আজ মস্কো উপকণ্ঠে রুশ রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভের সভাপতিত্বে সবুজ প্রযুক্তি ও পরিবেশ সংরক্ষণ সংক্রান্ত নিয়মাবলী নিয়ে আলোচনা হয়েছে অর্থনীতির আধুনিকীকরণ ও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন পরিষদের সভায়. প্রসঙ্গতঃ রাষ্ট্রপ্রধান ঘোষণা করেছেন যে, এই সমস্ত নিয়মাবলী পালন যেন ব্যবসায়ের পক্ষ থেকে কোন ভাবেই সামাজিক ক্ষতির দায় বলে যেন না দেখা হয়. এটা – বিশ্বের বাজারে দেশে তৈরী পরিষেবা ও জিনিসপত্রের প্রতিযোগী হওয়ার মতো ক্ষমতার বৃদ্ধি করার একটি পথ মাত্র.

সবুজ প্রযুক্তি উত্পাদনে অনুপ্রবেশ ঘটানো একটি বাস্তব প্রয়োজন, যার জন্য দরকার বড় মাপের খরচ করার. কিন্তু সেই গুলি কম করারও পথ রয়েছে বলে দিমিত্রি মেদভেদেভ বিশ্বাস করেন.

সম্ভবতঃ পরিবেশের জন্যে ক্ষতিকারক জিনিসের উপযোগ করার জন্য অর্থ সংগ্রহ করা যেতে পারে. যদি এই ধরনের কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তবে সেই অর্থ লক্ষ্য স্থির করে পরিবেশ বান্ধব প্রযুক্তি ও অর্থ সংগ্রহের পরিকাঠামো এবং বর্জ্য পদার্থ উপযোগ করার কাজে ব্যবহার করতে হবে. আর দেশের রাজ্য গুলিকে ও প্রশাসনকে এই ধরনের প্রযুক্তি উত্পাদনে ব্যবহারের জন্য উত্সাহিত করতে হবে.

এছাড়া আরও কয়েকটি সম্ভাবনাময় প্রকল্পও রয়েছে, যেগুলির জন্য আসন্ন ভবিষ্যতে শক্তি প্রয়োগ করতে হবে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি.

"এটা সেই ধরনের লক্ষ্য করার ব্যবস্থা যা মহাকাশ থেকে উপগ্রহের মাধ্যমে করা সম্ভব হয়. উপগ্রহ গুলির তত্পরতার কারণে বর্তমানে শুধু এই ধরনের তথ্য সংগ্রহ করাই সম্ভব হচ্ছে না, বরং পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর জিনিসের এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাওয়াও নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে, বনের পরিস্থিতি ও হিমবাহের অবস্থা, পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রের কাজের উপরে লক্ষ্য করা সবই. কিন্তু মহাকাশের ব্যবস্থা ব্যবহার করার জন্য যথেষ্ট অর্থের প্রয়োজন. সেই প্রসঙ্গেই এই ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত বিনিয়োগকে আগ্রহজনক করার কাজে আইন সঙ্গত ও কাঠামোগত শর্ত তৈরী করা দরকার ও সরকার ও ব্যক্তিগত মালিকানার যৌথ উদ্যোগে এই কাজ করা দরকার".

এখানে প্রয়োজন হল দেশে "সবুজ" প্রযুক্তি উদ্ভূত শক্তি উত্পাদনের প্রতি মনোযোগ দেওয়া দরকার, যা আজ রাশিয়াতে খুবই কম, তাই রাষ্ট্রপতি মেদভেদেভ বলেছেন:

"আমাদের ঐতিহ্যগত জ্বালানীর কাঁচামাল আছে সুপ্রচুর, কিন্তু প্রয়োজন হল সক্রিয়ভাবে এই দিকেই এগিয়ে যাওয়া ও সবচেয়ে বেশী করে বিকল্প শক্তি উত্পাদনের ব্যবস্থাকে ব্যবহার করা, তা যেমন শিল্পের ক্ষেত্রে, তেমনই ঘর বাড়ী গরম রাখা ও পরিষেবার কাজে. মনে করিয়ে দিই যে, আজকের দিনে তেল, গ্যাসের উত্পাদন ও জ্বালানী শক্তি উত্পাদনে বিশ্বের সমস্ত দূষণের অর্ধেক করা হচ্ছে. পরিবেশে ছাড়া হচ্ছে বিষাক্ত পদার্থ".

দিমিত্রি মেদভেদেভ আরও প্রস্তাব করেছেন কয়েকটি রাজ্যকে পুর পরিবহন পরিষেবাতে সস্তা বিদ্যুত চালিত যান ব্যবহার করার ও একাধারে বিদ্যুত ও পেট্রোল চালিত সম্মিলিত ইঞ্জিনের গাড়ী ব্যবহারের. এই ধরনের পরিবর্তন হলে পরিবেশে বিষাক্ত পদার্থের পরিমান অনেকটাই কমে যাবে. বিশেষ করে মনোযোগ দেওয়া দরকার পারমানবিক ক্ষেত্রেও, তাই রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেছেন যে:

"রাশিয়ার উচিত্ হবে পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রে ব্যবহৃত রিয়্যাক্টর গুলিকে আরও নিরাপদ করে তোলার. পারমানবিক বর্জ্য পদার্থকে উপযোগী করে তোলার জন্য খুবই গভীর গবেষণা করার প্রয়োজন রয়েছে. পারমানবিক কেন্দ্র তৈরী করতে গিয়ে আমরা যেন বুঝতে পারি, যে তার উত্তরাধিকার নিয়ে আমরা কি করবো".

প্রসঙ্গতঃ জাপানের বিপর্যয়ের পরে বাস্তবেই রাশিয়াতে সমস্ত পারমানবিক কেন্দ্র গুলিকে পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে. আর এই পরিষদের সিদ্ধান্ত রসঅ্যাটমের প্রধান সের্গেই কিরিয়েঙ্কোর নেতৃত্বে ছিল একই অর্থবহ: তা হল সমস্ত পারমানবিক কেন্দ্রই যে কোন ধরনের বিপর্যয় সহ্য করতে পারবে. তা ছাড়া রাশিয়াতে বর্তমানে পারমানবিক কেন্দ্রের প্রকল্প রয়েছে, যা ইউরোপীয় সংঘের দ্বারাও স্বীকৃত, যেখানে ফুকুসিমা দূর্ঘটনার সম্ভাবনাকেও মনে রেখে তৈরী করা হয়েছে. এই তথ্য দিয়েছেন রসঅ্যাটমের প্রধান.