ভারতের সরকার রাজী হয়েছে দেশের পশ্চিম উপকূলে নৌবাহিনীর ঘাঁটির তৃতীয় দফায় নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করার জন্য ২২০ কোটি ডলার আলাদা করে দিতে.

ভারতের "টাইমস অফ ইন্ডিয়া" সংবাদপত্রে প্রকাশিত করওয়ার শহরে নৌবাহিনীর ঘাঁটির সম্প্রসারণের খবরে বিশেষ করে উল্লেখ করা হয়েছে, এই সিদ্ধান্তের রণনৈতিক চরিত্র সম্বন্ধে. এই ঘাঁটি হতে চলেছে পৃথিবীর মহা সমুদ্রে ভারতীয় নৌবহরের কাজ সমাধা করার জন্য একটি প্রধান কেন্দ্র ও এখানে ঘাঁটি হবে নৌবাহিনীর আঘাত হানার উপযুক্ত যুদ্ধ জাহাজ ও ডুবোজাহাজ গুলির.

করওয়ারে অংশতঃ, ভারতীয় নৌবহরের নূতন সংযোজন যুদ্ধ বিমান বাহী জাহাজ "বিক্রমাদিত্য", যা রুশ প্রযুক্তি অনুযায়ী সর্বাধুনিক ও অত্যন্ত গভীর পরিমার্জনের পরে "অ্যাডমিরাল গর্শকভ" নামক ভারী বিমান বাহী জাহাজটি থেকে সিয়েভেরোদ্ভিনস্কে (রাশিয়ার ইউরোপীয় অংশের উত্তরে) বানানো হচ্ছে ও যা ভারতের নৌবহরের প্রধান পতাকা বাহী জাহাজ হতে চলেছে, সেই যুদ্ধ জাহাজটির ঘাঁটি হবে. করওয়ারে "ঠিকানা" পেতে চলেছে ভারতের নিজস্ব নির্মিত আরও একটি বিমান বাহী জাহাজ. এছাড়া নূতন ঘাঁটি পেতে চলেছে অন্যান্য ধরনের বেশ কিছু জাহাজ ও এক দল ডুবোজাহাজ.

অন্য কথায় বলতে হলে, এখানে কথা হচ্ছে এক শক্তিশালী দলের সৃষ্টির, যা ভারতকে ভারত মহাসাগরের জলসীমায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি করতে সাহায্য করবে. আজই ভারতীয় মহাসমুদ্র জ্বালানী পরিবহনের এক গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন পথে পরিনত হয়েছে, আর ভবিষ্যতে এর গুরুত্ব আরও বাড়বেই. নিজেদের আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে ভারতের বর্তমানে টক্কর দিতে হচ্ছে চিরকালীণ প্রতিপক্ষ পাকিস্তান ও বর্তমানে সদম্ভে নিজস্ব সামরিক শক্তি বিকাশের পথে অগ্রগতি করা চিনের সঙ্গেও. বিশেষজ্ঞরা মনে করেছেন যে, নয়া দিল্লীর তরফ থেকে করওয়ারে ঘাঁটি তৈরীর শেষ পর্যায় সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে পাকিস্তানের গাদ্বারা গভীর সমুদ্র বন্দর চিনের পক্ষ থেকে তাদের নৌবাহিনীর সম্ভাব্য ব্যবহারের খবরের প্রেক্ষাপটেই. পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আহমেদ মুখতারের কথামতো, ইসলামাবাদ সরকারি ভাবে চিনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে গাদ্বারা বন্দরে চিনের নৌবহরকে ঘাঁটি গেড়ে বসতে, যেখান থেকে পারস্য উপসাগরে পৌঁছনোর পথের দূরত্ব সবচেয়ে কম. চিন এক সময়ে এই গভীর সামুদ্রিক বন্দরটি তৈরী করায় সহায়তা করেছে প্রায় ২০ কোটি ডলার অর্থ দিয়ে.

