সেন্ট পিটার্সবার্গের আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরামের শেষ কাজের দিনে দিমিত্রি মেদভেদেভ ফাইনান্সিয়াল টাইমস পত্রিকাকে একটি বড় ইন্টারভিউ দিয়েছেন. মূখ্য প্রশ্ন অবশ্য কোন ভাবেই মৌলিকতায় আলাদা হতে পারে নি, রাশিয়ার রাষ্ট্রপতিকে এই প্রশ্ন এর মধ্যে একবার করা হয় নি. কথা হয়েছিল আগামী ২০১২ সালের দেশের নেতা নির্বাচনে ও তথাকথিত ট্যান্ডেম নেতৃত্বে মত বিরোধ নিয়ে. আর ব্রিটেনের লোকেরা যত চেষ্টাই করুক না কেন মেদভেদেভ কে চমকপ্রদ ভাবে "হ্যাঁ" বা "না" বলাতে, উত্তর ছিল একেবারেই সাধারন: জোরালো ঘোষণা করার মতে সময় এখনও আসে নি. যদিও দেশের নেতা স্বীকার করেছেন যে, নিজের শুরু করা বিষয় গুলিকে শেষ অবধি করার ইচ্ছা তাঁর রয়েছে ও রাশিয়ার অভ্যস্ত ছবিটি তিনি পাল্টে দিতে চান.

    গত ছয় মাসে আগামী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে কত বার যে প্রশ্ন করা হয়েছে. আর প্রত্যেক বারেই দেশের প্রধান, ঘটনা ক্রমকে দ্রুত করতে নিষেধ করেছেন. এই তো এ বারের সেন্ট পিটার্সবার্গের অর্থনৈতিক ফোরামে মঞ্চের পিছনে প্রথমে এই প্রশ্ন ফিসফিস করে আলোচনা করা হয়েছে, তারপর তা মঞ্চ থেকেই জোর গলায় করা হয়েছে, আর তারপরে করা হয়েছে ফাইনান্সিয়াল টাইমস পত্রিকায় রাষ্ট্রপতির সাক্ষাত্কারের সময়ে. দিমিত্রি মেদভেদেভ বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি যেমন রুশ, তেমনই বিদেশী ব্যবসায়ীদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ বুঝতে পারেন. তাই তিনি বলেছেন:

    "আমি মনে করি যে, আমরা সকলেই – তা যেমন রাষ্ট্রপতি, যেমন প্রশাসন, তেমনই পার্লামেন্ট সমস্ত কিছুই আমাদের সাধ্যের মধ্যে করতে বাধ্য যাতে, এই ধরনের অস্পষ্ট বিষয় আমাদের দেশে বিনিয়োগের পরিবেশে কেনও প্রভাব না ফেলে. আধুনিক ও উন্নত অর্থনীতির সঙ্গে উন্নতিশীল অর্থনীতির পার্থক্য কোথায়? আর আমাদের আপাততঃ উন্নতিশীল অর্থনীতি. তা হল যে, ক্ষমতার সমস্ত উথাল পাথাল: কে কোথায় পড়ছে, কাকে নির্বাচিত করা হচ্ছে, কাকে নির্বাচন করা হচ্ছে না, এই সবই খুব একটা বড় মাপে বিনিয়োগের পরিবেশে প্রভাব ফেলে না. শেষ মেষ, গ্রেট ব্রিটেনের জন্য কি মানে আছে, কাকে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন করা হয়েছে, তার উপরে? অথবা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য – কে রাষ্ট্রপতি হবে, তার উপরে? তাদের অর্থনৈতিক পরিবেশ বা দেশের মুদ্রার অবস্থা, তাও খুব কমই নির্ভর করে এই জেতা হারার উপরে, ধরা যাক লিবারেল বা কনজারভেটিভ দলের মধ্যে কারা জিতবে, তার উপরে, অথবা যেমন রিপাব্লিকান না ডেমোক্র্যাট কারা জিতেছে".

    নির্বাচনের প্রসঙ্গে ও ট্যান্ডেম সম্পর্ক নিয়ে এই বিষয় দিমিত্রি মেদভেদেভের সঙ্গে এই ব্রিটিশ পত্রিকার সাক্ষাত্কারের প্রধান বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে. আর এখানে কিছুই গোপন করার মতো নেই, বলে মনে করেছেন রাষ্ট্রপতি. অবশ্যই রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বহু সমস্যা সমাধানের পথের বিষয়ে মত পার্থক্য রয়েছে. বরং এটাই স্বাভাবিক, আর মত বিভেদ নিয়ে কথাবার্তার বরং কোনও ভিত্তিই নেই. দেশের নেতা ২০১২ সালের নির্বাচনে একই সঙ্গে দুই নেতার অংশগ্রহণ বিষয়কে খুবই কম সম্ভাব্য বলে মনে করেছেন. তাই তিনি বলেছেন:

