একই সঙ্গে ১১টি রুশ কোম্পানী বিশ্বের সবচেয়ে দামী কোম্পানী গুলির মধ্যে পড়েছে. ফাইনান্সিয়াল টাইমস পত্রিকা প্রতি বছরের মত এবারেও বিশ্বের ৫০০টি বৃহত্তম কোম্পানীর রেটিং তালিকা প্রকাশ করেছে. ভারতের এই ক্ষেত্রে রয়েছে ১৪টি কোম্পানী. রাশিয়ার দেশের কোম্পানীগুলির মধ্যে আগের মতই প্রথম স্থানে গাজপ্রম.

    এই বছরে গাজপ্রম এই সম্মান জনক তালিকায় ১৫তম স্থানে রয়েছে. তাদের বাজারদর বর্তমানে ১৯০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে. এক বছর আগে রাশিয়ার গ্যাসের একচেটিয়া মালিক কোম্পানী ছিল ৩৩তম স্থানে. প্রথম ২০টি কোম্পানীর মধ্যে থাকার অর্থ হল যে, রাশিয়ার ব্যবসা আন্তর্জাতিক বাজারে ওজনদার হয়েছে. এই কথা রেডিও রাশিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে বলেছেন পরামর্শ দাতা কোম্পানী ফিনএক্সপেরটিজা এর ভাইস ডিরেক্টর আগভান মিকায়েলিয়ান:

    "বড় করে দেখলে, এই তালিকা ভুক্তির অর্থ হল যে রাশিয়াতে বড় জোটবদ্ধ কোম্পানী রয়েছে, যার বিশ্বের বাজারে নির্দিষ্ট দাম রয়েছে. এটা বিশ্ব মাপের ক্রীড়নক, যারা বিশ্বের নানা বৃহত্ প্রকল্পে অংশ নিতে সক্ষম. প্রসঙ্গতঃ বিশ্ব অর্থনৈতিক সঙ্কটের আগেও পরিস্থিতি একই রকমের ছিল. আমাদের দেশের কোম্পানী গুলির সম্বন্ধে ধীরে হলেও ইতিবাচক দিকেই মনোভাব পাল্টাচ্ছে. এই নিয়ে কাজ করতে হবে, যাতে আমাদের সম্পূর্ণ অর্থে সহকর্মী বলেই মনে করা হয়".

    গাজপ্রম ছাড়া এই রেটিংয়ে উপরে উঠেছে গ্যাস উত্পাদন কোম্পানী নোভাটেক, যারা গত এক বছরে ১৭৪ ক্রমাঙ্ক পার হয়ে ২০০ তম স্থানে রয়েছে. আগের মতই ২৩৬ নম্বর জায়গায় রয়েছে রাশিয়ার একটি বৃহত্তম ব্যাঙ্ক ভ্নেশতর্গব্যাঙ্ক ভি টি বি. রেটিংয়ে আগের মতই রয়েছে সুরগুতনেফতেগাজ ও নোভোলিপেতস্কি মেটালার্জি কারখানা. কিন্তু এবারে গ্লোবাল ৫০০ তালিকায় খুব কম রাশিয়ার থেকে নতুন কোম্পানী নেই. প্রথমবার এই তালিকায় পড়েছে রসনেফত, যা প্রায় একশ বিলিয়ন ডলারের কোম্পানী ও তার স্থান ৫৬, লুক অয়েল – ১১৮ তম স্থানে. গাজপ্রমনেফত রয়েছে ৩৬৮ তম জায়গায়, আর রাশিয়ার সবচেয়ে বড় সবের ব্যাঙ্ক রয়েছে ৭৩ নম্বর জায়গায়. দুটি মেটালার্জি কারখানা – নরনিকেল ও সেভেরস্তাল রয়েছে এই মর্যাদার রেটিংয়ে. যদিও সমস্ত বড় কোম্পানীই এই ধরনের মর্যাদার রেটিংয়ে জায়গা পায় না, তবুও দেশী ব্যাণ্ড গুলিকে প্রতি বছরের সাথেই আরও বেশী পরিচিত লাগছে. এই বিশ্বাস নিয়ে রাশিয়ার ত্রোইকা ডায়ালগ বিনিয়োগ পরামর্শ দাতা কোম্পানীর সিনিয়র বিশ্লেষক আন্তন স্ত্রুচেনেভস্কি বলেছেন:

    "রাশিয়ার অর্থনীতি বিশ্বের দশটি বৃহত্তম অর্থনীতির মধ্যে পড়ে. কাজেই আমাদের দেশের কোম্পানী গুলি যে সবচেয়ে বড় কোম্পানী গুলির মধ্যে তা স্বাভাবিক. যেমন, এরোফ্লোট – বিদেশী গ্রাহকদের জন্য এখন যথেষ্ট পরিচিত নাম. প্রক্রিয়া চলছে, অর্থনীতি উন্নতি করছে. আমরা সকলেই আরও বেশী করে বিশ্ব অর্থনীতির সমাকলন প্রক্রিয়ায় পড়ব. একই সঙ্গে রুশ কোম্পানী গুলির পরিচিতিও বাড়বে".

    বিশ্বের প্রথম তিনটি কোম্পানীর মধ্যে বড় কোন পরিবর্তন হয় নি. আমেরিকার গ্যাস ও তেল কোম্পানী এক্সোন মোবিল, যার বাজারের দাম গত এক বছরে আরও একশ বিলিয়ন বেড়ে ৪১৬ বিলিয়ন ডলার হয়েছে, তা চিনের তেল ও গ্যাস কোম্পানী পেট্রো চায়নাকে দ্বিতীয় স্থানে সরিয়ে দিয়েছে, তিন নম্বর জায়গায় অ্যাপল কম্পিউটার কোম্পানী. এই জায়গায় আসতে তারা সরিয়ে দিয়েছে তাদের পূর্ববর্তী প্রতিযোগী মাইক্রোসফট্ কোম্পানীকে. তারা এখন দশ নম্বর জায়গায়. রেটিংয়ে দেওয়া হয় বৃহত্তম কোম্পানী গুলিকে, সেখানে বিনিয়োগ কোম্পানী গুলি থাকে না, তাদের মূলধনের উপর ভিত্তি করে, অর্থাত্ শেয়ারের গড় দামের উপরে ভিত্তি করে: শেয়ার বাজারে কোম্পানীর দাম যত বেশী, তত উপরে তাদের রেটিং.