কি করে আন্তর্জাতিক বাজারে খাবার জিনিসের দামের অস্থিতিশীলতার সঙ্গে পাল্লা দেওয়া যেতে পারে ও দরিদ্রতম দেশ গুলিতে দুর্ভিক্ষের মোকাবিলা করা সম্ভব হবে. এই সমস্যা গুলিই বিশ্বের কুড়িটি অর্থনৈতিক ভাবে ধনী দেশের কৃষি মন্ত্রীরা প্যারিসের সাক্ষাত্কারে আলোচনা করেছেন. আলোচনা ছিল খুবই কঠিন, তা স্বত্ত্বেও সহমতে এসে একটা সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়েছে.

ফ্রান্সের রাজধানীতে কৃষি শিল্প শীর্ষ সম্মেলনে বড় কুড়িটি দেশের কৃষি মন্ত্রীরা সহযোগিতার পরিকল্পনা তৈরী করেছেন. তার ভিত্তি হয়েছে পাঁচটি প্রধান ধারা. প্রথমতঃ, বিশ্বের কৃষি শিল্প ব্যবস্থায় বিনিয়োগের পরিমান বৃদ্ধি করতে হবে. দ্বিতীয়তঃ, প্রতিটি দেশের কৃষি উত্পাদনের বাজারের পরিস্থিতি সম্বন্ধে তথ্যের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করতে হবে. তৃতীয়তঃ, সরকারের খাদ্য সঙ্কটের সঙ্গে মোকাবিলা করার কাজকর্ম আরও ভাল করে একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করে করতে হবে. চতুর্থতঃ, দামের ওঠা নামা মোকাবিলা করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে আর পঞ্চম ধারা এই কাজের জন্যেই দরকার পড়বে, অর্থাত্ আর্থিক নিয়ন্ত্রণও করতে হবে.

বর্তমানে খুবই কঠিন হল প্রত্যেক দেশে কৃষি পণ্যের উত্পাদনের পরিমান ও তার সম্ভাব্য সঞ্চয় ভাণ্ডার সম্বন্ধে সম্পূর্ণ ও সত্য তথ্য পাওয়া. এই ধরনের তথ্য সংগ্রহ করার জন্য কৃষি বিষয়ক বাজারের খবরের ব্যবস্থা তৈরীর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে. তার তথ্য ভাণ্ডার নিয়ন্ত্রণ করবে রাষ্ট্রসংঘের খাদ্য পণ্য ও কৃষি শিল্প সংক্রান্ত সংস্থা. তথ্য বিশ্লেষণ করার পরে বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন বুঝতে পারার যে, কি করে খাবার জিনিসের দাম ঠিক হয়, এই কথা জানিয়ে ফ্রান্সের কৃষি মন্ত্রী ব্রুনো লিওমের বলেছেন:

"আমরা খুবই দ্রুত এই আন্তর্জাতিক কৃষি পণ্যের উত্পাদন, ব্যবহার ও সঞ্চয়ের তথ্য ভাণ্ডার তৈরী করে ফেলবো. এই তথ্য ভাণ্ডার AMIS (Agricultural Market information System)নামে অদূর ভবিষ্যতে প্রকাশিত হবে. তা বড় কুড়ি দেশের সব কটি থেকেই প্রযুক্তিগত সহায়তা পাবে ও বিশ্বের কাছ থেকে পাবে প্রয়োজনীয় স্বীকৃতী".

এই শীর্ষ সম্মেলনের অংশগ্রহণকারীরা প্রস্তাব করেছেন সকলের জন্য ঐক্যমতে পৌঁছে কৃষি পণ্যের উত্পাদনের পরিকল্পনা করার. দেশ গুলির মধ্যে আরও পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্য নিয়ে প্রধান সিদ্ধান্ত গুলি নেওয়া হবে রাষ্ট্রসংঘের কৃষি পণ্য ও খাদ্য বস্তু সংস্থার স্তরে. শ্রী লিওমের মনে করেন যে, এর মূল লক্ষ্য হবে- জিনিসের গুণ মান ও নিরাপত্তা নির্ণয়, তাই তিনি বলেছেন:

"শুধু বিশাল পরিমানে কৃষি জাত পণ্য উত্পাদন করলেই হবে না. তা হতে হবে গুণে সমৃদ্ধ. যত বেশী আমরা উত্পাদন করবো, ততই কঠিন হবে জিনিসের নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনও ভরসা দেওয়া. বড় কুড়ি দেশের কাঠামোর মধ্যে কাজ চালিয়ে যেতে হবে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত নিরাপত্তা বৃদ্ধির, যাতে গ্রাহকের কাছে ভাল গুণমান সম্পন্ন ও স্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ খাদ্য বস্তুই পৌঁছায়".

0দুর্ভিক্ষের সঙ্গে লড়াই করার জন্য বিশ্ব খাদ্য পরিকল্পনা সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সঞ্চয় ভাণ্ডার তৈরীর, যেখান থেকে সঙ্কটের সময়ে বিশ্বের দরিদ্রতম দেশ গুলিতে খাদ্য পণ্য পাঠানো সম্ভব হবে. কারণ খাদ্য পণ্যের দামের দ্রুত বৃদ্ধিতে সাধারণত উন্নতিশীল দেশ গুলির লোকেরাই বেশী ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে থাকেন. বড় কুড়িটি দেশের অর্থমন্ত্রীদের খাদ্য পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে. এই শীর্ষ সম্মেলনের অংশগ্রহণকারীরা একই সঙ্গে প্রস্তাব করেছেন, যাতে AMIS এর সাথে জাতীয় আবহাওয়া দপ্তর গুলিও সহযোগিতা করে. কারণ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে খাদ্য পণ্যের দাম বেড়ে যায় অনিয়ন্ত্রিত ভাবে.