রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ, আর্মেনিয়ার রাষ্ট্রপতি সের্ঝ সার্গসিয়ান ও আজারবাইজানের রাষ্ট্রপতি ইলহাম আলিয়েভ আজ রাশিয়ার কাজান শহরে এক শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হয়েছিলেন. এই বছরের মার্চ মাসে একই কাঠামোয় ত্রিদেশীয় শীর্ষ বৈঠকের পরে আজ আশা ছিল যে, মার্চে সমস্ত পক্ষের উপনীত হওয়া সহমতে আসা শর্ত অনুযায়ী হয়ত আজ আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যে শান্তি চুক্তি সম্পন্ন হবে. সদ্য সমাপ্ত হওয়া ফ্রান্সের দোভিল শহরে বড় আট অর্থনৈতিক দেশের নেতারাও আজারবাইজান ও আর্মেনিয়াকে এই প্রশ্নে সহমতে এসে শান্তি চুক্তি সম্পন্ন করতে আহ্বান করেছিলেন. কিন্তু বাস্তবে তা আজ সম্ভব হল না. তবে তিন পক্ষই আরও কিছু প্রশ্নে সহমতে আসতে পেরেছে. সের্ঝ সার্গসিয়ান ও ইলহাম আলিয়েভ দুজনেই রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভের প্রচেষ্টার খুবই উচ্চ মূল্যায়ণ করেছেন.

নাগোরনি কারাবাখ বা পার্বত্য কারাবাখ নিয়ে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যে সঙ্কট সোভিয়েত রাষ্ট্রের পতনের কিছু পূর্বে প্রজাতিগত বিরোধের কারণে সশস্ত্র যুদ্ধে পরিনত হয়েছিল ১৯৮৮ সালে. ১৯৯৪ সাল অবধি যুদ্ধে দুই পক্ষেরই ক্ষতি হয়েছিল অনেক. আর্মেনিয় প্রজাতির মানুষ অধ্যুষিত আজারবাইজানের এই অঞ্চল আজও রাশিয়া, আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার মধ্যে স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার অভাবের একটি বড় কারণ.

নাগোরনি কারাবাখ নিয়ে কূটনৈতিক পর্যায়ে যোগাযোগের দায়িত্ব নিয়েছে রাশিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্স, যারা ইউরোপের নিরাপত্তা ও উন্নতি সংস্থার নিরাপত্তা সংক্রান্ত পরিষদের কারাবাখ সমস্যা সমাধানের দলের নেতৃত্ব দিয়ে থাকে. এই দলকে মিনস্ক দল বলে জানা আছে. তারা সকলে একটি পরিকল্পনা প্রস্তাব করেছে ও এই পরিকল্পনাকে বলা হয়েছিল মাদ্রিদ পরিকল্পনা - এই পরিকল্পনা অনুযায়ী নাগোরনি কারাবাখ সংলগ্ন কিছু এলাকার নিয়ন্ত্রণ আজারবাইজানের হাতে ফেরার কথা ও কারাবাখ অঞ্চলকে নাগরিক ভোটের মাধ্যমে হয় স্বায়ত্ত শাসিত অঞ্চল অথবা আর্মেনিয়ার সীমান্ত বহির্ভূত এলাকা বলে স্বীকার করার ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে, তবে তা এই যুদ্ধ পীড়িত অঞ্চলে শান্তি ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাধ্যমে প্রতিবেশী এলাকা গুলির সাথে সুপ্রতিবেশী সুলভ সম্পর্ক স্থাপনের পরে করা হোক বলে প্রস্তাব করা হয়েছে.