বিশ্বে প্রতি বছরে মাদক ব্যবহারের ফলে প্রায় দুই লক্ষ লোক প্রাণ হারাচ্ছেন. এই ধরনের তথ্য নূতন বিশ্ব সংক্রান্ত রিপোর্টে নিউইয়র্কে রাষ্ট্রসংঘের প্রধান দপ্তরে করা হয়েছে.

    বিশ্বে হেরোইনের প্রধান সরবরাহকারী দেশ এখনও আফগানিস্তান. এই সম্বন্ধে নিজের রিপোর্ট পেশ করার সময়ে বলেছেন রাশিয়ার মাদক নিয়ন্ত্রণ সংস্থার প্রধান ভিক্তর ইভানভ. ২০০৭ সালে নেওয়া রাষ্ট্রসংঘ থেকে আফগানিস্তানের মাদক উত্পাদন ধ্বংস করার পরিকল্পনা ফল দেয় নি. তার উপরে ভিক্তর ইভানভের কথামতো এই দেশ বর্তমানে বিশের গাঁজার ফ্যাক্টরী হয়েছে. খুবই অবাক ব্যাপার হলেও, কিন্তু দেখা গিয়েছে যে সমস্ত বছর গুলি ধরে এখানে পশ্চিমের জোট রয়েছে, সেই বছর গুলিতেই আফিমের চাষ আফগানিস্তানে চল্লিশ গুণ বেড়েছে. আর এটা বহু বিলিয়ন ডলার, যা রাষ্ট্রসংঘের তরফ থেকে খরচা হয়েছে তার পরেও ঘটেছে – তার মধ্যে আবার খরচা করা হয়েছে সেই সমস্ত কৃষকদের অর্থ সাহায্যের জন্য, যারা আফিম চাষ থেকে বিরত হতে চেয়েছে ও অন্য কিছু চাষ করতে চেয়েছে. অনেক বেশী সাফল্যের সঙ্গে মোকাবিলা করা সম্ভব হয়েছে মহাসমুদ্রের অপর পারে, এই কথা উল্লেখ করে ভিক্তর ইভানভ বলেছেন:

    "আমরা মাদক মোকাবিলার ক্ষেত্রে একেবারেই শক্তি প্রয়োগের মধ্যে, যা আজ করা হচ্ছে পূর্ব ও পশ্চিম গোলার্ধে, কোন ভারসাম্য দেখতে পাচ্ছি না. যদি দক্ষিণ আমেরিকাতে মাদক চাষের জন্য ব্যবহার হওয়া জমি, যার চাষ নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, তার পরিমান হয়ে থাকে শতকরা ৬২ শতাংশ, তবে আফগানিস্তানে  - শুধু শতকরা দুই শতাংশ. সকলের জন্যেই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সমাধানে এই অদ্ভূত অসামঞ্জস্য আমাদের এক ল্যাংড়া ঘোড়ার কথা মনে করিয়ে দেয়, যেটা আমাদের লক্ষ্য পর্যন্ত পৌঁছে দেবে".

    এই বছরে ইভানভের কথামতো, আফগানিস্তানে রেকর্ড পরিমান আফিমের চাষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে. রাশিয়া আন্তর্জাতিক মাদক বিরোধী জোট তৈরী করতে আহ্বান করেছে ও রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্তরে এই মাদক বিপদকে বিশ্বের বিপদ বলে স্বীকৃতী দিতে বলেছে – যা করা হয়েছে সন্ত্রাস ও জলদস্যূ সমস্যা নিয়ে. এই ধরনের ব্যবস্থার স্বপক্ষে বলে তথ্য ও পরিসংখ্যাণ. গত দশ বছরে সন্ত্রাসের ফলে প্রাণ দিয়েছেন দশ হাজার লোক, আর শুধু আফগানিস্তানের মাদক ব্যবহার করেই মারা গিয়েছেন দশ লক্ষ.

