প্যালেস্টাইনের নেতৃত্ব স্থির করেছে রাষ্ট্রসংঘের সেপ্টেম্বর মাসের সাধারন সভায় নিজেদের এলাকার স্বাধীনতা স্বীকার নিয়ে সিদ্ধান্ত আদায় করতে. এখানে ইজরায়েলের সঙ্গে চুক্তিতে আসার সম্ভাবনাকেও বাদ দেওয়া হয় নি. কিন্তু এই স্বয়ং শাসিত অঞ্চলের নেতা মাহমুদ আব্বাসের কথামতো, এই মুহূর্তে কোন রকমের গ্রহণ যোগ্য ফরমুলা, যার উপরে নির্ভর করে ইজরায়েলের সঙ্গে কথাবার্তা চালু হতে পারে, তা পেশ করা হয় নি.

    প্যালেস্টাইন ও ইজরায়েলের আলোচনা, যা গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে শুরু হয়েই আবার বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, তা কোথাও উপস্থিত করতে পারে নি. পক্ষেরা প্যালেস্টাইনের এলাকায় ইজরায়েলের গৃহ নির্মাণ স্থগিত করা নিয়ে কোন সহমতেই আসতে পারে নি. কিন্তু এটা শুধু সেই টুকুই যা দৃশ্যমান. বাস্তবে তখনকার আলোচনা, যা ওয়াশিংটনের উদ্যোগে শুরু করা হয়েছিল, তা কোনও নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে ঠিক করাই ছিল না. ফলে দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেই আলোচনার বদলে সময় কাটিয়েছে. প্যালেস্টাইন এই জায়গা দখলের বিষয়টি ছাড়া দাবী করেছিল ১৯৬৭ সালের সীমান্ত অনুযায়ী ফিরে দেখতে, উদ্বাস্তুদের প্রত্যাবর্তন ও নিজেদের ভবিষ্যতের রাজধানী হিসাবে পূর্ব জেরুজালেমকে চেয়েছে. ইজরায়েলের লোকেরা জোর দিয়েছে প্যালেস্তিনীয়দের কাছ থেকে নিজেদের দেশের নিরাপত্তা গ্যারান্টি পাওয়ার ও নিজেদের দেশকে ইহুদীদের দেশ বলে মেনে নেওয়ার. আসলে এই আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর থেকেই প্যালেস্তিনীয় লোকেরা নিজেদের দেশের স্বাধীনতা স্বীকারের জন্য রাষ্ট্রসংঘের প্রতি সম্ভাব্য আবেদন নিয়ে কথা শুরু করেছিল.

    এই ধরনের ধারণা প্যালেস্টাইন দেশের নেতৃত্বের চিরকালই ছিল. কিন্তু আগে তাদের আটকে রাখা সম্ভব হয়েছিল ইজরায়েলের লোকেদের সঙ্গে সম্ভাব্য ভবিষ্যত আলোচনা দিয়ে. কিন্তু দ্রুত স্বাধীনতা অর্জনের আশা বাস্তবে পরিনত করা সম্ভব হয় নি. এখন প্যালেস্তিনীয়রা ঘোষণা করেছে যে, তারা শুধু ১৯৪৭ সালের রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্তের দ্বিতীয় ভাগটি বাস্তবায়িত করতে চায়, যেখানে দুটি দেশ ইহুদী ও আরব দেশ গঠনের কথা বলা হয়েছিল. বোঝাই যাচ্ছে যে, রাষ্ট্রসংঘের কাছে মাহমুদ আব্বাসের আবেদনের ধারণা – এক নিজস্ব ধরনের ঘুঁটি, যা ব্যবহার করে তিনি ইজরায়েলের কাছ থেকে ছাড় আদায় করতে চান. কারণ এমনকি পশ্চিমেও এই বিষয়ে অর্থাত্ সম্ভাব্য প্যালেস্টাইন দেশের স্বাধীনতা ঘোষণা নিয়ে সবাই এক মতে আসতে পারে নি. ফ্রান্স প্যালেস্টাইনের নেতৃত্বের উদ্যোগকে সমর্থন করেছে. আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, জার্মানী ও নেদারল্যান্ড বিরুদ্ধে মত দিয়েছে. কিন্তু রাষ্ট্রসংঘের সাধারন সভাতে এই ধরনের প্রশ্নের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকে সাধারন ভাবে বেশী ভোটের উপরেই নির্ভর করে. এমনকি ইজরায়েলের পররাষ্ট্র দপ্তরেও স্বীকার করা হয়েছে যে, খুব কম করে হলেও ১১৮ রাষ্ট্রসংঘের সদস্য দেশ এই প্যালেস্টাইনের স্বাধীনতার স্বপক্ষেই ভোট দেবে. এর পরে কি হতে চলেছে, "রেডিও রাশিয়াকে" মস্কোর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ইরিনা জ্ভিয়াগেলস্কায়া ব্যাখ্যা করে বলেছেন:

