কর্কট রোগ, মধুমেহ, হৃদরোগ ও ফুসফুসের রোগ. এই রোগ গুলির কারণে বিশ্বে সবচেয়ে বেশী মানুষ প্রাণ হারান. রাষ্ট্রসংঘের বিশেষজ্ঞরা অনুমান করেছেন যে, ২০৩০ সালের মধ্যেই সংক্রামক নয় এমন রোগ থেকে বিশ্বে পাঁচ কোটি ২০ লক্ষ লোক প্রাণ হারাবেন.

    এই ধরনের অসুখ থেকে বিশ্বের দুই তৃতীয়াংশ লোকই মারা যান প্রতি বছরে. বিশ্ব অর্থনীতিতে এর ফলে ক্ষতির পরিমান প্রতি বছরে ট্রিলিয়ন ডলারে হিসাব করতে হয়. এই ভয়ঙ্কর চার রোগ বিশ্বে মহামারীর আকার নিয়েছে. আর এটা আজ ঘটে নি, শুরু হয়েছিল প্রায় তিরিশ বছর আগে, যখন মৃত্যুর মূখ্য কারণ হিসাবে এই রোগ গুলিই প্রধান হয়ে দাঁড়িয়েছিল. এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার লোকসভার স্বাস্থ্য সংরক্ষণ পরিষদের সহসভাপতি নিকোলাই গেরাসিমেঙ্কো বলেছেন:

    "এটা জীবনের চরিত্র বদলের জন্যই ঘটেছে, খাদ্যাভ্যাস, কূঅভ্যাস, তামাক সেবন. কম চলাফেরা করা. আর যখন এই সব কিছু মূল্যায়ণ করা দেখা হয়েছে, সর্ব ক্ষেত্রেই শুরু করা হয়েছে তামাক সেবন, মদ্য পান ও দ্রুত গ্রহণ যোগ্য খাবারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম".

    আজ হৃদরোগ ও রক্তচাপ জনিত রোগে রাশিয়ার শতকরা ৫৭ ভাগ লোক কষ্ট পাচ্ছেন. প্রায় ১৫ শতাংশ লোকের কর্কট রোগ. কিন্তু আমরা বর্তমানে জাতির সুস্থ হওয়া দিকেই এগিয়ে যাচ্ছি, এই কথা মনে করেন নিকোলাই গেরাসিমেঙ্কো. রাশিয়াতে তামাক সেবনের মোকাবিলাও করা হচ্ছে, তাই তিনি বলেছেন:

    "আমাদের দেশে আজ ১০ বছর ধরে এই বিষয়ে আইন রয়েছে. বর্তমানে তাতে আলাদা করে কিছু সংশোধন আনা হচ্ছে সামাজিক জায়গা গুলিতে তামাক সেবন বন্ধ করা ও তামাক সংক্রান্ত জিনিসের উপরে প্রচার ও বিক্রয় বন্ধ করা. আমরা স্বাস্থ্য সম্মত খাবার নিয়েও প্রচার করছি. বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্য কেন্দ্র খোলা হচ্ছে, কিন্তু আমরা এখনও এই পথের শুরুতে রয়েছি".

    অস্বাস্থ্যকর খাদ্য, কম চলাফেরা, কূঅভ্যাস – বিশ্বে বিশাল হারে মৃত্যুর জন্য একমাত্র কারণ নয়. বিশেষজ্ঞরা মানেন যে, এখানে নির্দিষ্ট ভূমিকা পালন করে বিশ্বের জন সংখ্যায় বৃদ্ধ বৃদ্ধার পরিমান বাড়া ও শহরে বসবাসের পরিমান বাড়ার মতো নির্দিষ্ট কারণ গুলিও.

    এর থেকে রক্ষা পাওয়ার প্রেসক্রিপশন আমাদের বিশ্বের মতই পুরাতন. কতবার এই বিশ্বকে বলা হয়েছে সুস্থ ভাবে জীবন যাপন করতে, আর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আজও বাধ্য হয়ে সমস্ত ঘন্টা একসাথে বাজিয়ে চলেছে.