    এই ভয়ঙ্কর পাপের সঙ্গে যুদ্ধ, অবশ্যই চলছে. কিছুদিন আগে রাশিয়ার সরকারি মাদক নিয়ন্ত্রণ সংস্থা দুটি যৌথ অপারেশন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করেছে – অক্টোপাস্ ও এশিয়ার লোক নামে. এর ফলে আফগানিস্তান থেকে রাশিয়াতে হেরোইন সরবরাহের সরাসরি এক চ্যানেল খুঁজে পাওয়া গিয়েছিল. সমস্ত মূল লোকেরা ধরা পড়েছে বলে জানিয়েছেন ভিক্তর ইভানভ, কিন্তু এটা কম, এই কথা মনে করে রাষ্ট্রীয় মাদক নিয়ন্ত্রণ সংস্থার কর্তা বলেছেন:

    "বড় কোন সাফল্য হয় নি, কারণ মাদক চাষই ধ্বংস করা হচ্ছে না. আফগানিস্তান থেকে সব কিছু স্বত্ত্বেও বিশাল পরিমানে মাদক আসছে, যা দেশের সীমানা পার হয়ে ঠিকই পৌঁছে যাচ্ছে. আমরা কোথাও একটা রাস্তা ধ্বংস করছি তো "বুদ্বুদের" মত অন্য কোথাও তা জেগে উঠছে".

    এর মানে হল যে, অন্যান্য পথে মাদক সরবরাহ বাড়ছে. কি করে এটা হচ্ছে, তা ব্যাখ্যা করে বলেছেন পররাষ্ট্র ও সামরিক রাজনীতি পরিষদের সদস্য আলেকজান্ডার মিখাইলভ বলেছেন:

    "যদি বিশ্বজোড়া মাদক নিয়ে রাজনীতি সম্বন্ধে বলতে হয়, তবে আজ কোসভার স্বাধীনতা স্বীকৃতি দেওয়ার পরে এই অঞ্চল ইউরোপের জন্যই ব্ল্যাক হোলে পরিনত হয়েছে. এটা বালকান পথ, যা বিগত বছর গুলিতে যথেষ্ট রকমের বন্ধ ছিল, আজ তা এক উন্মুক্ত ক্ষত হয়ে রয়েছে, যার মধ্য দিয়ে সংক্রামক রোগের মতই ইউরোপে মাদক পৌঁছে যাচ্ছে. তাই আমরা যত বেশী করে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া ও মধ্য এশিয়া দিয়ে মাদক পাচারের পথ বন্ধ করবো, তত বেশী করে তা বালকান পথ দিয়ে ইউরোপে পৌঁছবে".

    আফগানিস্তানের মাদক পাচার, বোধহয়, আন্তর্জাতিক সমাজের জন্য এক দীর্ঘস্থায়ী মাথা ব্যাথার কারণ হতে চলেছে, এই কথা মনে করেন আলেকজান্ডার মিখাইলভ. তার উপরে বর্তমানে আমেরিকার সৈন্য বাহিনী আফগানিস্তান থেকে প্রত্যাহার শুরু হলে স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ীদের মোকাবিলার দায়িত্ব পড়বে কাবুলের প্রশাসনের উপরে. তাই বিশেষজ্ঞ বলেছেন:

    "আমরা সেই উত্তরাধিকার নিয়েই রয়ে যাবো, যা তারা আমাদের জন্য রেখে যাবে. এটা  - আফগানিস্তানের ধ্বংস হওয়া অর্থনীতি, বিশ্ব সন্ত্রাসের ধ্বংস না হওয়া কেন্দ্র, তালিবদের মাদক উত্পাদন ও তার চাষে অংশ নেওয়া. এটা আমাদের দেশের স্বার্থের প্রশ্নের মধ্যেই এবারে ঢুকে পড়ছে".

    একই সঙ্গে রাশিয়াতে রাসায়নিক মাদকের সঙ্গেও লড়াই চলছে. কিছুদিন আগে নভগোরদ রাজ্যে খুবই উচ্চ প্রযুক্তির এক গোপন রাসায়নিক মাদক উত্পাদনের কারখানা ধ্বংস করা হয়েছে, যা চালাচ্ছিল কিছু পাশ করা রসায়ন বিদ, তাদের মধ্যে আবার কয়েক জনের বিজ্ঞানীর স্বীকৃতিও ছিল. প্রতি বছরে তারা বানাচ্ছিল প্রায় দেড় টন মেটাডন নামের রাসায়নিক মাদক.