    "প্যালেস্তিনীয় দেশের স্বাধীনতা স্বীকার এক রকম ভাবেই দেখার দরকার নেই. তা কেন?  কারণ সকলেই দেখতে পাচ্ছে যে, প্যালেস্তিনীয় প্রশাসনের জন্য তাদের এলাকা স্বীকার করে নেওয়া হলে, খুব কিছু বদল হবে না. আর লোকেরা আরও একবার ভাববে যে, তাদের ঠকানো হয়েছে. হ্যাঁ, এখন এটা রাষ্ট্র বলা হবে, কিন্তু তা হলে কি হবে? আমার মতে ইজরায়েলের সঙ্গে আলোচনা না করে সমস্যা সমাধান করা সম্ভব হবে না".

    বিশেষজ্ঞরা খুবই সন্দেহের সঙ্গে প্যালেস্টাইনের এই উদ্যোগের মূল্যায়ণ করেছেন. তার উপরে বর্তমানের পরিস্থিতিতে, যখন আরব দুনিয়াতে এক সার বিপ্লব চলেছে, তখন প্যালেস্টাইনের সমস্যার প্রতি আগ্রহ কমে যেতেই পারে. আর এর অর্থ হল, প্যালেস্টাইনের জন্য দান বন্ধ হতেই পারে, এই কথা মনে করে নিকট প্রাচ্য ইনস্টিটিউটের সভাপতি ইভগেনি সাতানোভস্কি বলেছেন:

    "প্যালেস্তিনীয় সমস্যার সমাধান হয় নি. রাষ্ট্র তৈরী হয় নি. তহবিলের অর্থ প্রায় সবটাই তছরুপ হয়ে গিয়েছে. প্রসঙ্গতঃ এখানে যে ধরনের পরিমান অর্থের কথা হচ্ছে, তা দিয়ে ইউক্রেনের মতো একটা বড় রাষ্ট্র গঠন করা সম্ভব. কিন্তু আন্তর্জাতিক স্বীকৃতী পেলে, আন্তর্জাতিক ফোরামে যাওয়া, আন্তর্জাতিক সংস্থা গুলিতে থাকতে পারা আর, যা প্রধান হল, প্রতি বছরে কয়েক বিলিয়ন ডলার করে পেতে প্যালেস্টাইনের নেতৃত্ব অবশ্যই চায়. রাষ্ট্রসংঘের সাধারন সভাতে একটা সুন্দর করে প্রচারের পদক্ষেপ নিলে ও যে রাষ্ট্র নেই তার আবার একবার স্বীকৃতী পাওয়া গেলেই চলবে. খুবই বোঝার মত পরিস্থিতি, যদি হিসাবের মধ্যে ধরা হয় যে, তথাকথিত আরব বসন্ত প্যালেস্তিনীয়দের সমস্ত ভবিষ্যতের আশায় ছাই ঢেলেছে, ওরা এখন খুব কম লোকের জন্যই আগ্রহজনক".

    এই ধরনের দৃষ্টিকোণ খুব চরমপন্থী দেখালেও তা কিন্তু থাকার অধিকার রাখে. প্যালেস্তিনীয় সমস্যা আজ বেশ কয়েক দশক ধরেই চলছে. আর শক্তি প্রযোগ স্বত্ত্বেও আজও এই দিকচিহ্ণ হীণ সমস্যা থেকে বের হওয়ার মতো কোন পথ দেখতে পাওয়া যায় নি.