হ্যাকারেরা সমস্ত সরকারি দপ্তর, বিশ্ব জোড়া কোম্পানী ও ব্যাঙ্কদের সাইটের প্রতি এক যুদ্ধ ঘোষণা করেছে. তাদের আক্রমণের লক্ষ্য হয়েছে একই সঙ্গে বেশ কয়েকটি টেলিভিশন কোম্পানী – তারা, যারা কিছুদিন আগে উইকিলিক্স নামের স্ক্যাণ্ডাল করে বিখ্যাত হওয়া সাইটের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান আসাঞ্জ কে নিয়ে এক সিনেমা দেখিয়েছে.

    এই বৈদ্যুতিন "জেহাদ" ঘোষণা করেছে দুটি হ্যাকার দলের লোকেরা – "লুলত্স সিকিউরিটী" ও "অ্যানোনিমাস". তারা বলতে চাইছে যে, তাদের সমস্ত কাজ আসাঞ্জ কে রক্ষা করার জন্যই না কি করা. তাদের আক্রমণের প্রধান লক্ষ্য – গোপনীয় তথ্য সংগ্রহ করা, যার মধ্যে এমনকি ই মেইলের চিঠি পত্রও পড়েছে. কম্পিউটার যারা লুঠ করছে, তারা জোর গলায় বলছে: শুধু সেই সমস্ত সংস্থারই ক্ষতি হবে, যারা তাদের অর্থাত্ হ্যাকারদের মতে তথ্য লুকিয়ে রাখে. বিশেষজ্ঞরা বিশ্বাস করেন যে, এটা রাজনীতি নয়, বরং আগে থেকে আসাঞ্জ কে ব্যবহার করে আত্মরক্ষার প্রচেষ্টা. তা কাজে লাগতে পারে, যদি এই বদমাশদের ধরা হয় ও অর্থনৈতিক ভাবে ক্ষতিকারক কম্পিউটার সংক্রান্ত অপরাধের জন্য বিচার করা শুরু হয়, এই কথা উল্লেখ করে "রেডিও রাশিয়া" কে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে "ডায়ালগ – নাউকা" নামের এক ব্যক্তিগত মালিকানার কোম্পানীর প্রতিযোগীদের মধ্য গুপ্তচর বৃত্তি সংক্রান্ত ক্ষেত্রে কাজকর্মের দপ্তরের প্রধান আন্দ্রেই মাসালোভিচ বলেছেন:

    "লুলত্স সিকিউরিটী নামের এই দলের উপরে আমি অনেক দিন ধরেই লক্ষ্য রাখছি, কারণ তারা নিজেদের সাইটে যাই অন্যের কম্পিউটার লুঠ করে যোগাড় করে তা টানিয়ে রাখে. সেখানে বিশাল সংখ্যক পাস ওয়ার্ড ফাঁস করে দেওয়া হয়েছিল, বহু কোম্পানীর আভ্যন্তরীণ বিষয়, তার মধ্যে এমনকি ফক্স কোম্পানীর বিক্রয়ের তালিকা পর্যন্ত. তাদের জন্য আসাঞ্জ কে নিয়ে যে চর্চা চলছে, তা নিজেদের খ্যাতি আরও বাড়াতে ব্যবহার করাই একমাত্র উদ্দেশ্য, এখানে ভাবার দরকার নেই যে, তারা রাজনীতির চর্চা করছে. এক মাস আগে সোনি পিকচার্স কোম্পানীর সাইট ভেঙে তারা ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য পেয়েছিল, বিরাট স্ক্যাণ্ডাল হয়েছিল, আর তাদের উপরে চলেছিল শিকার. অ্যানোনিমাস দলের ছোকরাদের স্পেনে ধরা হয়েছিল ব্যবসায়িক সাইটের উপরে ও সুইডেনের অভিশংসক দপ্তরের সাইট ভেঙে ঢোকার জন্য. তাদের উপরে আরও বেশ কয়েকটি কম্পিউটার সংক্রান্ত অপরাধের অভিযোগ রয়েছে. এই প্রসঙ্গে আমি আসাঞ্জ নিয়ে তাদের উদ্বেগ কিছুটা বুঝতে পেরেছি, কিন্তু এটা কোন রাজনীতি নয়, শুধু চেষ্টা, যাতে তাদের যে এই অপরাধের জন্য কড়া ভাবে বিচার করা হবে, সে বিষয়ে একটা রাজনৈতিক রঙ দেওয়ার".

    বিশেষজ্ঞের কথামতো, ইন্টারপোল সংস্থার মাত্র দুই সপ্তাহ লেগেছিল "অ্যানোনিমাস" দলের হ্যাকারদের স্পেনে ধরে ফেলতে. সম্ভবতঃ একই ঘটনা ঘটবে "লুলত্স সিকিউরিটী" দলের লোকেদের সঙ্গেও, যার সাইটের ঠিকানা বাহামা দ্বীপপূঞ্জে রেজিস্টার করা আছে. আন্দ্রেই মাসালোভিচ মনে করেছেন যে, "তাদের দলের বেশ অনেক লোকই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে থাকে, আর এফ বি আই মনে করি যে, তাদের সকলের নাম পদবীর সম্পূর্ণ তালিকাই বর্তমানে জোগাড় করে ফেলেছে, তাই এই সমস্ত ধর পাকড় আর বেশী দিন দেরীতে হবে না". কিন্তু খুবই ভুল হবে মনে করলে যে, হ্যাকারদের ধরা এত সহজ: রাশিয়ার কোম্পানী "কাস্পেরস্কি ল্যাবরেটরীর" মূল্যায়ণ অনুযায়ী বিশ্বে হ্যাকারদের শততম অংশের কমই ধরা পড়ে, আর তাদের সংখ্যা বহু সহস্র.