বুধবারে অর্থনৈতিক ভাবে "বড় কুড়িটি" দেশের কৃষি মন্ত্রীরা খাদ্য বস্তুর বাজারের ভবিষ্যত নিয়ে আলোচনা করছেন. এই প্রথমবার এই ধরনের সম্মেলনের উদ্যোগ নিয়েছে ফ্রান্স, যারা বর্তমানে এই "কুড়িটি" দেশের সংগঠনে সভাপতিত্ব করছে. মূখ্য বিষয় – খাদ্য শষ্যের বাজারের অস্থিতিশীলতা, খাদ্য সঙ্কটের বিষয়ে আগাম জানান দেওয়া, "সবজি সংক্রান্ত বিষয়ে বিবাদের" সমাধান.

    এই ধরনের সমস্যা যেমন, বিশ্ব খাদ্য সঙ্কটের সঙ্গে এবারে যোগ হয়েছে ইউরোপের "সবজি নিয়ে স্ক্যাণ্ডাল". কিন্তু তাও বর্তমানে মনে করা যেতে পারে যে সারা বিশ্বের জন্যই সঙ্কট. যদিও এই নিয়ে উত্তেজনা বর্তমানে কিছুটা কমের দিকে, তবুও বিভিন্ন দেশে এমনকি মহাদেশে আন্ত্রিক রোগে ইতিমধ্যেই প্রায় ৪০ জন প্রাণ হারিয়েছেন.

    যদি "সবজি স্ক্যাণ্ডাল" – গত মাসের ঘটনা হয়ে থাকে, তবে মূল্যবৃদ্ধি বহু দিন হল আলোচনার তালিকায় যুক্ত হয়ে রয়েছে. শুধু বছরের শুরু থেকেই খাবারের দাম বেড়ে দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছে, যা বহু দেশের জন্যই একেবারে সামাজিক – রাজনৈতিক সমস্যাতে পরিনত হয়েছে. অর্থনৈতিক ভাবে বড় কুড়ি দেশের ভাগে পড়েছে বিশ্বের দুই তৃতীয়াংশ কৃষি জমি ও বিশ্বের শতকরা আশি ভাগেরও বেশী দানা শষ্যের উত্পাদন. আর এই বারে মন্ত্রীরা সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবেন, প্রধান খাদ্য উপযুক্ত কৃষি পণ্যের এই রকম দামের ওঠা নামা নিয়ে কি করা দরকার, ঠিক করে বললে – কি করে তাদের একেবারে কম করা যায়.

    কৃষি দপ্তরের প্রধানদের বিবেচনার জন্য প্যারিস নিজের পক্ষ থেকে কার্যকরী এক পরিকল্পনা পেশ করবে. ফ্রান্সে শুধু সমগ্র বিশ্ব জোড়া খাবারের জিনিসের ঘাটতির দিকেই মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে না, দেখা হচ্ছে আরও স্থানীয় সমস্যা, যেমন, খাদ্য পণ্য নিয়ে ফাটকা বাজি. এলিসেই প্রাসাদে মনে করা হয়েছে যে: যদি দাম বাড়ে – তাহলে উত্পাদকের জন্য তা ভাল. সরকার নিজেদের কাজ বলে দেখতে পাচ্ছে যে, খাদ্য পণ্যের বাজারে বিনিয়োগ নিয়ে ফাটকা বাজির সঙ্গেই লড়াই করা কে প্রধান কাজ হিসাবে. সুতরাং এই নতুন পরিকল্পনার একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে কৃষিতে আরও বেশী করে বিনিয়োগ করার জন্য, যাতে তা আরও স্বয়ং শাসিত হতে পারে. একই সঙ্গে ফরাসী দেশ থেকে বলা হচ্ছে যৌথ তথ্য ভাণ্ডার গঠন করতে ও সঙ্কট কালে দ্রুত প্রতিক্রিয়ার ব্যবস্থা নিতে.

