আগামী বছরেই বিশ্বের প্রয়োজনের হিসাবে প্রাকৃতিক গ্যাস জ্বালানী হিসাবে কমই পাওয়া যাবে. এই সম্বন্ধে ঘোষণা করেছে এই বিষয়ে বিশ্বের একটি নেতৃস্থানীয় গবেষণা কোম্পানী উড ম্যাকেঞ্জী. বিশেষজ্ঞরা অবশ্য এই ভবিষ্যদ্বাণীর তর্ক সাপেক্ষ অংশের উপরে নির্দেশ করেছেন. অংশতঃ তা একেবারেই রাশিয়ার প্রাকৃতিক গ্যাস বিশ্বের বাজারে রপ্তানিকে হিসাবের মধ্যে ধরে নি.

    উড ম্যাকেঞ্জী কোম্পানীর বিশেষজ্ঞরা সম্ভাব্য যোগানের অভাব সম্বন্ধে কয়েকটি কারণ দেখিয়েছেন. প্রথমতঃ, এটা জাপানের বিপর্যয়, যার ফলে এই দেশে তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের আমদানী সবচেয়ে বেশী পরিমানে করা শুরু হয়েছে. এর ফলে ইউরোপে গ্যাস সরবরাহ কমে যাবে. আর প্রাচীন এই সভ্যতায় একই সাথে আরও বেশ কয়েকটি দেশের পারমানবিক শক্তি থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া যে কোন রকমের গ্যাসের চাহিদাকেই আরও বৃদ্ধি করবে. জটিল অবস্থা রয়েছে নিকট প্রাচ্যে ও উত্তর আফ্রিকায়, যেখানে বহু গ্যাস রপ্তানী কারক দেশই রয়েছে. কিন্তু বিশেষজ্ঞরা এই ধরনের পূর্বাভাসের সম্বন্ধে খুবই সন্দেহ প্রকাশ করেছেন. এই ধরনের বিশ্বে গ্যাসের সরবরাহের অভাবকে কিছুটা আতঙ্ক সৃষ্টিকারী সিদ্ধান্ত বলে উল্লেখ করে "রেডিও রাশিয়াকে" দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে রাশিয়াতে ডয়েশ ব্যাঙ্কের প্রধান অর্থনীতিবিদ ইয়ারোস্লাভ লিসভোলিক বলেছেন:

    "এই পূর্বাভাসে বেশ কিছু নির্দিষ্ট জিনিসের অভাব রয়েছে, যা বিশ্বের অর্থনীতির পরিস্থিতি ও জ্বালানীর সর্বমোট চাহিদার সঙ্গে জড়িত. এই ধরনের পরিস্থিতিতে পূর্বাভাসের ভুল খুবই অর্থবহ হয়ে থাকে. আমরা এই বছর ও আগামী বছরে বিশ্ব অর্থনীতিতে উন্নতির গতিকে শতকরা চার শতাংশের বেশী হবে বলে অনুমান করেছি. আর আমাদের কাছে মনে করার ভিত্তি রয়েছে যে, কিছু ঘাটতি হতেই পারে. কিন্তু আমি মনে করি না যে, তা খুব বড় আকারে হবে".

    উড ম্যাকেঞ্জী বিশ্বের কার্বন যৌগের বাজারে ভারসাম্য হারানো নিয়ে এই প্রথমবার পূর্বাভাস করছে না. একই সঙ্গে এই কোম্পানী খুবই বিস্ময়জনক জোর দিয়ে পূর্বাভাস দিয়েছে অপ্রচলিত গ্যাসের উত্পাদন বৃদ্ধিতে – অর্থাত এই ভাবেই না কি বিশ্ব সম্ভাব্য সঙ্কট থেকে উদ্ধার পাবে. যেমন, চিনের জন্য করা হয়েছিল কয়লা খনি থেকে উত্পাদিত মিথেন গ্যাস নিয়ে এক বিপুল পূর্ব সম্ভাবনা, যা এই দেশে প্রচুর. কিন্তু উড ম্যাকেঞ্জী কোম্পানীর বিশ্লেষকেরা পছন্দ করেছেন এই প্রকল্পের জন্য বিশাল খরচ ব্যাপারটি লক্ষ্যের মধ্যে না আনতে. একই ভাবে তাদের ধাক্কা থেকেই পূর্ব ইউরোপে শুরু হয়েছিল শেল গ্যাস নিয়ে মাতামাতি, বিশেষত পোল্যান্ডে. এই ধরনের পূর্বাভাস নিয়ে খেলা যে কি বিশাল আকারের পরিবেশ দূষণ সংক্রান্ত বিপর্যয়ে পরিনত হতে পারে, তার পরিমান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া রাজ্যের শেল গ্যাস উত্পাদনের প্রক্রিয়া, যেখানে মাটির নীচের জল বিষাক্ত হয়েছিল রাসায়নিক বিষে. এই ধরনের প্রকল্প নিয়ে জোরালো প্রচার – এক ধরনের ইচ্ছা করে ফাটকা খেলা, এই সম্বন্ধে স্থির সিদ্ধান্ত নিয়ে রুশ বিজ্ঞান একাডেমীর জ্বালানী শক্তি গবেষণা কেন্দ্রের নেতৃ স্থানীয় বিশেষজ্ঞ ইগর তোমবের্গ বলেছেন:

