২০১২ সালে এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা সংস্থার জন্য তৈরী হওয়া জায়গা গুলির সময় মতো নির্মাণ কাজ শেষ না হলে সরকারি কর্মচারীরা তাঁদের সর্বস্ব খোয়াবেন. এই বিষয়ে তাঁদের সাবধান করে দিয়েছেন রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ, তিনি আজ ভ্লাদিভস্তক শহরে পৌঁছেছেন পর্যবেক্ষণের জন্য. তিনি গত বছরে শেষবার গিয়েছিলেন প্রিমোরস্ক অঞ্চলে. এই সময়ের মধ্যে অনেক কিছুই করা সম্ভব হয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন দিমিত্রি মেদভেদেভ, তাই বলেছেন:

    "আজ এই অঞ্চলের নির্মাণ চলছে পুরোদমে ও সর্বাধুনিক স্ট্যান্ডার্ডের উপরে ভিত্তি করে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে. আর এই বিষয়েই আমরা এখন নিশ্চিত হতে পেরেছি. আসলে ভ্লাদিভস্তকে এই ধরনের পরিবর্তন দেখে খুবই ভাল লেগেছে".

    রাষ্ট্রপতি তাঁর সফর শুরু করেছেন এখানের বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনাল কমপ্লেক্স দেখা থেকে. আর তার পরেই সোজা হেলিকপ্টারে করে দেখতে গিয়েছেন রুস্কি দ্বীপ পর্যন্ত নতুন সেতু নির্মাণ দেখতে. যা দেখেছেন, তাতে তিনি সন্তুষ্টই হয়েছেন, কিন্তু দাবী করেছেন যে, সমস্ত কিছু যেন গুণমান বজায় রেখে সময়মতো তৈরী হয়ে যায়.

    পূর্ব বসফরাস উপসাগরের উপর দিয়ে ভ্লাদিভস্তক শহরের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে রুস্কি দ্বীপ অবধি সেতু ২০১২ সালের এশিয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক সংস্থার শীর্ষ সম্মেলনের প্রতিনিধিদের যাতায়াতের ব্যবস্থা করবে আয়াস্ক উপসাগরের কাছে সম্মেলনের স্থানে. এই সেতুটি অনন্য. এর স্থপতিদের পরিকল্পনায়, এটা বিশ্বের একটি বৃহত্তম কাছি দিয়ে বাঁধা সেতু, যার মাঝখানের অংশটির দৈর্ঘ্য হতে চলেছে ১১০৪ মিটার, তাই বিশ্বের সেতু নির্মাণের এটি একটি রেকর্ড হতে চলেছে. তারই সঙ্গে এই সেতুর উপরে টাওয়ার বা মিনার ও হবে সবচেয়ে উঁচু ও কাছি গুলিও হবে সবচেয়ে লম্বা.

    ভ্লাদিভস্তকের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্মাণের জায়গা – সুদূর পূর্ব বিশ্ববিদ্যালয়ের এলাকা. রাষ্ট্রপতি এখানের ছাত্রদের জন্য তৈরী উপনগরী পরিদর্শন করেছেন, থাকার ঘর গুলির প্রশংসা করেছেন. সেখানেই এই শীর্ষ সম্মেলনের জন্য আসা সহকারী লোকজনেরা প্রথমে থাকবেন. আর এই সম্মেলন শেষ হয়ে গেলে সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দের আবাস ও ছাত্রাবাসই হবে. এই শীর্ষ বৈঠক অবশ্যই রাশিয়ার জন্য কূটনৈতিক কারণে খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু তা চলবে মাত্র কয়েকটি দিন, আর যা এখন তৈরী হচ্ছে, তা আগামী বহু দশক ধরে থেকে যাবে. এই কথা উল্লেখ করে দিমিত্রি মেদভেদেভ বলেছেন:

    "বেশীর ভাগ জায়গাই একেবারে ফাঁকা জায়গা থেকে তৈরী হওয়া শুরু হয়েছে. আর শতকরা ৮০ ভাগের বেশী অর্থ যা সরকার ও বিনিয়োগকারী ব্যক্তিরা শীর্ষ সম্মেলনের জন্য আলাদা করে দিয়েছেন, তা এই সব জায়গা তৈরী করার জন্যই দেওয়া হয়েছে. ফলে আমাদের উচিত হবে একেবারে নূতন ভ্লাদিভস্তক তৈরী করা, যা এই শহরের বাসিন্দাদের জন্য হবে খুবই আরামের, সমস্ত প্রিমোরস্ক অঞ্চলের জন্যও তা হওয়া উচিত্. এটাই মূল কাজ. আমি বিশেষ করে বলবো খুবই ভাল গুণমান সম্পন্ন শীর্ষ বৈঠক করা আমার মতে গুরুত্বপূর্ণ কাজ, কিন্তু তাও সেটা আসলে দ্বিতীয় কাজ".

    থিয়েটার, হোটেল, জল পরিশোধনের স্টেশন, সেতু, রাস্তা – সব মিলিয়ে ৯৬টি জায়গা শীর্ষ সম্মেলনের আগে তৈরী করার পরিকল্পনা করা হয়েছে. বেশীর ভাগই পরিকল্পিত সময়ের মধ্যেই তৈরী হচ্ছে, কিন্তু তাও সমস্যা রয়েছে, এই কথা বলা হয়েছে ভ্লাদিভস্তকের আলোচনা সভাতে. কেন দেরী হচ্ছে, তার কারণ খুবই খুঁটিয়ে দেখা দরকার, কারণ আমাদের পরে আর দেরী করার কোন উপায় নেই, এই কথা মনে করিয়ে দিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেছেন:

    "যত খুশী সময় পাল্টে ঠিক করা যায়, কিন্তু আমরা বুঝতে পারি যে, সম্মেলন ঠিক সেই সময়েই হবে যা এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক সংস্থার সদস্য দেশ গুলি চুক্তি করে ঠিক করেছে, আর সেটা হবে ২০১২ সালের ১লা সেপ্টেম্বরই. এই দিনটিকে কোথাও সরিয়ে নিয়ে যাওয়া যাবে না, আর আমি চাইবো, যাতে এখানে উপস্থিত সকলেই এই বিষয় মাথায় রেখে কাজ করেন".

ভ্লাদিভস্তকের অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি আঞ্চলিক উন্নয়ন মন্ত্রী ভিক্তর বাসারগীনকে এই শীর্ষ সম্মেলনের জন্য নির্মীয়মান জায়গা গুলির নিয়ন্ত্রণ কড়া করতে বলেছেন. আর সরকারি কর্মচারীদের, যারা এই সব কাজের দায়িত্বে রয়েছেন, তাদের সময় মতো কাজ করতে না পারলে ব্যক্তিগত ভাবে দায়ী করতে বলেছেন. "সবই করতে হবে, যাতে এই শীর্ষ সম্মেলন সবচেয়ে উঁচু স্তরে করতে পারা যায়, আর ভবিষ্যতের প্রজন্মের জন্য থাকে খুব সুন্দর ও আধুনিক শহর" – এই কথা উল্লেখ করেছেন রাষ্ট্রপতি.