পারমানবিক কেন্দ্র গুলির নিরাপত্তা মান হওয়া উচিত্ সব দেশেই একই রকমের. এই ধরনের দাবী করে ইউরোপীয় পরিষদের প্রতিনিধিরা এক ঘোষণা করেছেন. তাঁরা ইউরোপীয় সংঘের বাইরের প্রতিবেশী দেশ গুলিকে প্রস্তাব করেছেন পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র গুলির পরিদর্শন সংক্রান্ত এক সারি যৌথ কর্মসূচীর. রসঅ্যাটম কর্পোরেশনের বিশেষজ্ঞরা বলেছেন যে, এই ক্ষেত্রে রাশিয়ার অভিজ্ঞতা এক বিশেষ ভূমিকা নিয়েছে. প্রথমতঃ, কারণ দেশের ভিতরের নিয়ন্ত্রণের মানদণ্ড অনেক ক্ষেত্রেই ইউরোপের চেয়েও কঠোর.

জুন মাসের মাঝামাঝি সময়ে জ্বালানী শক্তি বিষয়ে ইউরোকমিসার গ্যুন্টার ওট্টিনগের রাশিয়া, আর্মেনিয়া, বেলোরাশিয়া, ক্রোয়েশিয়া, সুইজারল্যান্ড, তুরস্ক ও ইউক্রেনের প্রতিনিধিদের জাপানের ফুকুসিমা – ১ পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রের ট্র্যাজেডি ও দূর্ঘটনার পরে তৈরী করা সহ্য ক্ষমতা পরীক্ষা গুলির সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন. দেশগুলি ইউরোপীয় পরিষদের পরামর্শ অনুযায়ী পুরনো ও নতুন প্রকল্প করা হচ্ছে এমন পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র গুলির পরীক্ষা করার সময়ে পদ্ধতি অনুসরণ করার বিষয়ে সহমতে এসেছে, এই কথা বলে রাষ্ট্রীয় "রসঅ্যাটম" কর্পোরেশনের যোগাযোগ দপ্তরের ডিরেক্টর সের্গেই নোভিকভ বলেছেন:

"রাশিয়ার জন্য বিশেষ ভাবে তৈরী সম্মিলিত ঘোষণাপত্রে একটি অনুচ্ছেদ যোগ করা হয়েছে যে, যদি কোন দেশ এর মধ্যেই সহ্য ক্ষমতা পরীক্ষা করে থাকে, তবে আরও একবার করার কোনও দরকার নেই. এই অনুচ্ছেদ লেখার কারণ হল যে, রাশিয়া এর মধ্যেই সহ্য ক্ষমতা পরীক্ষা করে পেলেছে ও তার ফলাফল পর্যবেক্ষক সংস্থাকে দিয়েছে. তারই মধ্যে রাশিয়া প্রজাতন্ত্র ও রসঅ্যাটম অংশতঃ, ইউরোপীয় পরীক্ষার পদ্ধতি আগামী পরীক্ষার সময়ে খেয়াল করে দেখবে. তাছাড়া সমস্ত পক্ষই চুক্তি করেছে যে, এই কাজের ক্ষেত্রে একে অপরের ফলাফল বিনিময় করবে ও এমনকি বিদেশী বিশেষজ্ঞদের পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র পরীক্ষার সময়ে অংশ নিতে দেবে".

ইউরোপীয় সংঘ নিজেদের পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র পরীক্ষা করে দেখতে শুরু করেছে ১লা জুন. কয়েক অধ্যায়ে এটা করার কথা হয়েছে. প্রথমে সহ্য ক্ষমতা পরীক্ষা করে দেখবে পারমানবিক কেন্দ্র গুলির নিয়ন্ত্রণকারী লোকেরা নিজেরাই, তারপরে স্বাধীন রাষ্ট্রীয় সংস্থা থেকে পরীক্ষা করা হবে, যাঁরা নিজেদের দেশের পারমানবিক নিরাপত্তার বিষয়ে দায়িত্ব নিয়েছেন. ১৫ই সেপ্টেম্বরের মধ্যে নিজেদের সিদ্ধান্ত তাঁরা পেশ করবেন একদল স্বাধীন পর্যবেক্ষকদের কাছে. তারপরে এই তথ্য ইউরোপীয় পরিষদে আসবে. তারপর ইউরোপের পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র গুলির নিরাপত্তা সংক্রান্ত সম্মিলিত ফলাফল ইউরোপীয় সংঘের শীর্ষবৈঠকের সময়ে নেতাদের সামনে পেশ করা হবে.

"ফুকুসিমা" কেন্দ্রের বিপর্যয়ের আগের চেয়ে, বর্তমানের পরীক্ষার মানদণ্ড যথেষ্ট কঠোর: ভূমিকম্পের বিপদের ক্ষেত্রে রিখটার স্কেলে ছয় অঙ্কের চেয়ে বেশী মাত্রায় ভূমিকম্প সহ্য করার ক্ষমতা পরীক্ষা করা হবে. ভূমিকম্প ও সুনামি ব্যতিরেকে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মধ্যে এখন প্রবল ঠাণ্ডা ও গরমকেও ধরা হচ্ছে. মানুষ কৃত বিপর্যয়ের মধ্যে পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রের মধ্যে বিমান দুর্ঘটনারও মডেল করে দেখা হচ্ছে. পরীক্ষার মানদণ্ড কঠোর করা স্বত্ত্বেও রাশিয়ার নিরাপত্তার মান থেকে তারা এখনও অনেক দূরে রয়েছে, এই কথা উল্লেখ করে সের্গেই নোভিকভ বলেছেন:

"ব্যাপারটা হল যে, আমরা ইউরোপীয় সংঘের চেয়ে এক পা এগিয়ে রয়েছি. আমাদের পরীক্ষা গুলি আরও বিশাল পরিমানে বিষয় নিয়ে করা হয়ে গিয়েছে. আমাদের কেন্দ্র গুলি এমনকি সন্ত্রাসবাদী হামলার সম্ভাবনা নিয়েও পরীক্ষা করা হয়েছে. অর্থাত্ আমাদের জন্য মান অনেক বেশী জটিল, যা এই বারে পরীক্ষার সময়ে দেখা হয়েছে. সুতরাং আমাদের এর থেকে সহজ পদ্ধতিতে, যা আজ ইউরোপীয় সংঘ প্রস্তাব করেছে, তা দিয়ে পরীক্ষা করে দেখার কোন অর্থই হয় না".

রাশিয়ার পারমানবিক কেন্দ্র গুলি সমস্ত ধরনের নিরাপত্তা সংক্রান্ত দাবী নিয়ম মেনে চলে ও সেখানে যথেষ্ট পরিমানে সঙ্কট কালীণ সময়ের প্রয়োজনে আলাদা করে চালানোর মত যন্ত্রপাতি রয়েছে, এই কথা উল্লেখ করেছেন রসঅ্যাটম সংস্থার প্রধান সের্গেই কিরিয়েঙ্কো. নতুন যে সমস্ত পারমানবিক কেন্দ্রের পরিকল্পনা করা হচ্ছে তা নয় মাত্রার ভূমিকম্প সহন ক্ষমতা রাখে, সুনামি ও ৪ টন ওজনের বিমান পতনও প্রতিরোধ করতে পারে.