হামলা চালাচ্ছে।

রাশিয়া-ন্যাটো কার্যপরিষদের বৈঠক এমনই যেখানে কোন পক্ষই নির্দিষ্ট বিষয়ে নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ মতামত সরাসরি প্রকাশ করে না।সাধারণত বৈঠকে আলোচনার বিষয়বস্তু থেকেই সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়ে থাকে ।অন্যদিকে,সোচির বৈঠক যা দুই পক্ষের মাঝে বিশ্বস্ততা প্রতিষ্ঠায় অন্যতম সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে ধারনা করা হচ্ছে ।