আন্তর্জাতিক সমাজের পারমানবিক শক্তির উপরে আস্থাকে আবার পুনরুদ্ধার করা প্রয়োজন. কি করে এটা করা হবে – তাই আলোচনা হচ্ছে আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি সংস্থার সদস্য দেশ গুলির মন্ত্রী পর্যায়ে. ভিয়েনা শহরে সোমবার থেকে এই ফোরাম শুরু হয়েছে. সমস্ত অংশগ্রহণকারীরাই একটি বিষয়ে একমত: জাপানের পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র "ফুকুসিমা – ১" বিপর্যয়ের পরে আগের মতই নিয়মে কাজ চালিয়ে যাওয়া চলতে পারে না.

    পারমানবিক জ্বালানী শক্তি বর্তমানে বিশ্বের বহু দেশের জন্যই খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে. পরমাণু শক্তি থেকে বর্তমানের বিশ্ব আসন্ন আগামী দিনে বারণ করতে পারে না. আর এখানে কারণ শুধু জ্বালানী শক্তির ভারসাম্যই নয়, এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার রসঅ্যাটম সংস্থার প্রধান সের্গেই কিরিয়েঙ্কো বলেছেন:

    "পারমানবিক শক্তি শুধু এই কারণেই প্রয়োজনীয় নয় যে, তা ছাড়া শক্তির ভারসাম্য বজায় রাখা সম্ভব হবে না. বিশ্বের পরিবেশ সংরক্ষণেও এর অনন্য অবদান রয়েছে. যদি মনে করা হয় যে, একদিন শুধু বিশ্বের সমস্ত পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র বন্ধ রাখা হবে ও অন্যান্য ধরনের শক্তি উত্পাদন করে এর ক্ষতি পূরণ করা হবে তবে এর অর্থ হবে এক বিলিয়ন ৭০০ মিলিয়ন টন কার্বন- ডাই অক্সাইড বাতাসে প্রতি বছরে ছাড়া. এটা বিশ্বের পরিবেশের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি".

    একই সময়ে অন্য বিষয় পরিস্কার হয়েছে জাপানের ফুকুসিমা – ১ বিদ্যুত কেন্দ্রের মতো বিপর্যয়, কখনও যেন আবার না হয়. এই বিপর্যয় শুধু এই কেন্দ্রের গঠনের ত্রুটির প্রতিই অঙ্গুলী নির্দেশ করে নি, বরং সেই ধরনের কেন্দ্রের নিরাপত্তার উপরে আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণের কৌশলের ত্রুটিকেও স্পষ্ট করেছে. কিন্তু পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থা এই প্রশ্নের উত্তর তাও দিতে সক্ষম হয় নি যে কেন ফুকুসিমার বিপর্যয় এত ভয়ঙ্কর আকার নিয়েছে. সুতরাং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার নীতি গ্রহণের আগে ( যা আজ বিশ্ব পারমানবিক নিয়ন্ত্রণ সংস্থা প্রস্তাব করছে), দরকার পড়বে অন্যান্য দেশের অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করে সবচেয়ে ভরসা যোগ্য পদ্ধতি গ্রহণ করার. কারণ জাপানের পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রে যা ঘটেছে – তা হল বিদ্যুত সরবরাহে বিভ্রাট, চলমান তথ্য বণ্টন ব্যবস্থার অনুপস্থিতি, আভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ও টেলিফোনের অভাব ইত্যাদি – যা রাশিয়ার পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রে ভাবাই যায় না.

    পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র গুলির নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রথম পদক্ষেপ ভিয়েনাতে আলোচনায় অংশগ্রহণকারী লোকেরা ইতিমধ্যেই নিয়েছেন. তাঁরা এই সংস্থার জেনেরাল ডিরেক্টর ইউকিও আমানোর প্রস্তাবিত কাঠামোকে গ্রহণ করেছেন, যেখানে রুশ রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভের উদ্যোগে নেওয়া প্রস্তাবকে সংযোজিত করা হয়েছে, এই বিষয়ে "রেডিও রাশিয়া"কে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে রসঅ্যাটম সংস্থার তথ্য সম্প্রচার দপ্তরের প্রধান সের্গেই নোভিকভ বলেছেন:

    "এই প্রস্তাবকে তিনটি অনুচ্ছেদে ফরমুলা আকারে প্রকাশ করা সম্ভব. প্রথমতঃ – বিশ্ব পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থার পরামর্শ, যা দেশ গুলিকে এই সংস্থার তরফ থেকে করা হবে, তা অবশ্য করণীয়. ফুকুসিমা কেন্দ্রে দূর্ঘটনার এক বছর আগে সংস্থার প্রতিনিধি দল নির্ণয় করেছিলেন যে, এই কেন্দ্র দূর্ঘটনা ঘটলে খুবই খারাপ ভাবে তার বিষয়ে প্রতিক্রিয়া করতে পারে. কিন্তু দুঃখের বিষয় যে, এই পরামর্শ কোম্পানীর পরিচালকেরা গ্রহণ করেন নি ও জাপানের সরকারও শোনে নি. দ্বিতীয়তঃ – আন্তর্জাতিক ভাবে এই ধরনের ঘটনায় প্রতিক্রিয়া করার উপযুক্ত ব্যবস্থা তৈরী করা দরকার – যাতে দূর্ঘটনার ফল নিয়ে কোন দেশ একা লড়াই করতে বাধ্য না হয়, বরং সারা বিশ্ব থেকে আসা প্রসারিত আন্তর্জাতিক পেশাদার লোকেদের সহায়তা পেতে পারে. আর তৃতীয়তঃ – দ্রুত জানানোর জন্য যে নিয়ম রয়েছে, তার পরিবর্তন করা. সেখানে স্পষ্ট ভাবে উল্লেখ করা থাকবে, কোন ধরনের তথ্য, কি রকমের নিয়মিত বিরতির পরে, কত পরিমানে আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থা, পারমানবিক ঘটনা সম্বন্ধে নিজের দেশের সমাজ ও প্রতিবেশী দেশ গুলিকে জানাতে বাধ্য হবে, সেই দেশ যাদের এই ধরনের পারমানবিক শক্তি কেন্দ্র রয়েছে".

    প্রথম আলোচনার দিন শেষ হয়েছে সম্মিলিত ঘোষণা গ্রহণ দিয়ে. এই দলিলে উল্লেখ করা হয়েছে পারমানবিক নিরাপত্তা বিষয়ক সমস্ত ক্ষেত্রেই আধুনিক অভিজ্ঞতা দেশ গুলির মধ্যে বিনিময় অবশ্য করণীয় বলে. কারণ যে কোন পারমানবিক শক্তি কেন্দ্রেই দূর্ঘটনা কোন একটি একক দেশের দুর্দশা নয়. এমন করা দরকার যাতে বিপর্যয় আর না ঘটে – এটাই আন্তর্জাতিক সমাজের কাজ.