    "শেল গ্যাস নিয়ে এই প্রচুর হাঁকডাক করা খুবই কৃত্রিম ভাবে ফাঁপানো হচ্ছে তা একেবারেই এহ বাহ্য ব্যাপার, আর এই কাজ করছে সেই সব কোম্পানীই যেমন, উড ম্যাকেঞ্জী. আসলে এর পিছনে কিছুই নেই".

    ম্যাকেঞ্জী কোম্পানীর শেষ পূর্বাভাসের গুরুত্বপূর্ণ হিসাবে না নেওয়া হল যে, তারা বিশ্বের এই সম্ভাব্য ঘাটতি পূরণে রাশিয়ার সম্ভাবনাকে হিসাবের মধ্যেই আনে নি, এই বিষয় বহু বিশেষজ্ঞই উল্লেখ করেছেন. যে দেশের ভাণ্ডারের মূল্যায়ণ করে বলা হয়েছে ১৬৫ ট্রিলিয়ন কিউবিক মিটার গ্যাসের তারা মালিক, - তারা অবশ্যই এই ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ ক্রীড়নক. কিন্তু এই বাস্তবের দিকে প্রায়ই চোখ বন্ধ করে রাখা হয়ে থাকে, এই কথা উল্লেখ করে বিনিয়োগ কোম্পানী "উনিভের ক্যাপিটালের" বিশ্লেষণ দপ্তরের প্রধান দিমিত্রি আলেকসান্দ্রভ বলেছেন:

    "অনেক বিশ্ব ব্যাপী গবেষণাতেই হয় রাশিয়ার এই ভাণ্ডার ও তার উন্নতিকে কে হিসাবের মধ্যে ধরা হয় না, অথবা স্রেফ অবজ্ঞা করা হয়ে থাকে. মূখ্য কারণ, আমার মতে হল খুবই সংরক্ষণশীল কায়দায় রাশিয়ার কাঁচামালের ভাণ্ডারের হিসাব করা হয়ে থাকে ও তা ঘিরে প্রচুর ফটকাবাজি করা হয়. বিদেশী গবেষকেরা প্রায়শঃই আমেরিকার শেয়ার বাজারের পদ্ধতি অনুযায়ী হিসাব করে ভাণ্ডারের পরিমান নির্ধারণ করে থাকেন. কিন্তু তা রাশিয়ার ভূতাত্ত্বিক হিসাব অনুযায়ী ভাণ্ডারের থেকে অনেক কম".

    রাশিয়াকে ভুল করে অবজ্ঞা আরও এই কারণে করা থাকে যে, রাশিয়া বেশীর ভাগ সরবরাহ করে থাকে চুক্তি স্বাপেক্ষে. এই প্রসঙ্গে দেশের নেতৃত্ব একাধিকবার ঘোষণা করেছেন যে, রাশিয়া জ্বালানী শক্তির দামের বিষয়ে পূর্ব অনুমান যোগ্যতার পক্ষপাতী. উড ম্যাকেঞ্জী কোম্পানীর পূর্বাভাসে বলা হচ্ছে যে, গ্যাসের বিষয়ে ঘাটতির কারণে বর্তমানের বাজারের দাম চুক্তির দামের চেযে অনেক বেশীই হতে পারে.