"ফ্রুকুস – ২০১১" নামের সামরিক মহড়া বৃহস্পতিবারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলে শুরু হয়েছে. রাশিয়া, ফ্রান্স, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও গ্রেট ব্রিটেনের সামরিক নৌবহর ৩০ শে জুন পর্যন্ত এখানে জলদস্যূ মোকাবিলার মহড়া করবে.

    একবিংশ শতাব্দীতে বিশ্ব সমাজের কাছে বিপুল অস্ত্র সজ্জিত জলদস্যূর দল বিভিন্ন দেশের পতাকা বাহী মালবাহী বাণিজ্য জাহাজগুলির জন্য এক খুবই ভয়ানক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে. জলদস্যূদের এই লুঠপাট বিশ্ব বাণিজ্যের উন্নতির পথে অন্তরায় হয়েছে ও বহু দশক ধরে চলা সামুদ্রিক পথে মাল বহন কঠিন করে তুলেছে. নিজেদের গুণ্ডামি দেখিয়ে বেড়াচ্ছে প্রাথমিক ভাবে সোমালি দেশের জলদস্যূরা, বিশেষত তারা আক্রমণ করছে, সেই সমস্ত জায়গায়, যেখান থেকে এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে তেলের ও জ্বালানীর ট্যাঙ্কার গুলি যাতায়াত করে. তাই এই ঘটনাকে সমূলে ধ্বংস করতে সমস্ত দেশই আগ্রহী. তা রপ্তানী কারক বা আমদানী কারক দেশ যেটাই হোক না কেন.

    আন্তর্জাতিক সামরিক নৌবহরের সহযোগিতার কাঠামোয় জলদস্যূ প্রতিরোধের প্রশিক্ষণ এর মধ্যে বিশ তম বার হতে চলেছে. রাশিয়ার পক্ষ থেকে এই প্রশিক্ষণে অংশ নিতে গিয়েছে উত্তর নৌবহরের বিশাল জাহাজ প্রতিরোধ কারী যুদ্ধ জাহাজ "অ্যাডমিরাল চাবানেঙ্কো" ও ত্রাণ কারী গাধাবোট "শাখতিওর", এই কথা উল্লেখ করে উত্তর নৌবহরের নেতৃত্বের তথ্য প্রচার সম্পাদক প্রথম সারির ক্যাপ্টেন ভাদিম সেরগা জানিয়েছেন:

    "উত্তর নৌবহরের বিশাল জাহাজ প্রতিরোধ কারী যুদ্ধ জাহাজ "অ্যাডমিরাল চাবানেঙ্কো" এর মধ্যেই চতুর্থ দিন কার্যকরী সফরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামুদ্রিক নৌবাহিনীর "নরফ্লোক" ঘাঁটিতে রয়েছে. এই সামরিক মহড়ার প্রধান লক্ষ্য হল, বহুজাতিক নৌবাহিনীর মধ্যে জলদস্যূ মোকাবিলার কাজকর্মের বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও অনুশীলন এবং মালবাহী জাহাজ গুলির কারাভান পার করিয়ে দেওয়া. এবারের প্রশিক্ষণ বেশ কয়েকটি অধ্যায়ে হবে, যার মধ্যে একত্রে জাহাজ গুলির সমুদ্রে চলাফেরা ছাড়াও দ্রুত গতির জাহাজের থেকে আক্রমণ প্রতিরোধ করা, নৌ বাহিনীকে কাজে লাগানো এবং একে অপরের জাহাজের উপরে হেলিকপ্টার করে নামা".

    পরিকল্পনা অনুযায়ী জাহাজ প্রতিরক্ষার বিষয়ে বিভিন্ন রকমের কাজে একে অপরের সহায়তা করা, সন্ত্রাসের সঙ্গে লড়াই, চোরাই মাল ও বিপজ্জনক অস্ত্র ও বস্তু উদ্ধারের বিষয়ে প্রশিক্ষণ. বৃহস্পতিবার সমস্ত জাহাজের কম্যাণ্ডার দের সম্ভাব্য যুদ্ধের ক্ষেত্রে নিজস্ব ক্ষমতা নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা হয়েছে, সেখানে নিরাপত্তার ব্যবস্থা ও সমুদ্রে যে সমস্ত কাজকর্ম করা হবে, তার সময় সূচীও তৈরী করা হয়েছে. আগামী সপ্তাহের শুরুতে এই সমস্ত মহড়া সক্রিয় অংশ শুরু হবে.

    "অ্যাডমিরাল চাবানেঙ্কো" ও তার নাবিকেরা আজ একটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ উত্তর নৌবহরের দল. তাদের বিশাল অভিজ্ঞতা দূর সমুদ্রের অভিযানে. ২০০৯, ২০১০ সালে উত্তরের নৌবহরের যুদ্ধ জাহাজ দলের সঙ্গে এই জাহাজ ক্যারিবিয়ান সমুদ্রে গিয়েছিল ও ভেনেজুয়েলার বন্দরে ভিড়েছিল. আর একই সঙ্গে রাশিয়ার নবতম নৌবাহিনীর ইতিহাসে প্রথমবার পানামার চ্যানেল দিয়ে গিয়েছিল. এই জাহাজের লোকেদের মালবাহী জাহাজ সুরক্ষার কাজের অভিজ্ঞতা অনেক.