সেন্ট পিটার্সবার্গে আন্তর্জাতিক নৌবাহিনী প্রদর্শনীতে রাশিয়ার "ট্যাকটিক্যাল রকেট আর্মামেন্টস" (কৌশলগত রকেট অস্ত্রসম্ভার) কর্পোরেশন (টি আর ভি) দেখাতে এনেছে নিজেদের নূতনতম জাহাজ বিধ্বংসী ব্যবস্থা "প্যাকেট" ও অন্যান্য আধুনিক অস্ত্রসম্ভার.

কোম্পানীর তরফ থেকে নূতন অস্ত্রের খুবই প্রসারিত নমুনা এখানে দেখানো হচ্ছে – তার মধ্যে শক্তিশালী যুদ্ধ জাহাজ বিধ্বংসী রকেট থেকে শুরু করে সহজেই বয়ে নিয়ে যাওয়া যায় এমন অ্যান্টি টর্পেডো রয়েছে. বিগত কিছু কাল ধরে স্বল্প ওজনের যুদ্ধ জাহাজ – পাহারাদার ও রকেট বাহী লঞ্চ, বহুমুখী করভেট, প্রহরার জন্য জাহাজ বেশীর ভাগ সামুদ্রিক সীমান্ত সহ দেশের নৌবাহিনীর প্রধান ও বহু সংখ্যায় ব্যবহৃত শক্তির অঙ্গ হয়েছে. এই ধরনের জাহাজ গুলির প্রধান আঘাত হানার শক্তি হয়েছে রকেট ব্যবস্থা. টি আর ভি কর্পোরেশনের এক ধরনের "ভিজিটিং কার্ড" বা পরিচয় পত্র বলা চলে জাহাজ ব্যবস্থা "ইউরেনিয়াম" (উরান), যেখানে জাহাজ বিধ্বংসী রকেট এক্স- ৩৫ এ (х-35э) রয়েছে, এই কথা উল্লেখ করে কর্পোরেশনের জেনারেল ডিরেক্টর বরিস অবনোসভ বলেছেন:

"এই রকেট একেবারে সর্বত্র প্রযোজ্য. এখানে এ অক্ষরের মানে হল এটা এক্সপোর্ট বা রপ্তানীর জন্য. তা বহু ধরনের বিমানের জন্য আলাদা করে তৈরী করা হয়েছে. এই রকেট স্বাভাবিকের চেয়ে বেশী দূর অবধি যেতে পারে. যদি এই ধরনের সাধারন রকেটের পাল্লা ছিল আগে ১৩০ কিলোমিটার, তবে বর্তমানে এই এ ধরনের রকেট উড়তে পারে ২৫০ কিলোমিটার অবধি, বলা যায় বাস্তবে প্রায় দ্বিগুণ দূরত্ব. এটা একেবারেই নতুন জিনিস, যা পশ্চিমের সবচেয়ে ভাল এই ধরনের অস্ত্রের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় সক্ষম".

টি আর ভি কর্পোরেশনের নূতনতম সংযোজনের মধ্যে, যা এই প্রদর্শনীতে দেখানো হচ্ছে, তা যুদ্ধ জাহাজ বিধ্বংসী ব্যবস্থা "মসকিট" বা মশা ব্যবস্থা কে বলা যেতে পারে, এছাড়া দ্রুত গতি সম্পন্ন জলের তলায় ব্যবহারের রকেট "শ্কোভাল – এ", ছোট আকারের উষ্ণতা নির্ণয়ে সক্ষম টর্পেডো ব্যবস্থা "প্যাকেট", যেগুলি বিশেষজ্ঞদের মতে ডুবোজাহাজের সঙ্গে লড়াইয়ের বিষয়ে খুবই ফলপ্রসূ ইত্যাদি রয়েছে. এই প্রযুক্তি বর্তমানে বিদেশের এই ধরনের অস্ত্রের চেয়ে অনেক বেশী আধুনিক, এই কথা উল্লেখ করে বরিস অবনোসভ বলেছেন:

"আমাদের প্রতিযোগী দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সের - এই ধরনের জাহাজ বিধ্বংসী রকেট ব্যবস্থা রয়েছে. কিন্তু তাদের নমুনা গুলি আমাদের এই "প্যাকেট" নামের ব্যবস্থার সঙ্গে কোনও রকমের তুলনার মধ্যেই পড়ে না. আগের মতই জাহাজ বিধ্বংসী রকেট "মসকিট" খুবই ভয়ঙ্কর অস্ত্র বলে মানা হয়ে থাকে. এই দিকে আমাদের মত উন্নতি করেছে, এরকম কোন প্রতিযোগী কাউকে আমি দেখতে পাচ্ছি না".

পিটার্সবার্গের প্রদর্শনী – বিশ্বের অস্ত্র বাজার ও সামরিক প্রযুক্তি সম্বন্ধে শেখার জন্য খুবই ভাল সম্ভাবনা. আর একই সঙ্গে এখানে সম্ভাব্য সহকর্মী ও এই সব জিনিসের ক্রেতাদের সঙ্গে দেখা হয়, তাই বরিস অবনোসভ বলেছেন:

"ঐতিহ্য মেনেই আমাদের সহকর্মী দেশ – ভারত. আর আমরা আশা করবো তাদের সঙ্গে নতুন চুক্তি হবে জাহাজ বিধ্বংসী রকেট নিয়ে. আমাদের তৈরী জিনিসের প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছে কাছের বিদেশী রাষ্ট্রেরা".

0বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়ণে, আগামী কয়েক বছরে বিশ্বের বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়বে রকেট ব্যবস্থা ও জাহাজ বিধ্বংসী রকেট নিয়ে, যা খুবই সঠিক লক্ষ্যে আঘাত হানার মতো অস্ত্র. কারণ এই ধরনের ব্যবস্থা শুধু জাহাজ বা লঞ্চ থেকেই ব্যবহার করা যায় না, অন্যান্য বাহক থেকেও করা সম্ভব, তা মাটির উপরে বা আকাশ থেকেও হতে পারে. রাশিয়া যে এই ধরনের অস্ত্র তৈরীতে বিশ্বের এক নেতৃ স্থানীয় দেশ, তা সম্ভবতঃ সকলের পছন্দ নয়. তাই প্রায়ই রাশিয়ার কোম্পানী গুলিকে কোন না কোন আইন বা নিয়ম ভঙ্গ করছে বলে অভিযোগ তোলা হয়ে থাকে. কিন্তু টি আর ভি কর্পোরেশন সম্পূর্ণ ভাবেই আইন মেনেই কাজ করে থাকে ও সমস্ত রকমের আন্তর্জাতিক আইন ও বাধা নিষেধ মেনে চলে, এই কথা বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন বরিস অবনোসভ. তাই কর্পোরেশনের প্রধান উল্লেখ করেছেন যে, পশ্চিমের প্রতিযোগীদের কোন রকমের অভিযোগ নিয়ে ভাষণ দেওয়ার আগে উচিত হবে খুবই মনোযোগ দিয়ে টি আর ভি কর্পোরেশনের অস্ত্রের বর্ণনা পড়ে দেখার.