১লা জুলাই থেকে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সভাপতিত্ব কাজাখস্থান চিনের হাতে তুলে দিচ্ছে. বেইজিং থেকে বলা হয়েছে যে, এই সংস্থার স্বর্ণ যুগ শুরু হচ্ছে বলে বিশ্বাস করা দরকার.বিগত দশ বছরের মধ্যে এই সংস্থা একটি সাধারন আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা থেকে এক ওজনদার আন্তর্জাতিক কাঠামোতে পরিনত হয়েছে.

    চিনের বিশেষজ্ঞদের মতে, সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সদস্য দেশ গুলি বর্তমানে সবচেয়ে জটিল বিষয়েও সহমতে আসতে শিখেছে. কাজাখস্থানের সভাপতিত্বের বছরে আগামী পাঁচ বছরের জন্য মাদক বিরোধী স্ট্র্যাটেজি নেওয়া সম্ভব হয়েছে, এই সংস্থার সমস্ত কার্য ক্ষেত্রেই এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা সম্ভব হয়েছে, এই কথা উল্লেখ করেছেন কয়েকদিন আগে আস্তানা শহরে শীর্ষ বৈঠকের সময়ে কাজাখস্থানের রাষ্ট্রপতি নুর সুলতান নাজারবায়েভ. কিন্তু এই সংস্থার আবার সমস্যাও রয়েছে. তার মধ্যে ইউরোএশিয়া ব্যাঙ্কের মত বিশেষ ব্যাঙ্কের অভাব, আর অর্থনৈতিক সম্পর্কের বিষয়েও বৈশিষ্ট্য রয়েছে বলে মন্তব্য করে মস্কোর রাষ্ট্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর সের্গেই লুজিয়ানিন বলেছেন:

    "কাজাখস্থানের সভাপতিত্বে নির্দিষ্ট কিছু গতি সঞ্চার হয়েছে, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে প্রাথমিক ভাবে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়েছে চিনের সম্পদের উপরে নির্ভর করে, আর তারই সঙ্গে মধ্য এশিয়াতে নূতন অর্থনৈতিক প্রকল্পও নেওয়া সম্ভব হয়েছে. এর দুর্বলতম অংশ, অবশ্যই, সম্মিলিত ভাবে অর্থনৈতিক সহযোগিতা করা, কারণ আপাততঃ অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে হয় দ্বিপাক্ষিক অথবা ত্রিপাক্ষিক চুক্তি দিয়েই. কিন্তু সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার শক্তিশালী দিকটি হল নিরাপত্তার দিক – সন্ত্রাস বিরোধী কেন্দ্রের কাজকর্ম ও তার যৌথ নিরাপত্তা চুক্তি সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতা ও অন্যান্য সংস্থার সঙ্গেও কাজ. তার উপরে কাছেই আফগানিস্তান, যা নিয়মিত ভাবেই মাদক পাচারের বিপদ সঙ্কেত পাঠাচ্ছে".

    বিগত বছর গুলিতে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থায় যোগদানের জন্য এক সারণী তৈরী হয়েছে ভারত, পাকিস্তান, ইরান, আফগানিস্তান ও মঙ্গোলিয়া. একই সময়ে বিশেষজ্ঞরা সমর্থন করেছেন যে, অন্ততঃ নিকটবর্তী বছর গুলিতে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার কোন নূতন সদস্য দেশ হবে না. নূতন দেশ গুলির প্রয়োজন হবে এই সংস্থায় অভিযোজনের জন্য দীর্ঘ সময় – সদস্য পদের দাবীদার দেশ গুলিকে প্রায় ১৬০টি সংস্থার চুক্তি ও দলিলের মধ্যে যুক্ত হতে হবে. দ্বিতীয়তঃ, চিনের রাশিয়া, পূর্ব ইউরোপীয় দেশগুলি ও মধ্য এশিয়া সংগঠনের প্রধান উ দাহুএয়ার মতে, ইউরোপীয় সংঘের অভিজ্ঞতাকেও দেখা দরকার, যারা নিজেদের মধ্যে নূতন দেশকে খুব একটা স্বেচ্ছায় সমাকলন করতে চায় না. এখানে গুরুত্বপূর্ণ হল যে, দাবীদার দেশ গুলি যেন নিজেদের সঙ্গে সদস্যদের মধ্যে বিবাদকেও ডেকে না আনে. যদিও আফগানিস্তান প্রসঙ্গে সম্মিলিত পদক্ষেপই নূতন দেশগুলির জন্য শান্তি ও সম্প্রীতির কারণ হতে পারে, বলে মনে করে লোমনোসভের নামাঙ্কিত মস্কো রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সোভিয়েত পরবর্তী অঞ্চলের গবেষণা কেন্দ্রের ভাইস জেনেরাল ডিরেক্টর আলেকসান্দ্রা কারাভায়েভা বলেছেন:

    "সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সম্ভাব্য সদস্য দেশের সংখ্যা খুব বেশী নয়. তা শেষ হয়ে যাচ্ছে বোধহয় আফগানিস্তান দিয়েই. কারণ ভারত, পাকিস্তান ও ইরানের সঙ্গে রয়েছে বহু সমস্যা, কারণ তাদের সাংহাই সহযোগিতা সংস্থায় যোগদানের সঙ্গে আসবে বহু রাজনৈতিক বিবাদ. আর আফগানিস্তান নিয়ে বোধহয় কিছু একটা করা যেতেই পারতো. তার উপরে এখানে আমরা সম্ভাব্য কোন ধরনের সহযোগিতা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও করতে পারতাম ও আফগানিস্তানকে একটি মোটামুটি শান্তিপ্রিয় দেশে পরিনত করতে পারতাম".

    আস্তানার কাছ থেকে সভাপতিত্ব নিয়ে বেইজিং স্থির করেছে আগামী দশকের জন্য সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার উন্নতির স্ট্র্যাটেজি তৈরী করার. তাছাড়া, তিনটি প্রধান কূ অর্থাত্ সন্ত্রাস, বিচ্ছিন্নতা বাদ ও চরমপন্থার সঙ্গে মোকাবিলার বিষয়ে ফলপ্রসূ হওয়া বৃদ্ধি করাও রয়েছে. চিন বহুপাক্ষিক অর্থনৈতিক সহযোগিতার জন্য তৈরী বলে ঘোষণা করেছে.