মস্কো মনে করে যে, পশ্চিমের নিকট প্রাচ্যে অপছন্দের প্রশাসন গুলিকে উল্টে দেওয়ার প্রচেষ্টা চলতে দেওয়া যায় না. এই বিষয়ে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় দ্যুমা (লোকসভা) তে ঘোষণা করেছেন রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রী সের্গেই লাভরভ. তাঁর কথামতো, এটা চলতে দেওয়া যায় না, যে পশ্চিম আন্তর্জাতিক পরিবর্তনের ঢেউকে নিজের সুবিধামত ব্যবহার করবে, তার মধ্যে আবার অর্থনৈতিক স্বার্থও থাকবে.

উত্তর আফ্রিকার ও নিকট প্রাচ্যের পরিস্থিতি সম্বন্ধে মন্তব্য করতে গিয়ে সের্গেই লাভরভ উল্লেখ করেছেন যে, সারা বিশ্ব জুড়ে বিপ্লবের ডাক দেওয়া একেবারেই দায়িত্ব জ্ঞান হীনতার পরিচয়. আলোচনার মাধ্যমেই সংশোধন করতে হবে, তা না হলে সেই সমস্ত জায়গার ঘটনা বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলেও প্রতিধ্বনি তুলবে. লিবিয়া সম্বন্ধে  যা বলা যেতে পারে, লাভরভ আরও বলেছেন যে, গ্রেট ব্রিটেন বর্তমানে বিদ্রোহী পক্ষের লোকেদের সামরিক বর্ম পোষাক, পুলিশ বাহিনীর উপযুক্ত জামা কাপড় ও যোগাযোগের যন্ত্রপাতি পাঠাচ্ছে. আর কিছুদিন আগে খবর পাওয়া গিয়েছে যে, ফ্রান্স প্যারাশ্যুট করে ও স্থলপথের সীমান্ত পার করে প্রায় ৪০ টন অস্ত্র পাঠিয়েছে, তার মধ্যে বেশ কিছু হালকা ট্যাঙ্ক ও রয়েছে, যা বিদ্রোহীদের জন্যেই পাঠানো হয়েছে. এই প্রসঙ্গে রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধানের মন্তব্য ছিল খুবই কঠোর, তিনি বলেছেন:

"রাশিয়া ফ্রান্সে এই খবরের সততা সম্বন্ধে প্রশ্ন পাঠিয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে যে, ফরাসী পক্ষ থেকে লিবিয়ার বিদ্রোহীদের অস্ত্র দেওয়া হয়েছে. আমরা উত্তরের অপেক্ষায় রয়েছি. যদি এই সংবাদ সত্য হয়, তবে তা হবে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের গৃহীত ১৯৭০ নম্বর সিদ্ধান্তের খুবই কর্কশতম লঙ্ঘণ, যা প্রসঙ্গতঃ, নেওয়া হয়েছিল সর্বসম্মতি ক্রমেই".

