২৮শে জুন রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ ২০১০ সালের জন্য রুশ সংস্কৃতির অগ্রগণ্য যুব ব্যক্তিত্বদের পুরস্কার দিয়েছেন.পুরস্কার পেয়েছেন খুবই সুন্দর এক মহিলা ত্রয়ী – বুরিয়াতি রাজ্যের জাতীয় পুস্তকালয়ের বৈজ্ঞানিক সহকর্মী দারিমা বাজারোভা, ভোলগদা শহরের মহিলা কবি মারিয়া মারকভা ও মস্কোর মহিলা পিয়ানো বাদিকা ইকাতেরিনা মেচেতিনা.

এই তিনজনের মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত – ৩২ বছর বয়সী ইকাতেরিনা মেচেতিনা. মডেলের মতন সুন্দরী ও খুবই কুশলী এই পিয়ানো বাদিকা খুবই মনোগ্রাহী ব্যক্তিত্ব, ইকাতেরিনা, অবশ্যই নিঃসন্দেহে বলা যেতে পারে যে, তাঁর সমবয়সীদের মধ্যে দেশের একজন অগ্রগণ্যা নেতৃস্থানীয়া মহিলা. তাঁকে একেবারে শিশুকাল থেকেই ইউরোপ, আমেরিকা ও এশিয়ার সঙ্গীত পরিবেশকেরা আমন্ত্রণ করে থাকেন.

ইকাতেরিনা মেচেতিনার প্রাপ্ত পুরস্কারের সংখ্যাও কিছু কম নয়, কিন্তু রাষ্ট্রপতি পুরস্কার  - এটা এক বিশিষ্ট পুরস্কার, যা তাঁর মনে কোন কিছু সঙ্গেই তুলনা যোগ্য নয়, এমন এক অনুভূতি নিয়ে এসেছে, যেখানে অকল্পনীয় আনন্দ, বিপুল সম্মান ও বিশাল দায়িত্বের অনুভূতি মিশ্রিত হয়ে গিয়েছে. কিন্তু তার থেকেও বেশী করে তিনি গর্বিত হয়েছেন এই কারণে যে, তাঁকে পুরস্কার দেওয়া হয়েছে রাশিয়ার ঐতিহ্যময় সঙ্গীত শিল্পের উন্নতির ক্ষেত্রে অবদানের জন্য এই কথা "রেডিও রাশিয়াকে" দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে বলে তিনি জানিয়েছেন:

"এটা খুবই সম্মাননীয় শোনায় – আমি সত্যই এই কারণে গর্বিতা যে নিজেকে একজন রুশ সঙ্গীত শিল্পী ও রাশিয়ার কনসারভেটরীর ছাত্রী বলে বলতে পারি. আমার সমস্ত শিক্ষাই হয়েছে মস্কো শহরে এবং নিজেও এই শহরেই থাকি ও কাজ করি. আর হতে পারে যে, এই ক্ষেত্রেই আমার অবদান ঐতিহ্যের উন্নতি ও অগ্রগতির জন্য বিচার্য হয়েছে. আমার সমস্ত শিক্ষকেরাই – মস্কোর বিখ্যাততম সঙ্গীত শিল্পীরা. আর আমি তাঁদের সকলের প্রতিই অত্যন্ত কৃতজ্ঞ তাঁরা আমাকে এই ঘরানায় তালিম দিয়েছেন, আর এবারে আমার দায়িত্ব হবে তা আরও আগে নিয়ে যাওয়ার, অন্যদের দেওয়ার, কারণ আমি নিজেও বর্তমানে মস্কো কনসারভেটরীর শিক্ষিকা. এটা সত্যি কারের বংশ পরম্পরায় চর্চা".

"সংস্কৃতির সাহায্যের প্রয়োজন আছে. আর সরকারের পক্ষ থেকে সহায়তা – এর মধ্যে সবচেয়ে ভাল, যা হতে পারে" – এই বিষয়ে দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে পিয়ানো বাদিকা ইকাতেরিনা মেচেতিনা বলেছেন:

"যদি আমরা বলি অল্প বয়সী সঙ্গীত শিল্পীদের কথা, তবে তাঁদের দরকার সব সময়েই সাহায্যের – কারণ আমরা কিছু নিজেরাই যদি করতে পেরেও থাকি, তা স্বত্ত্বেও আমরা এখনও শিল্পের পথের শুধু শুরুতেই রয়েছি. আর এখানে খুবই প্রয়োজনীয় হয় জানা যে, তোমার শিল্প ক্ষেত্রে উত্কর্ষ লক্ষ্য করা হয়েছে ও রাষ্ট্রীয় স্তরে তার মূল্যও দেওয়া হয়েছে. এটা একেবারে অন্য রকমের নিজস্ব অনুভূতি জাগায়, আর অবশ্যই এক সেকেন্ডের জন্যও তার মানকে নীচু করতে দেয় না. আর আমি খুবই আশা করবো যে, এই পুরস্কার সবচেয়ে প্রধান যা নিয়ে আসবে, তা হল অনেক বেশী পরিমানে মানুষের চাহিদা".

২৯ বছরের মহিলা কবি মারিয়া মারকভা রুশ প্রাচীন শহর ও ক্রুশ কাঁটায় শিল্প সৃষ্টি যাঁরা করেন সেই মহিলা হস্ত শিল্পীদের শহর, তাঁকে রাষ্ট্রপতি পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে পিয়ানো বাদিকা মেচেতিনার মতই "ঐতিহ্যের উন্নতিতে অবদানের জন্যই" – অবশ্যই তা রুশ কবিতার ঐতিহ্যের ক্ষেত্রেই. মারিয়া – দুটি কাব্য সংগ্রহের লেখিকা.

দারিমা বাজারোভা সাইবেরিয়ার বুরিয়াতি রাজ্যের মহিলা, তিনি সেখানকার জাতীয় রাজ্য গবেষণা পুস্তক সংগ্রহশালার দলিল সংক্রান্ত কেন্দ্রের প্রধান, আর তাঁর সহকর্মীদের থেকে তিনি আলাদা করে যে কাজ করেছেন, তা রাষ্ট্রপতির প্রদত্ত পুরস্কার দিয়ে উল্লেখ করা হয়েছে "আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে অবদানের জন্য". তিনি তাঁর এই "একবিংশ শতকের আধুনিক প্রযুক্তি" অবদান ব্যবহার করে বুরিয়াতি রাজ্যের ইতিহাস ও সংস্কৃতির উত্তরাধিকার সংরক্ষণের ব্যবস্থা করেছেন অর্থাত্ ঐতিহ্যকে রক্ষা করেছেন. দারিমা "বুরিয়াতি রাজ্যের পুস্তকের ইতিহাস" তৈরী করেছেন, যাঁর ফলে সাংখ্যিক উপায়ে সংরক্ষিত হয়েছে বহু প্রাচীন পুঁথি ও গ্রন্থ এবং সেই গুলি দিয়ে এই রাজ্যের উন্নতির সম্পূর্ণ ইতিহাস প্রতিফলিত হয়েছে.

এই পুরস্কারের প্রাপকেরা তাঁদের জন্য নির্মিত বিশিষ্ট পদক ছাড়াও পাচ্ছেন আড়াই মিলিয়ন রুবল করে (প্রায় ৯০ হাজার ডলার).