সেন্ট পিটার্সবার্গের আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরামে শুধু উদ্ভাবনী প্রযুক্তি সংক্রান্ত মডেল ও তার রাশিয়াতে বাস্তবায়ন নিয়েই কথা হয় নি. এখানে অংশ নেওয়া বহু প্রতিনিধিদের প্রদর্শনীতে এই সমস্ত নতুন মডেলকে কাজ করছে এমন ভাবেও দেখতে পাওয়া গিয়েছে.

    খুচরো বিক্রয়ের প্রযুক্তিকে আধুনিক বৈদ্যুতিন তথ্য ভাণ্ডারের সঙ্গে যুক্ত করা নিয়ে প্রযুক্তির উপস্থাপনা করেছিল রসন্যানো কর্পোরেশন. এখানে কথা হচ্ছে বিক্রেতা বিহীণ পণ্য বিপনির, যখন সমস্ত জিনিসের উপরেই রেডিও তরঙ্গের সঙ্কেত বাহী চিহ্ন লাগানো থাকে. এই চিহ্ন দিয়ে জিনিস সম্বন্ধে সমস্ত তথ্যই জমা করা যায়. রসন্যানো কর্পোরেশনের আরও একটি উচ্চ প্রযুক্তির প্রকল্প খুবই উচ্চ মানের গ্যাস বেরিয়ে যাওয়া নির্ণয়ের যন্ত্র, এই বিষয়ে ব্যাখ্যা করে বলেছেন এই কর্পোরেশনের প্রধান আনাতোলি চুবাইস.

    "এখানে কথা হচ্ছে খুবই উচ্চ মানের সঙ্কেত নির্ণয় যন্ত্রের, যেগুলি ব্যবহার করলে খুবই সামান্য পরিমানে গ্যাসের উপস্থিতি থাকলে, বিশেষত কোন বিস্ফোরক পদার্থের চিহ্ন থাকলে তা নির্ণয় করা সম্ভব হয়. প্রসঙ্গতঃ এই প্রযুক্তি রাশিয়ার, সেন্ট পিটার্সবার্গের. আর এর ব্যবহার করার সম্ভাবনা শুধু পেশাদার ক্ষেত্রেই নয়, এমনকি সাধারন মানুষের জীবনের জন্যও প্রয়োজন".

    সংযুক্ত বিমান নির্মাণ কর্পোরেশনের সভাপতি মিখাইল পগোসিয়ান সেন্ট পিটার্সবার্গে উড়ে এসেছেন নব নির্মিত "সুপারজেট ১০০" বিমানে. এই বিমানের নির্মাতারা আরাম ও নিরাপত্তা সব কিছু নিয়েই ভেবেছেন, এই কথা উল্লেখ করে মিখাইল পগোসিয়ান বলেছেন

    "প্রথমতঃ, বিশাল প্রস্থচ্ছেদ প্রত্যেক যাত্রীর জন্যই প্রচুর হাওয়া খেলার জায়গা রেখেছে, তাকে কোন ছোট্ট চেয়ারে চেপে ধরে নি. দ্বিতীয়তঃ, উপরে জিনিস রাখার তাক গুলিও বড়. এর আয়তন স্বল্প ও মাঝারি পাল্লায় ওড়া বিমানের তাকের মতই, তাই এই বিমানের যাত্রীদের হাতের ব্যাগ মালপত্রের সঙ্গে দিয়ে দেওয়ার কোন দরকার নেই, যা খুবই সুবিধাজনক. আধুনিক শীত তাপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা রয়েছে. সুবিধাজনক শৌচাগার আছে, সেখানে এমনকি সেখানে বাচ্চাদের ডায়াপার পাল্টানোর জন্যও টেবিল রয়েছে. আঞ্চলিক বিমানে আগে এই সমস্ত সুবিধা ছিল না".

    আরাম দায়ক অবস্থা তৈরী করাই বহু উদ্ভাবনী প্রযুক্তির প্রধান লক্ষ্য হয়েছে, এই কথা উল্লেখ করেছেন "উদ্ভাবনী নীতিতে নতুন মডেল" এই প্রসঙ্গে যাঁরা আলোচনায় যোগ দিয়েছেন তাঁরা. "প্রযুক্তি নিজে কোন আগ্রহের সৃষ্টি করে না. তা তখনই আগ্রহের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়, যখন মানুষের প্রয়োজন মেটাতে সক্ষম হয়". – এই কথা উল্লেখ করেছেন রাশিয়ার ঝুঁকি পূর্ণ কাজের কোম্পানী নামে এক পাব্লিক শেয়ার হোল্ডার কোম্পানীর জেনেরাল ডিরেক্টর ইগর আগামিরজিয়ান.