রাশিয়ার মন্ত্রীর স্পষ্ট অভিযোগের উদ্দেশ্য অবশ্যই প্রাথমিক ভাবে ন্যাটো জোট, যেহেতু এই জোটের সেনা বাহিনীই যৌথ শক্তি তৈরী করেছে, যা বর্তমানে লিবিয়াতে যুদ্ধে নিরত. উত্তর অতলান্তিক জোটের সহকর্মীদের কাছে মস্কোর আরও অন্যান্য অভিযোগও রয়েছে. তার মধ্যে প্রধান হল – একে অপরের প্রতি সামরিক ক্ষমতা লক্ষ্য না করার বিষয়ে চুক্তি সাধন থেকে বিরত থাকা, অর্থাত্ কোন রকমের আইন সঙ্গত ভাবে বাধ্যতা মূলক গ্যারান্টি থেকে হঠে যাওয়া, যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রকেট বিরোধী ব্যবস্থার অস্ত্র গুলি রাশিয়ার জমির দিকে লক্ষ্য করে থাকবে না. এই ধরনের দলিল এক মাস আগে ফ্রান্সের দোভিল শহরে শীর্ষ সম্মেলনের সময়ে স্বাক্ষর করার কথা ছিল, কিন্তু শেষ মুহূর্তে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামা মত পাল্টে ছিলেন. সুতরাং, ইউরোপে যৌথ ভাবে রকেট বিরোধী ব্যবস্থা তৈরী করা নিয়ে পরিকল্পনা করার সময়ে, ওয়াশিংটন, সম্ভবতঃ, খুব একটা চায় না নতুন কেন ব্যবস্থা তৈরী করতে. মস্কোকে শুধু সেখানের ইতিমধ্যেই স্থাপিত অস্ত্র ও যন্ত্রপাতির বাস্তব অবস্থান সম্বন্ধে জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে, তার বদলে চাওয়া হচ্ছে কৌশলগত তথ্য পেন্টাগন কে শুধুশুধুই দিয়ে দিতে. "মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইউরোপের রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা চলছে ঠিকই, কিন্তু তা আপাততঃ বড় কোনও সাফল্য ছাড়াই", - এই কথা উল্লেখ করেছেন সের্গেই লাভরভ. আগামী সোমবার ৪ঠা জুলাই এই বিষয়ে আবার আলোচনা চালু হতে চলেছে সোচী শহরে রাশিয়া – ন্যাটো সভায়. এই সভায় অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে ও আলাদা করে জোটের সাধারন সম্পাদকের সাথে সাক্ষাত্ করবেন রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ.

এই বিষয়ে আলোচনা করার ফল হল– পশ্চিমের সহকর্মীদের সাথে রাশিয়ার সম্পর্ক কতটা টেকসই তা দেখা, এই বিষয়ে রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রী একেবারে স্থির বিশ্বাস করেন. তিনি জুলাই মাসের মাঝামাঝি তাঁর আমেরিকা সফরের সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্র সচিব শ্রীমতী হিলারি ক্লিন্টনের সাথে রকেট বিরোধী ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করতে চান. প্রসঙ্গতঃ তাঁর মতে, আমেরিকার সহকর্মীদের সাথে ইতিবাচক সহযোগিতা কিছু প্রশ্নের বিষয়ে সহমতে আসা না গেলেও, চলছে. লাভরভ উল্লেখ করেছেন যে, এক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রয়েছে রাশিয়া- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতিদের কমিশনের.

রাশিয়া রঙীণ চশমা পরে বিশ্বকে দেখার থেকে বহু দূরে আছে. মস্কোতে বোঝা হয়েছে যে, তাদের জন্য কে সত্যিকারের বন্ধু ও সহকর্মী. শুধুশুধুই তো আর প্রাক্তন সোভিয়েত দেশের রাজ্য ও বর্তমানে স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহের দেশ গুলির সঙ্গে সম্পর্ক প্রাথমিক হয়ে দাঁড়ায় নি. এখানে শুধু সেই ধরনের "পুরনো বাসিন্দা" ইউক্রেনের মত দেশের কথাই হচ্ছে না, বরং নূতন স্ট্র্যাটেজিক সহযোগী দেশ যেমন, আবখাজিয়া বা দক্ষিণ অসেতিয়ার কথাও হচ্ছে. আর বেলোরাশিয়াকে তো রাশিয়ার লোকেরা ভ্রাতৃসম বলে মেনেই থাকে. মস্কো চায় বেলোরাশিয়া যত দ্রুত সম্ভব যেন এই অর্থনৈতিক সঙ্কট কাটিয়ে উঠতে পারে. ইউরোএশিয়া অর্থনৈতিক সহযোগিতা সংস্থার পক্ষ থেকে ঋণের প্রথম অংশ ইতিমধ্যেই পৌঁছেছে বলে তিনি জানিয়েছেন.

দুই ঘন্টা ধরে রাশিয়ার দ্যুমায় বক্তৃতা দিয়ে রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের নেতা প্রায় সমস্ত আন্তর্জাতিক সমস্যা সম্বন্ধেই বক্তব্য রেখেছেন, আর সেখানে রাশিয়ার অবস্থানের কথাও বলেছেন.