প্রায় এক বছর ধরে বন্ধ রাখার পরে রাশিয়া আবার শষ্যের বাজারে প্রত্যাবর্তন করছে. বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে, বিশ্বের বাজারে এক বড় খেলোয়াড়ের ফেরার পরে দাম বাড়া কমবে ও বিশ্ব খাদ্য সঙ্কটের সমস্যাকে সমাধান করতে সাহায্য করতে.

    রাশিয়ার শষ্যের রপ্তানীর উপরে সাময়িক বিরতি, অনতিপূর্ব খরার ফলে দেশের এক তৃতীয়াংশ ফসল এবারে যে উঠবে না তা স্পষ্ট করে বোধগম্য হওয়ার পরে, যা গত বছরের আগষ্ট মাসে চালু হয়েছিল ও যা প্রাথমিক ভাবে ছিল এক রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, তাকে কিছু বিশ্লেষক খুবই চরমপন্থা বলেছিলেন. কিন্তু তাঁরা স্বীকার করেছিলেন যে, এই নিষেধাজ্ঞার ফলে দেশের ভিতরের বাজারে ঘাটতি এড়ানো গিয়েছিল ও খাবারের জিনিসের দাম বাড়া আটকানো গিয়েছিল, তার ফলে – মূল্যবৃদ্ধি ও গৃহ পালিত জন্তুর সংখ্যাও কম হওয়া থেকে ত্রাণ করা সম্ভব হয়েছিল.

    বর্তমানে নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নেওয়াটাও দেশের কৃষি শিল্পের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হয়েছে, বলে মনে করেন "সোভএকন" বিশ্লেষণ কেন্দ্রের প্রধান আন্দ্রেই সিজভ, তিনি বলেছেন:

"প্রথমতঃ, নূতন ফলনের সম্ভাবনা খুব খারাপ নয়, আমরা এটাকে দেখেছি প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ মিলিয়ন টন শষ্য হিসাবে – যেখানে দেশের ভিতরের প্রয়োজন মাত্র ৬৮ মিলিয়ন টন. রাশিয়ায় তার উপরে এবারের ঋতু শুরু হওয়ার আগেও আগের বছরের থেকে পাওয়া শষ্যের সঞ্চয় খারাপ নেই, তাছাড়া রাষ্ট্রীয় বিপর্যয় ভাণ্ডার গুলিতেও যথেষ্ট পরিমানে শষ্য রয়েছে. সুতরাং শষ্য ছাড়া আমরা থাকবো না. বাইরের দেশ গুলিতে রাশিয়া খুবই অনায়াসে ১৫ মিলিয়ন টন অবধি শষ্য রপ্তানী করতেই পারে".

    কিছু বিশেষজ্ঞ উল্লেখ করেছেন যে, আগের জায়গায় ফিরে আসতে খুব একটা সহজ হবে না. দাম কমিয়ে সেই অবস্থানে আবার যুদ্ধ করে পৌঁছতে হবে. সম্ভবতঃ রাশিয়ার রপ্তানী কারক দের প্রতিযোগীদের চেয়ে দাম কমিয়ে দিতে হবে প্রায় ২০ -৩০ ডলার প্রতি টনে. কিন্তু শষ্যের প্রয়োজন এতটাই বেশী  যে, রাশিয়া বিশ্বের বাজারে নিজেদের জায়গা শীঘ্রই পাবে, এই কথা উল্লেখ করে কৃষকের রাশিয়া কাগজের প্রধান সম্পাদক কনস্তানতিন লীসেঙ্কো বলেছেন:

    "কোন কিছুই খুব একটা খারাপ হয় নি, আমরা তাও সেখানে ঢুকতেই পারবো আর সব কিছু স্বত্ত্বেও বাজারে উপস্থিতও থাকবো, কারণ রাশিয়ার দানা শষ্যের চাষের বিষয়ে অনেক সুবিধা রয়েছে".

    একই সময়ে সরকার ঠিক করেছেন দেশে এক সারি ব্যবস্থা নেওয়ার, যাতে রাশিয়ার বিশ্বের শষ্যের বাজারে ফিরে আসা হয় সিরিয়াস ও দীর্ঘস্থায়ী. আফ্রিকা ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশ গুলির সঙ্গে আলোচনা করার কথা হয়েছে, যারা ঐতিহ্য অনুযায়ী রাশিয়া থেকে শষ্য কিনে থাকে. প্রসঙ্গতঃ, তাদের পক্ষ থেকে আগ্রহ এমনিতেই অনেক. উত্তর পূর্ব আফ্রিকাকে গত ৬০ বছরে হয় নি এমন খরা প্রায় অসাড় করে দিয়েছে, যার ফলে খুবই তীক্ষ্ণ খাদ্য শষ্যের অভাব শুরু হয়েছে. সুতরাং রাশিয়ার দানা শষ্যের জন্য বিশ্বের মঞ্চ অপেক্ষায় আছে.