বিশ্বের ২১০ মিলিয়ন মানুষ যা কিনা গোটা পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার ৫ ভাগ যারা জীবনে একবারের মত হলেও মাদক সেবন করেছেন। প্রতিবছর বিশ্বে ২ লাখ মানুষ মাদকদ্রব্যের অপ্রব্যবহারের কারণে মারা যাচ্ছে।মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষ্যে জাতিসংঘের নতুন প্রবন্ধে এই তথ্য প্রকাশিত হয়।

মাদকের পাচার বন্ধের জন্য আজ থেকে ১০০ বছর পূর্বে আন্দোলন শুরু হয়। ১৯৯০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সাংহাই আফিম কমিশনে রাশিয়াসহ ১৩টি দেশ অংশগ্রহন করে। তখন থেকেই রাশিয়া শুধুমাত্র এশিয়ান দেশ থেকে মাদকদ্যব্র সরবরাহ বন্ধের উপায় খুঁজতে শুরু করেন

সাংহাই কনভেনশন যা নয়টি রেজুলেশন নিয়ে গঠিত, এবং নির্ধারন করা হয়েছিল মূলত কি কারণে মাদক এবং কেন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এর বিরুদ্ধে যুদ্ধে প্রচেষ্টা করা উচিত। এর ৩ বছর পরই আরও ১টি কনভেনশনের সূচনা হয়।

এরপর থেকে অনেক  আন্তর্জাতিক দলিলপত্র গৃহিত হয়েছে এবং প্রতিটিরই  সিদ্ধান্ত ছিল একই রকম-মাদক পাচার বন্ধ করা। তবে এই ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাফল্য খুব কমই ধরা দিয়েছে।গত ১০০ বছরে মাদকদ্যব্র অস্বাভাবিকভাবে পুরো বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে এবং মাদকদ্যব্র সরবরাহের প্রানকেন্দ্র হিসাবে পরিনত হয়ছে এশিয়ার দেশ আফগানিস্তান।এমনটি বলছিলেন রাশিয়ার ড্রাগ কন্ট্রোল ফেডারেল পরিষদের সভাপতি ভিকতর ইভানভ।তিনি বলছেন,আফগানিস্তান এখন একচেটিয়াভাবে মাদক সরবরাহকারী দেশ হিসাবে পরিচিত।বিশ্বের হেরোইন মধ্যে ৯০ শতাংশ উত্পাদিত হয় আফগানিস্তানে।

আফগানিস্তান থেকে মাদক পাচার যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য অন্যতম একটি দুঃশচিন্তায় পরিনত হয়েছে।মূলত,দেশটিতে মার্কিন সৈন্যদের প্রবেশের পরই মাদক সরবরাহের পরিমান বৃদ্ধি পায়।

মাদক পাচারের হুঁমকি যা শুধুমাত্র আফগানিস্তান থেকেই আসছে না বরং “ত্রিমুখী সোনালী” দেশসমূহ(বার্মা,লাওস ও থাইল্যন্ড) যা কিনা প্রতিবছর ২৫০০ টন মাদকদ্রব্যের কাঁচামাল উত্পাদন করে থাকে। এর মধ্যে রয়েছে ২৫০ টন হিরোইন।

অন্যদিকে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ পেরু,কলোম্বিয়া ও বলিভিয়া প্রায় ১০০ টন আফিম সরবরাহ করে। প্রতিবছর মাদকদ্যব্র চোরাচালানে ব্যবহার করা হচ্ছে ৫০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

মাদকের বিকিকিনি ও মাদক পাচারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ  করতে কি করতে হবে?। রাশিয়া একটি আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী জোট  গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের তত্বাবধানে পূর্বে সন্ত্রাসবাদ ও জলদস্যু মোকাবিলায় এধরনের জোট গঠন করা হয়েছিল। মাদকের বিরুদ্ধেও অনুরুপ জোট গঠনের চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।আজকের দিনে কারও কাছেই বিষয়টি গোপন নয় যে,সন্ত্রাবাদ ও মাদকদ্রব্যের বানিজ্য এই উভয়ের সাথে যোগসূত্র রয়েছে। মাদক পাচারের পুরো অর্থই আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের কাছে চলে যাচ্ছে।

যৌথ উদ্দোগে মাদকবিরোধী ও জঙ্গিবিরোধী  আন্দোলনের অভিজ্ঞতা ইতিমধ্যে রয়েছে। সম্প্রতি রাশিয়ার  ড্রাগ কন্ট্রোল ফেডারেল পরিষদ ও যুক্তরাষ্ট্রের অনুরুপ সংস্থার সদস্যরা "অক্টোপাস" ​​এবং "এশিয়ার মানুষ” শীর্ষক ২টি অভিযান পরিচালনা করেছে।ঐ অভিযানের ফলে আফগানিস্তান থেকে সরাসরি রাশিয়ায় আফিম পাচারের পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ।