ত্রিপোলি শহরে বিমান হানাতে সাধারন মানুষের প্রাণ হারানোর খবর ন্যাটো স্বীকার করেছে. এই সম্বন্ধে বলা হয়েছে রবিবারে জোটের পক্ষ থেকে করা এক ঘোষণায়. এই ভাবেই লিবিয়াতে ৯০ দিন "পালন" করেছে জোট.

    বাস্তবে ন্যাটো এই প্রথমবার সারা সময়ের মধ্যে নিজেদের কাণ্ডে স্পষ্ট ভাবে স্বীকার করেছে শান্তিপ্রিয় লিবিয়ার মানুষদের হত্যাকে. রবিবার ভোর রাতে তাদের বোমারু বিমান হানায় সব মিলিয়ে ৯ জন মারা গিয়েছে ও অন্ততঃ ১৮ জন আহত. অংশতঃ, ত্রিপোলি শহরে এক বসত বাড়ী ভেঙে পড়ে তার তলায় একটি পাঁচ জন মানুষের পরিবার জীবন্ত অবস্থায় কবরে গিয়েছেন. জোটের শক্তির নেতৃত্ব মনে করে যে, এটা সম্ভবতঃ তাদের লক্ষ্য নির্ধারণের ব্যবস্থায় কিছু ভুলের কারণে হয়েছে, কারণ তাদের নাকি লক্ষ্য ছিল ত্রিপোলি শহরের মাটি থেকে আকাশে ছোঁড়ার উপযুক্ত রকেটের ভান্ডার. মুহম্মর গাদ্দাফি প্রশাসনের সরকারি উত্স থেকে নিয়মিত ভাবে জানানো হচ্ছে শান্তিপ্রিয় মানুষের মধ্যে মৃত্যু ও আহত হওয়ার খবর. তাঁদের তথ্য অনুযায়ী বোমা বর্ষণ শুরু হওয়ার পর থেকে গত সপ্তাহের শেষ অবধি নিহত হয়েছেন ৮৫৬ জন মানুষ. ন্যাটো জোট এই পরিসংখ্যান মানতে রাজী নয়, যদিও তাদের কাছে পাইলট বিহীণ বোমারু বিমান ও হেলিকপ্টার থেকে নেওয়া খুবই খুঁটিয়ে দেখার মতো ফোটো রয়েছে.

    এই প্রসঙ্গে রাশিয়ার বিজ্ঞান একাডেমীর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের প্রাচ্য গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান আন্দ্রেই ভলোদিন মনে করেন যে, লিবিয়াতে যে অপারেশন চলেছে, তার সম্পূর্ণ ব্যর্থতাই প্রমাণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন:

    "ন্যাটো জোটের বোমা বর্ষণ থেকে বহু দেশের মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন. এটা বাস্তবে ইরাকের বাসিন্দারা, আফগানিস্তানের ও পাকিস্তানের নাগরিকেরা, তা সেখানে আমেরিকার লোকেরা যে রকমেরই কাজ কারবার করে থাকুক না কেন: একা অথবা তাদের স্ট্র্যাটেজিক জোটের লোকেদের সঙ্গে, যেভাবেই হোক না কেন. এখন আমরা একই ঘটনা লিবিয়াতেও দেখতে পাচ্ছি. তাই এই সমস্ত দেশে পশ্চিমের প্রতি সম্পর্ক খুব নরম ভাবে বললে বলা যেতে পারে মৈত্রীর নয়. আমেরিকা বিরোধী মনোভাব বৃদ্ধি পেয়েছে, আর একমাত্র সম্ভাব্য পথ এই ধরনের মনোভাব বৃদ্ধি হওয়া কমানোর. তা হল বোমা বর্ষণ বন্ধ করা. আর লিবিয়া সম্পর্কে যা বলা যেতে পারে, সেখানে মানতে বাধ্য যে, এই অভিযান একেবারেই বিফল হয়েছে. পরিষ্কার দেখতে পাওয়া যাচ্ছে যে, ন্যাটো জোটের সামরিক নেতৃত্ব মোটেও অনুমান করতে পারে নি যে, এই ঘটনা এতদিন ধরে চলতে পারে ও ফল হতে পারে শূণ্য. প্রসঙ্গতঃ শূণ্য ফল হয়েছে তাদের জন্যই, যারা এটা শুরু করেছিল".

