কে রাশিয়ার আগামী রাষ্ট্রপতি হতে চলেছেন? বর্তমানে দেশের ক্ষমতায় আসীন ট্যান্ডেম কি নির্বাচনে দুই জনকেই প্রার্থী হিসাবে দাঁড় করাবে, নাকি ভোটে অংশ নেবেন তাঁদের মধ্যে কেউ একজন: রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ অথবা প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিন? এই প্রশ্নগুলি ও গত সপ্তাহে রাশিয়াতে ঘটা বেশ কিছু ঘটনা রাশিয়ার সমাজে ও সংবাদ মাধ্যমে খুবই সক্রিয় ভাবে আলোচিত হয়েছে. সেন্ট পিটার্সবার্গের অর্থনৈতিক সম্মেলনের প্রতি লোকের মনোযোগ নিবদ্ধ ছিল ও একই সঙ্গে রুশ প্রধানমন্ত্রীর ফরাসী দেশ সফরের সময়ে করা ঘোষণাতেও. প্রশ্ন ছিল তাঁরা নিজেরা আগামী বছরে নিজেদের রাষ্ট্রপতির আসনে দেখতে পাচ্ছে কি না. এখনও এই নিয়ে কৌতূহল রয়েই গিয়েছে, কিন্তু সময় যাচ্ছে আর রাশিয়া ও তারই সঙ্গে বিশ্ব এই প্রশ্ন গুলির উত্তর খুবই আসন্ন ভবিষ্যতে পেতে চলেছে.

    প্রথমে সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেওয়া নিয়ে মন্তব্য করেছেন দিমিত্রি মেদভেদেভ বাত্সরিক সেন্ট পিটার্সবার্গ আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরামে বক্তৃতা দিতে গিয়ে. তারপরে ব্রিটেনের প্রভাবশালী ফাইনান্সিয়াল টাইমস পত্রিকাকে দেওয়া এক বড় সাক্ষাত্কারে তিনি এই বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিযোগিতাকে খুবই কম সম্ভাব্য বলে উল্লেখ করেছেন. তিনি বলেছেন:

    "আপনারা জানেন, আমি ভাবি যে, এটা অন্ততঃ একটা কারণের জন্যই খুবই কঠিন হবে কল্পনা করা. ব্যাপার হল যে, আমরা ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে (আমার পুরাতন কমরেড ও সহকর্মী) তাও অনেকটাই একই রাজনৈতিক শক্তির প্রতিনিধি. এই অর্থে আমাদের মধ্যে কোন প্রতিযোগিতা থাকলে, তা ক্ষতিকর হবে, বিশেষত সেই সমস্ত কাজ ও লক্ষ্যের জন্য, যেগুলি আমরা বিগত বছর গুলিতে বাস্তবায়িত করেছি. তাই বোধহয়, এটা আমাদের দেশের জন্যেই ও এই নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে খুব ভাল কিছু হতে পারে না".

    রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি প্রসঙ্গতঃ গোপন করেন নি যে, তিনি ক্রেমলিনে আরও একটি মেয়াদ কাটাতে চান. আর সব মিলিয়ে, মেদভেদেভ উল্লেখ করেছেন যে, যে কোন দেশেই যে কোন রাষ্ট্রপতি বাধ্য আবার নির্বাচিত হতে চাইতে. যাতে সমস্ত শুরু করা প্রক্রিয়া গুলিকে শেষ অবধি নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়. আর রাশিয়ার নেতার পরিকল্পনা অনেক, আর সেই গুলির জন্য দরকার খুবই জোর দিয়ে অনেক গুলি বছর কাজ করা. তাই তিনি বলেছেন:

    "যদি আমি রাষ্ট্রপতি হিসাবে দ্বিতীয় বার কাজ করি, যা আমাদের সংবিধান সম্মত, তবে আমি অবশ্যই সব কিছুই করতে চাইব, যাতে আমার ঘোষিত লক্ষ্যকে বাস্তবায়িত করা সম্ভব হয়: আমাদের অর্থনীতিকে আধুনিক করা, আমাদের সমাজকে তার রাজনৈতিক ব্যবস্থা সহ আধুনিক করা. আমি খুব একটা আত্ম বিশ্বাসী নই যে, আমার পক্ষে সব করা সম্ভব হবে. কিন্তু আমার এই বিষয়ে খুবই আগ্রহ রয়েছে, আর আমি এর জন্য কাজও করব. আমার ইচ্ছা হয়, যাতে রাশিয়া ১০ বছর বাদে এক সাফল্যময় দেশে পরিনত হয়, যেখানে সফল ও সমৃদ্ধ মানুষের বাস".

    এক দিন পরে আগামী পার্লামেন্ট ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিন তাঁর ফ্রান্স সফরের সময়ে মন্তব্য করেছেন. বলা যায় না যে, এই প্রশ্নের উত্তর দিতে ভ্লাদিমির পুতিনের খুব ইচ্ছা ছিল, কারণ এই প্রশ্ন এতবার করা হয়েছে ও তার এত উত্তর দেওয়া হয়েছে যে, তাতে একটা প্রথার আভাস দেখা যায়, আর বলা যেতে পারে যে তার উত্তর দিয়ে বিরক্ত হওয়াই স্বাভাবিক. কিন্তু প্রধানমন্ত্রী তাঁর স্বভাব সিদ্ধ শান্ত উপায়ে চেষ্টা করেছেন সাংবাদিকদের আগ্রহকে সন্তুষ্ট করতে, তিনি বলেছেন:

    "আমি এই কথাই বলবো: এই বছরের ডিসেম্বর মাসের শুরুতে রাশিয়ার লোকসভার নির্বাচন হবে. আর আগামী বছরের মার্চ মাসে হবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন. এই দুই নির্বাচনই হবে দেশের আইন ও সংবিধান মেনেই. প্রথম ও দ্বিতীয় উভয় ক্ষেত্রেই প্রধান সক্রিয় ভূমিকা নেবেন প্রার্থীরা নন, বরং রাশিয়ার নাগরিকেরা, যাঁরা সিদ্ধান্ত নেবেন, কে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি হবেন আর কে রাশিয়ার পার্লামেন্টে তাঁদের প্রতিনিধিত্ব করবেন".

    যদিও রাশিয়ার দুই প্রধান রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে দেশের উন্নতি বিষয়ে কাজের পদ্ধতির কৌশল গত বিষয়ে কিছু তফাত প্রকট হয়েছে, তবুও স্ট্র্যাটেজিক দিক থেকে তাঁরা একই অবস্থানে রয়েছেন. অর্থাত্ খুবই প্রকট মত পার্থক্যের বিষয়ে কথাবার্তার কোন ভিত্তি নেই. সুতরাং খুবই সম্ভবতঃ নির্বাচনে একজনই প্রার্থী হবেন. প্রসঙ্গতঃ গত সপ্তাহে রাশিয়ার লোকসভার বিরোধী পক্ষের নেতারা অবশ্য তাঁদের এই সমস্যায় ব্যক্তিগত ধারণা প্রকাশ করেছেন.রাশিয়ার কমিউনিস্ট পার্টি ও লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক দলের দুই নেতা গেন্নাদি জ্যুগানোভ ও ভ্লাদিমির ঝিরিনোভস্কি এই ট্যান্ডেমের দুই নেতাকেই দেশের প্রধান পদের জন্য নির্বাচনে লড়াই করতে আহ্বান করেছেন. তাঁদের প্রতিনিধিদের মতে এই ধরনের "পদক্ষেপ" দেশের সমাজের বোধগম্য হত ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়াতে একটা প্রতিযোগিতা আনতে সক্ষম হত.