    বড় কুড়িটি দেশের দরকার প্রাথমিক ভাবে, দীর্ঘস্থায়ী কাজের স্ট্র্যাটেজি তৈরী করা. শুধু অর্থনৈতিক কারণ গুলিকেই বিচার করলে চলবে না, প্রাকৃতিক কারণ গুলিরও বিচার প্রয়োজন, এই কথা মনে করেছেন মস্কোর হায়ার স্কুল অফ ইকনমিক্সের আঞ্চলিক অর্থনীতি ও অর্থনৈতিক ভূগোলের বিভাগীয় প্রধান আলেক্সেই স্কোপিন, তিনি বলেছেন:

    "পারিবেশিক ও আবহাওয়া সংক্রান্ত পরিস্থিতি বিশ্বে বর্তমানে আরও বেশী করে অনির্দিষ্ট হয়ে পড়ছে. এখানে অর্থনৈতিক কারণ ছাড়া খাদ্য পণ্যের দাম বাড়ার কারণ হয়েছে যেমন জ্বালানীর দাম বাড়া, তার উপরে চাপ বেড়েছে পারিবেশিক ও আবহাওয়ার বিষয়েও. আগামী বছর গুলিতে বেশী করে কঠিন হবে খাদ্য উপযুক্ত পণ্য ও শষ্যের উত্পাদন সম্বন্ধে কোনও আগাম অনুমান করা".

    রাশিয়াতে এখনই প্রচেষ্টা করা হচ্ছে দানা শষ্যের বাজারে পরিস্থিতি স্থিতিশীল করার ও ১লা জুলাই থেকে শষ্য রপ্তানীর উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হচ্ছে. এটা বিশ্বের দানা শষ্যের বাজারে ভাল প্রভাব ফেলবে. তাছাড়া রপ্তানী খুলে দেওয়ার ফলে রাশিয়া বিশ্বের এই বাজারে নেতৃত্ব স্থানীয় অবস্থানে প্রত্যাবর্তন করতে পারবে, এই কথা মনে করে রুশ বিজ্ঞান একাডেমীর অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ বরিস ফ্রুমকিন বলেছেন:

    "রাশিয়া এমনিতেই গত বছর পর্যন্ত, যতদিন না খরার কারণে উত্পাদনের হার খুব কম হয়েছিল, ততদিন পর্যন্ত বিশ্বের দানা শষ্যের বাজারে তৃতীয় বা চতুর্থ স্থানেই ছিল. অর্থাত্ দেশ থেকে প্রায় ২০ মিলিয়ন টন দানা শষ্য রপ্তানী করত. এটা খুবই বড় এক সংখ্যা, আর রাশিয়া দেখিয়ে দিয়েছে যে, এমনকি এখনও, বর্তমানের কৃষি উত্পাদনের হারেও সেই পরিমানেই রপ্তানী করতে পারে. এই বছরে আশা করা হয়েছে উত্পাদন প্রায় ২০ মিলিয়ন টন বেশী হবে, সুতরাং দেশ আবার রপ্তানীর বাজারে এক নেতৃস্থানীয় রপ্তানী কারক দেশ হিসাবে প্রত্যাবর্তন করবে. আর ভবিষ্যতে সম্ভবতঃ রাশিয়ার অবস্থান আরও বেশী শক্তিশালী হবে, কারণ প্রধান সরবরাহ কারী দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অথবা ইউরোপীয় সংঘ – বর্তমানে তাদের দানা শষ্যের উত্পাদন হয় স্থিতিশীল করতে নয়তো কমাতে ব্যস্ত".

    "রেডিও রাশিয়া" যে সমস্ত বিশ্লেষকদের কাছে প্রশ্ন নিয়ে উপস্থিত হয়েছিল, তারা মনে করেন যে, খাদ্য শষ্যের সমস্যা সমাধানে প্রত্যেক দেশেরই উচিত দুটি দিকে একই সময়ে কাজ করা: নিজেদের দেশের সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করা ও প্রতিবেশী দেশ গুলিকে দেখে শেখা. কিন্তু আপাততঃ "সবজি স্ক্যাণ্ডাল" দেখিয়ে দিচ্ছে যে, সহকর্মীদের ব্যাখ্যা প্রায়ই হিসাবের মধ্যে গণ্য করা হয় না. এই কারণে শুধু আশাই করা যেতে পারে যে, কৃষি মন্ত্রীরা, যাঁরা বুধবারে প্যারিসে আলোচনা করছেন, তাঁরাই উদাহরণ স্থাপন করবেন এই ধরনের সহযোগিতার.