বেইজিং থেকে আপাততঃ সরকারি ভাবে পাকিস্তানে চিনা সামরিক নৌবাহিনীর ঘাঁটি তৈরীর বিষয়ে কোন রকমের সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয় নি. তা স্বত্ত্বেও, এই ধরনের পদক্ষেপ চিনের আধুনিক স্ট্র্যাটেজির সঙ্গে খুবই খাপ খায়, যেখানে তাদের বিশ্ব সমুদ্রে সামরিক উপস্থিতি প্রসারিত করার কথা রয়েছে, - এই কথা চিন বিশেষজ্ঞ এবং রুশ সুদূর প্রাচ্য ইনস্টিটিউটের ভাইস ডিরেক্টর সের্গেই লুজিয়ানিন উল্লেখ করে বলেছেন:

"গাদ্বারা বন্দরের প্রতি চিনের আগ্রহ পরম্পরা মেনেই হয়েছে, যা দীর্ঘস্থায়ী ও ভিত্তি মূলক. সামরিক উদ্দেশ্য সবসময়েই চিনের এই বন্দরের প্রতি আগ্রহ প্রদর্শনের সময়ে ছিল. এখানে এই বন্দরের স্ট্র্যাটেজিক অবস্থানই মূল কারণ ও চিন ও পাকিস্তানের মজবুত সম্পর্কও কারণ. এখন তার উপরে সামরিক উদ্দেশ্য যথেষ্ট বাস্তব. নিকট প্রাচ্যের সঙ্কট ও আরব দেশগুলিতে নেতৃত্বের পতন এই অঞ্চলে আঞ্চলিক সামগ্রিক বিশ্বের শক্তির ভারসাম্যে পরিবর্তন করেছে. চিনে খনিজ তেল নিয়ে যাওয়ার পথ, যা বর্তমানে চিনের জন্য প্রধান জ্বালানী উত্স, এর উপরে রয়েছে আঘাতের সম্ভাবনা. চিনের জ্বালানী নিরাপত্তাও বিপদ সঙ্কেত পেয়েছে, তাই গাদ্বারা বন্দরের নিয়ন্ত্রণ ও সব মিলিয়ে ভারত মহাসাগর দিয়ে যাওয়া সামুদ্রিক পথের উপরে নিয়ন্ত্রণ চিনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ".

চিন ও ভারতের মধ্যে সামুদ্রিক সামরিক প্রতিযোগিতা এক নূতন স্তরে উপনীত হতে চলেছে আরও এই কারণে যে, দুই দেশই নিজেদের সামরিক নৌবহর আধুনিকীকরণ করছে সক্রিয় ভাবে. চিনে ভারত মহাসাগর নিয়ে এক সুদূর প্রসারী ও উচ্চাকাঙ্খী স্ট্র্যাটেজি নেওয়া হয়েছে "মুক্তা মালা" নামে. তার লক্ষ্য হল বন্দর নির্মাণ ও অন্যান্য স্ট্র্যাটেজিক পরিকাঠামো তৈরী করা মৈত্রী ভাবাপন্ন দেশ গুলিতে যেমন, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, মায়ানমার ও শ্রীলঙ্কা. এই সবই স্বাভাবিক ভাবে ভারতের স্বার্থকে স্পর্শ না করে হয় নি. রাজনৈতিক ও বাণিজ্য নিয়ে দুই বৃহত্ দেশের স্বার্থ প্রতিযোগিতাকে আরও তীক্ষ্ণ করেছে. স্থলপথের চেয়েও বেশী হয়েছে সমুদ্র পথে. সম্ভবতঃ ভারত মহাসাগরে প্রতিযোগিতা এমনকি দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত নিয়ে পুরনো বিবাদের চেয়েও তীক্ষ্ণ হতে পারে. সাতটি সময় সীমা অঞ্চল জোড়া ভারত মহাসাগরের স্ট্র্যাটেজি সংক্রান্ত মূল্যায়ণের গুরুত্ব নিয়ে এটা আর কোনও আঞ্চলিক প্রশ্ন থাকছে না, সমস্যা হয়ে দাঁড়াচ্ছে সমগ্র বিশ্বের নিরাপত্তারই. তাই বেশ কিছু বিশেষজ্ঞ যে মূল্যায়ণ করেছেন একবিংশ শতকের ভারত মহাসাগরে শক্তির রাজনীতির রূপরেখা বর্তমানে দেখা যাচ্ছে বলে, তা বাড়িয়ে বলা কিছু নয়. আর এই সম্পর্কে তা হতে পারে "ঠাণ্ডা যুদ্ধের" সময়ের অতলান্তিক মহাসমুদ্রের মতনই.