ভ্লাদিভস্তকে এশিয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষবৈঠকের প্রস্তুতি শেষ হওয়ার পথে, যা ২০১২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে এখানে হতে চলেছে. এখন থেকে এক বছরেরও কম সময়ে এই শহরের পরিকাঠামো সম্পূর্ণ ভাবে তৈরী হয়ে যাবে রাশিয়াতে প্রথম এশিয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষবৈঠকের জন্য.

    বাস্তবে এই শহর বর্তমানে দ্বিতীয় বার নতুন করে জন্ম নিচ্ছে. ২০১২ সালের আগে ভ্লাদিভস্তকে থাকবে নূতন বাড়ি ঘর, হোটেল, ব্যালে ও অপেরা থিয়েটার, সামুদ্রিক অ্যাকোরিয়াম, সামুদ্রিক বন্দর হবে নতুন করে তৈরী করা ও বিমান বন্দরের আন্তর্জাতিক টার্মিনালও হবে নতুন. কিন্তু এই সব কিছুর মধ্যে সবচেয়ে মূখ্য ও দীর্ঘ প্রতীক্ষিত প্রকল্প হল রুস্কি দ্বীপ পর্যন্ত সেতু. এই সেতুর ৩০১৪ মিটার সম্মিলিত দৈর্ঘ্যের মধ্যে একটি অংশ হবে ১১০৪ মিটার লম্বা, যা বিশ্বে সবচেয়ে বড়. ভ্লাদিভস্তক ও দ্বীপের মধ্যে যোগাযোগ বর্তমানে রয়েছে স্টীমার যোগে. দুটি নতুন সেতু শহরের কেন্দ্রে তৈরী হয়ে গেলে শহরের যান জটের সমস্যাও দূর হবে.

    এই সংস্থার শীর্ষ বৈঠকের আয়োজন শুধু বাজেটের অর্থ থেকেই করা হয় নি. এখানে সরকারি অর্থের পরিমান ছিল সমস্ত বিনিয়োগের একের তৃতীয়াংশের কিছু বেশী, বাকি অর্থ দিয়েছে ব্যক্তিগত মালিকানার কোম্পানী গুলি.

    আজ প্রথম রাশিয়াতে ও ২৪ তম এশিয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা সংস্থার সম্মেলনের আয়োজনের কাজে হাত লাগিয়েছেন প্রায় তিরিশ হাজারেরও বেশী কর্মী: তাদের মধ্যে দুয়ের তৃতীয়াংশ প্রিমোরস্ক ও দেশের অন্যান্য অঞ্চলের লোক, বাকিরা মধ্য এশিয়ার প্রতিনিধি, কম করে চিন ও দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিকেরা. তাঁদের জন্য এই শীর্ষ সম্মেলন হওয়ার পরেও কাজ থাকবে প্রচুর. প্রিমোরস্ক অঞ্চলে দুটি জাহাজ নির্মাণের ডক তৈরীর কাজ শুরু হয়েছে, লঘু শিল্পের জন্য তৈরী হচ্ছে বহু প্রযুক্তি পার্ক. কোরিয়ার হোন্ডাই কর্পোরেশন এখানে ট্রান্সফর্মার তৈরীর কারখানা খুলছে, খোলা হচ্ছে ক্যাসিনো অঞ্চল, প্রথম কিছু ছাড়পত্র এর মধ্যেই দেওয়া হয়ে গিয়েছে.

রাজ্যপাল সের্গেই দারকিন উল্লেখ করেছেন: "একবিংশ শতকের অর্থনৈতিক উন্নতির গতি পথ হয়েছে এশিয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল. আর আমাদের উচিত্ হবে নিজেদের ভূ রাজনৈতিক অবস্থানের ব্যবহার করা. ২০১২ সালের পরে প্রিমোরস্ক অঞ্চলের নিজস্ব ভূমিকা খুবই বদলে যাবে. তা হবে রাশিয়ার অর্থনীতির এক এগিয়ে থাকা কেন্দ্র থেকে দূরবর্তী এশিয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল বলে গুরুত্বপূর্ণ. তারই সঙ্গে প্রিমোরস্ক অঞ্চল – ইউরোপীয় সভ্যতারও এক সুদূর অগ্রণী কেন্দ্র হবে এই এশিয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের জন্য. এটাও আমরা যেন ভুলে না যাই".

সমস্ত পরিকাঠামো সংক্রান্ত জায়গা গুলিই এশিয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ বৈঠক উপলক্ষে ২০১২ সালের মাঝামাঝির আগেই তৈরী হয়ে যাচ্ছে.