এই কথা গুলির বর্ণনা হয়েছে রাশিয়ার কোম্পানী গুলির প্রদর্শনী. উদাহরণ স্বরূপ রিয়া নোভস্তি সংস্থা এই ফোরামের সমস্ত অংশগ্রহণকারীদের ত্রৈমাত্রিক ফোটো তুলে দিয়েছে. আর রাশিয়ার সবের ব্যাঙ্ক এক ত্রৈমাত্রিক ভিডিও মঞ্চ উপস্থিত করেছিল. সেখানে আমাদের সাংবাদিক প্রতিনিধি রমান মামোনভ প্রবেশ করে বলেছেন:

    "এই ফোরামের অতিথিরা এই মঞ্চে প্রবেশ করে এমন এক জায়গায় পৌঁছে যাচ্ছিলেন, যাতে মনে হচ্ছিল মাথার উপরে নীল আকাশ ও পায়ের তলায় ও চারপাশে মাঠ, গাছপালা সমেত প্রকৃতি রয়েছে, অথবা শহরের স্কাই স্ক্র্যাপার বাড়িঘর, রাস্তার অ্যাসফাল্ট. এমন মনে হয় যেন, সত্যিই আপনি সেখানে রয়েছেন. আর সবের ব্যাঙ্কের তরফ থেকে আনা হয়েছিল এক যন্ত্র, যা তাদের গ্রাহকদের কাজ কর্মের বিশ্লেষণ করে ঠিক করে দেয় যে, ঋণ প্রার্থী গ্রাহক নিজের সম্বন্ধে সত্য কথা বলছেন না কি মিথ্যা. আর এই যন্ত্রের পরীক্ষার ফলের উপরে ভিত্তি করেই ঠিক করা হবে ঋণ দেওয়া উচিত হবে কি না".

পিটার্সবার্গের অর্থনৈতিক ফোরাম আধুনিক প্রযুক্তির প্রদর্শনীর এক মঞ্চ হয়েছে, যেগুলি এর মধ্যেই সাফল্যের সঙ্গে কাজ করছে সারা বিশ্বে. "ব্যবসায়ীদের ল্যাবরেটরীর" কাঠামোতে এই ফোরামে আসা লোকেরা এক সম্পূর্ণ নতুন ধরনের দিক নির্দেশ ব্যবস্থা ট্রানজাস দেখতে পেয়েছেন, যেটি রাশিয়ার বিজ্ঞানী ও একই নামের কোম্পানীর সভাপতি নিকোলাই লেবেদেভ ভেবে বানিয়েছেন. বর্তমানে এই ধরনের ব্যবস্থার কোনও প্রতিযোগী বিশ্বে নেই, আর তা খুবই সক্রিয় ভাবে আকাশ ও মাটির নীচের এলাকা জয় করে চলেছে. আর সব কিছু মাত্র ২০ বছর আগে মানচিত্রের বৈদ্যুতিন তথ্য ভাণ্ডার তৈরী করা দিয়ে শুরু হয়েছিল, এই কথা উল্লেখ করে নিকোলাই লেবেদেভ বলেছেন:

"বৈদ্যুতিন মানচিত্র, যা আজ জীবনের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ বলে মনে হয়, সেই সময়ে ছিলই না, কেউই তৈরী করতেন না. আর বড় কোম্পানী গুলি যেমন গোগোল, এমনকি এগুলির ধারে পাশেও আসতে চাইত না. আর আমরা বুঝে ছিলাম যে, এটি ছাড়া কিছু হবে না. আর তার ফলে আমরা সারা বিশ্ব জোড়া এক মানচিত্রের বৈদ্যুতিন ভাণ্ডার তৈরী করতে শুরু করেছিলাম. এটাই ছিল একটি মূল মুহূর্ত, যা আমাদের সারা বিশ্বেই বের হতে সাহায্য করেছে. আমরা এই ধরনের জিনিস তৈরী করে, তা বিক্রী করার উপযুক্ত সরবরাহ কাঠামো তৈরী করেছিলাম. যেহেতু সামুদ্রিক জাহাজের নাবিকেরা সাধারণতঃ আন্তর্জাতিক, আমাদের পক্ষে সম্ভব হয়েছিল ২০টিরও বেশী সরবরাহ কাঠামো তৈরী করে বিশ্বের ১৩০ টিরও বেশী দেশে সক্রিয় ভাবে আমাদের বৈদ্যুতিন মানচিত্র বিক্রী করার".

আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরাম – ২০১১ তে নূতন প্রযুক্তির ক্ষেত্রে অনেক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যার অর্থ মূল্য ৭০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশী. এই ভাবেই পিটার্সবার্গের অর্থনৈতিক ফোরাম শুধু আলোচনার জায়গা হয়েই থাকে নি, এক ধরনের আধুনিক প্রযুক্তির প্রদর্শনী ক্ষেত্র ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক স্থাপনের জন্য এক ভাল জায়গার খ্যাতি পেয়েছে.