    "আপনারা জানেন, আমি ভাবি যে, এটা অন্ততঃ একটা কারণের জন্যই খুবই কঠিন হবে কল্পনা করা. ব্যাপার হল যে, আমরা ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে (আমার পুরাতন কমরেড ও সহকর্মী) তাও অনেকটাই একই রাজনৈতিক শক্তির প্রতিনিধি. এই অর্থে আমাদের মধ্যে কোন প্রতিযোগিতা থাকলে, তা ক্ষতিকর হবে, বিশেষত সেই সমস্ত কাজ ও লক্ষ্যের জন্য, যেগুলি আমরা বিগত বছর গুলিতে বাস্তবায়িত করেছি. তাই বোধহয়, এটা আমাদের দেশের জন্যেই ও এই নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে খুব ভাল কিছু হতে পারে না".

    রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি প্রসঙ্গতঃ গোপন করেন নি যে, তিনি ক্রেমলিনে আরও একটি মেয়াদ কাটাতে চান. আর সব মিলিয়ে, মেদভেদেভ উল্লেখ করেছেন যে, যে কোন দেশেই যে কোন রাষ্ট্রপতি বাধ্য আবার নির্বাচিত হতে চাইতে. যাতে সমস্ত শুরু করা প্রক্রিয়া গুলিকে শেষ অবধি নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়. আর রাশিয়ার নেতার পরিকল্পনা অনেক, আর সেই গুলির জন্য দরকার খুবই জোর দিয়ে অনেক গুলি বছর কাজ করা. তাই তিনি বলেছেন:

    "যদি আমি রাষ্ট্রপতি হিসাবে দ্বিতীয় বার কাজ করি, যা আমাদের সংবিধান সম্মত, তবে আমি অবশ্যই সব কিছুই করতে চাইব, যাতে আমার ঘোষিত লক্ষ্যকে বাস্তবায়িত করা সম্ভব হয়: আমাদের অর্থনীতিকে আধুনিক করা, আমাদের সমাজকে তার রাজনৈতিক ব্যবস্থা সহ আধুনিক করা. আমি খুব একটা আত্ম বিশ্বাসী নই যে, আমার পক্ষে সব করা সম্ভব হবে. কিন্তু আমার এই বিষয়ে খুবই আগ্রহ রয়েছে, আর আমি এর জন্য কাজও করব. আমার ইচ্ছা হয়, যাতে রাশিয়া ১০ বছর বাদে এক সাফল্যময় দেশে পরিনত হয়, যেখানে সফল ও সমৃদ্ধ মানুষের বাস. এর অর্থ নয় যে, ১০ বছর বাদে আমরা সমস্ত সম্ভাব্য মান ও সাফল্য পেয়ে যাব. কিন্তু তা স্বত্ত্বেও, আমরা ইচ্ছা হয় ১০ বছর বাদে যেন আমরা আমাদের জীবন যাত্রার মানকে অনেকটাই উন্নত করতে পারি. দ্বিতীয়তঃ, রাশিয়া শক্তিশালী রাষ্ট্র হতে বাধ্য, যার রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের সমস্ত লক্ষণই থাকবে, যে দেশ আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের অবস্থানকে সুরক্ষিত করতে পারে, আর রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের এক দায়িত্বশীল সদস্য হতে পারে, স্থায়ী সদস্য দেশ হতে পারে. এমন দেশ, যার উপরে অন্যান্যরা নির্ভর করে দাঁড়াতে পারে, তা দেশও হতে পারে. তৃতীয়তঃ, আমার আরও ইচ্ছা হয় যে, যাতে রাশিয়া এক আধুনিক দেশ হয়, যাতে এই দেশ সবচেয়ে প্রসারিত ধারণায় উন্নতির নেতৃত্বে থাকতে পারে".

    রাষ্ট্রপতির কাজে কিছু নেতিবাচক বিষয়ও অবশ্য সত্যই রয়েছে, যেগুলির সম্বন্ধেও দিমিত্রি মেদভেদেভ বলেছেন. তিনি আগে স্বাধীন ভাবে মোবাইল ফোন বন্ধ রেখে বিশ্রাম করতে ও খেলাধুলা করতে পারতেন. রাশিয়ার নেতা অনুযোগ করে বলেছেন, এখন কাজ থেকে কোথাও লুকোনোর উপায় নেই ও সারাক্ষণ এক টানাপোড়েন অবস্থার মধ্যেই বাঁচতে হয়.