রাশিয়া ইউরোপীয় সংঘকে সম্মিলিত ভাবে আফগানিস্থান থেকে মাদক উত্পাদন ও প্রসার মোকাবিলার জন্য ঐক্যবদ্ধ ভাবে মাদক বিরোধী সংস্থা তৈরী করতে আহ্বান করেছে. এই উদ্যোগ নিয়ে ব্রাসেলস শহরে রুশ রাষ্ট্রীয় মাদক নিয়ন্ত্রণ সংস্থার প্রধান ভিক্তর ইভানভ বক্তৃতা দিয়েছেন. তাঁর মতে বর্তমানে যে কাঠামোতে কাজ হচ্ছে, তা দেশ গুলিকে একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে একই ধরনের রাজনীতি অবলম্বনে সহায়তা করছে না. বিশেষজ্ঞরা এই বিষয়ে একমত কিন্তু তাঁরা সাবধান করে দিয়ে বলেছেন যে, সংস্থা তৈরীর জন্য আইনগত বিষয়ে খুবই বড় রকমের পরিমার্জন করতে হবে ও অনেক অর্থ খরচ করতে হতে পারে.

বিশ্ব সমাজ বর্তমানে আফগানিস্থান থেকে আসা মাদক বিপদের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য নতুন পথ খুঁজছে. স্ট্র্যাটেজি তৈরীর কাজ বিশেষ করে তীক্ষ্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বারাক ওবামার আফগানিস্থান থেকে সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করার পর থেকে. সেখানে নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে ঢিলে দেওয়া হলে, বিশেষজ্ঞদের মতে, হেরোইন উত্পাদনের ক্ষেত্রে বিস্ফোরক উন্নতি দেখা দিতে পারে. ইউরোপীয় সংঘ এমনকি বিশেষ সম্মেলনের আয়োজন করেছিল, যেখানে বিভিন্ন দেশের বিশেষ বাহিনী গুলির কাজকর্মের মধ্যে যোগাযোগ সাধনের সমস্যা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে. এই ধরনের আলোচনায় অন্যতম অংশগ্রহণকারী দেশ রাশিয়া, যে দেশ বর্তমানে বিশ্বে আফিম জাত দ্রব্যের ব্যবহারে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে – ৫৪৯ টন. প্রথম স্থানে রয়েছে সেই ইউরোপীয় সংঘই. রুশ রাষ্ট্রীয় মাদক নিয়ন্ত্রণ সংস্থার প্রধান ভিক্তর ইভানভ ইউরো পার্লামেন্টকে প্রস্তাব করেছেন রাশিয়া ও সংঘের ঐক্যবদ্ধ সংস্থা তৈরী করার, যে সংস্থা আফগান মাদক পাচারের বিরুদ্ধে কাজ কে যোগাযোগের মাধ্যমে করার ব্যবস্থা করবে. এছাড়া বাস্তবিক কোন ফল পাওয়া খুবই কঠিন হবে বলে মন্তব্য করে রাশিয়ার পররাষ্ট্র সামরিক রাজনীতি পরিষদের সদস্য ও রাষ্ট্র মাদক নিয়ন্ত্রণ সংস্থার প্রাক্তন প্রধান আলেকজান্ডার মিখাইলভ বলেছেন:

"রাষ্ট্রসংঘের মাদক ও অপরাধ দপ্তরের সাহায্যের উপরে নির্ভর করা, যারা আজ আমেরিকার প্রকল্প ও আমেরিকার অবস্থানের উপরেই বেশী জোর দিয়েছে, - ইউরোপের জন্য বর্তমানে উচিত হবে না. তা উপরে আমাদের উচিত্ হবে নিজেদের নিরাপত্তা সেই সমস্ত দেশের সাথেই একসাথে বজায় রাখার প্রচেষ্টা করা, যারা আমাদের মহাদেশেই রয়েছে. যদি ইউরো পার্লামেন্ট একই কাঠামো তৈরীর প্রস্তাব মেনে নেয়, তবে, আমি মনে করি যে, এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ সাহায্য হবে এই সমস্যার মোকাবিলাতে. এই ধরনের জোটবদ্ধতার দ্বারা আমরা হয়ত সেই সমস্ত সমস্যার সমাধান বের করতে পারবো, যার মধ্যে আফগানিস্তানও রয়েছে".

আফগানিস্থানের হেরোইন উত্পাদন ও পাচারের পথ রোধে আন্তর্জাতিক সমাজের বর্তমানের স্ট্র্যাটেজি – ফলপ্রসূ নয় বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেছেন. তার উপরে, রাষ্ট্রীয় মাদক নিয়ন্ত্রণ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী এই বছরে আফগানিস্থানে রেকর্ড পরিমানে আফিম সংগৃহীত হতে চলেছে, আর মাদক ব্যবসায়ীদের গোদামে জমা পড়ে রয়েছে প্রায় ১৫ হাজার টন আফিম. ভিক্তর ইভানভ মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, রাষ্ট্রসংঘের মিশন ও আন্তর্জাতিক শক্তি যা আজ আফগানিস্থানের নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য সেখানে রয়েছে, তারা এই ক্ষেত্রে এমন কি এই বিষের চাষ ও ফলনের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্যও দায়িত্ব পায় নি.

বিশেষজ্ঞ আলেকজান্ডার মিখাইলভ মনে করেন যে, রাশিয়া প্রাথমিক অধ্যায়ে ইউরোপীয় সংঘের সঙ্গে একত্রে আইন গুলিকে একই রকমের করতে বাধ্য. তিনি বলেছেন:

"যখন আমরা কাজের মধ্যে যোগ সাধনের কথা বলি, তখন প্রাথমিক ভাবে এটা আইন রক্ষী বাহিনী ও বিশেষ বাহিনীর কাজের মধ্যে যোগের কথাই আসে. যারা মাদকে প্রসারের সঙ্গে লড়াই করতে বাধ্য. প্রতিটি বিশেষ বাহিনীই তাদের আইনের মধ্যেই কাজ করে, প্রত্যেকেরই নিজস্ব রিপোর্ট করার ব্যবস্থা রয়েছে, আর প্রত্যেকেরই রয়েছে নিজস্ব নিয়মের ভিত্তি. আর তারই ফল হিসাবে – বড় মাপের কোন যোগ সাধন সম্ভব হচ্ছে না. মাঝেমাঝে এক আধটা আলাদা অপারেশন করে বিশ্বের মাদক পরিস্থিতিতে কোন লক্ষ্যনীয় পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়".

ভিক্তর ইভানভ ব্রাসেলস শহরে ঘোষণা করেছেন যে, নূতন সংস্থা তৈরী করার জন্য এখনই এই সমস্যার মোকাবিলায় ব্যয় হওয়া অর্থের একাংশ দেওয়া যেতে পারে. এই সংস্থার কাজে অন্য দেশও অংশ নিতে পারে, প্রাথমিক ভাবে সেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রই.