    ন্যাটো জোটের তিন মাস ধরে টানা বোমা বর্ষণের জয়ন্তী গত ছুটির দিন গুলিতে মলিন হয়েছে জোটের বিমান বাহিনীর বিদ্রোহী জঙ্গী বাহিনীর উপরেই "মিত্র সুলভ বোমা বর্ষণে". ১৬ জন যোদ্ধা আহত হয়েছে. মার্সা- এল – ব্রেগা শহরের কাছে ভুল করে তাদেরই এক দলের উপরে বোমা মারা হয়েছে, যাদের নাকি ভুল করে মনে হয়েছিল গাদ্দাফির দলের লোক. এটা জোটের অপারেশনের নতুন করে হোঁচট খাওয়ার লক্ষণ. লিবিয়াতে রাশিয়ার প্রাক্তন রাজদূত ও রাশিয়ার বিজ্ঞান একাডেমীর প্রাচ্য অনুসন্ধান ইনস্টিটিউটের সিনিয়র বৈজ্ঞানিক সহকর্মী আলেক্সেই পদ্তসেরাব বলেছেন:

    "পশ্চিমের রাজনীতির প্রাথমিক লক্ষণ গুলি দেখা যাচ্ছে, তাদের অসাফল্য লক্ষ্যনীয়. এই খেলার শেষ এখনও হয় নি. যদি এর পরে পদাতিক বাহিনীর অনুপ্রবেশ ঘটে, তবে সেটা হবে নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্তের সম্পূর্ণ বিরোধী. পশ্চিম এই পথে যাবে বা যাবে না, তা বলা সম্ভব নয়. অবশ্যই তাদের সামনে যখন এই অপারেশনের বিফল হওয়ার চিত্র স্পষ্ট হবে, তখন তাদের সামনে দুটোই পথ খোলা থাকবে: হয় হার স্বীকার করতে হবে, নয়তো এই অঞ্চলে উপস্থিতি বাড়াতে হবে. আর এই পরিস্থিতিতেই মধ্যস্থতা করার চেষ্টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ হবে, রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণে পৌঁছনোর প্রচেষ্টা হবে, যা আজ রাশিয়া করছে".

    মধ্যস্থতা করার মিশন নিয়ে আফ্রিকা সংঘ ও চিনও প্রস্তুত. মঙ্গলবারে লিবিয়ার বিরোধী পক্ষের নেতা মাহমুদ জিব্রাইল বেইজিং পৌঁছবেন. এর আগে জুন মাসে চিনের কূটনীতিবিদেরা লিবিয়ার বিরোধী পক্ষের লোকেদের সঙ্গে কাতারে দেখা করেছেন. এই যোগাযোগের লক্ষ্য হল – অগ্নি বর্ষণ সম্বরণ ও বেনগাজি আর ত্রিপোলির মধ্যে আলোচনার শুরু. আজ বিরোধী পক্ষের "অর্থমন্ত্রী" আলি তারখুনি স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন যে, তাদের কাছে আর অর্থ নেই মুহম্মর গাদ্দাফির বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনা করার মতো. তিনি বলেছেন – "আমাদের সবই ফুরিয়ে আসছে. এটা সম্পূর্ণ পতন. হয় পশ্চিম এটা বুঝতে পারছে না অথবা তাদের কাছে সবই সমান". আরবী দেশ গুলির চ্যানেল আল আরাবিয়া এই ঘোষণার উপরে মন্তব্য করেছে ও খবর দিয়েছে ন্যাটো জোটের মধ্যে গভীর মত বিরোধের. মুহম্মর গাদ্দাফির বিরুদ্ধে জোটের অপারেশনের পর থেকে বেশ কিছু জোটের দেশই রণে ভঙ্গ দিয়েছে. আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কিছু ইউরোপের জোটের দেশকে অভিযোগ করেছে যে, তারা লিবিয়াতে নিজেদের মিশন বিবেকের প্রতি সত্ থেকে করছে না.