আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসীচক্র ‘আল-কায়দা’ নিজেদের নতুন নেতা নির্বাচন করেছে।নির্বাচিত এই  নেতা নিহত ওসামা বিন লাদেনের একান্ত ঘনিষ্ঠজন ছিল বলে জানা গেছে। আল-কায়দার নতুন নেতা মিসরের নাগরিক এবং তার নাম আইমান আল জাওয়াহিরি । তার অবস্থান সম্পর্কে যদি কেউ জানাতে পারে সেই শর্তে যুক্তরাষ্ট্র অনেক পূর্বেই ২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পুরষ্কার ঘোষণা করেছে।

‘আল-কায়দা’ নেতা নির্বাচনের জন্য সংগঠনটির অভ্যন্তরীণ নির্দিষ্ট কিছু নিয়ন-কানুন রয়েছে। কিশোর বয়স থেকেই আইমান আল জাওয়াহিরি  বিতর্কিত ইসলামিক মতাদর্শে জড়িয়ে পরেন। ১৪ বছর বয়সে তিনি মিসরের ‘মুসলিম ব্যাদারহুড’এ যোগদান করেন। এরপরে তিনি ‘ইসলামিক জিহাদ’ ছাড়াও বিভিন্ন সংগঠনের শীর্ষ নেতার দায়িত্বে ছিলেন। জাওয়াহিরি  একই সাথে চিকিত্সাবিদ্যায় অধ্যয়ন অব্যহত রাখেন এবং  একজন সার্জারী চিকিত্সক হিসাবে পেশাগত জীবন শুরু করেন।তিনি ৮০ শতকের দিকে পাকিস্তানে পেশাদারী  চিকিত্সক হিসাবে কাজ করেন। সেখানে আফগানিস্তান-সোভিয়েত যুদ্ধে অংশ নেয়া আহত আফগান সৈনিকদের চিকিত্সা প্রদান করেন তিনি।প্রসঙ্গত, সেই সময় “সেবা মূলক” ঐ কার্যক্রমের পুরোটা অর্থ যোগান দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তান।

আল জাওয়াহিরির  জেল খাটার অভিজ্ঞতাও রয়েছে। ১৯৮১ সালে মিসরীয় প্রেসিডেন্ট আনওয়ার সাদাতকে হত্যার অভিযোগে তাকে গ্রফতার করা হয়েছিল। জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর  ওসামা বিন লাদেনের সাথে তার পরিচিয় ঘটে এবং  ১৯৮৫ সাল থেকে তারা আল-কায়দার ‘এক’ এবং ‘২য়’ নামে পরিচিত। আল জাওয়াহিরি এমনকি রাশিয়ার উত্তর কাবকাজে(ককেশাস) চেচনিয়া বন্ধুকধারীদের সাথে একযোগে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড পরিচালনা করেছেন। ঐ সময় রাশিয়ার সিমান্তরক্ষী বাহিনী তাকে ৬ মাস জেল হাজতে পাঠানোর আহবান জানিয়েছিল। ৯০ দশকের শেষ দিকে ওসামা বিন লাদেনের সাথে একত্রিত হয়ে আল জাওয়াহিরি ‘ইহুদি ও খ্রিষ্টানদের বিরুদ্ধে জিহাদ’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক ইসলামিক ফ্রন্ট গঠন করেন। মার্কিন গোয়েন্দা দলের সূত্র মতে,আল জাওয়াহিরি কেনিয়া ও তানজানিয়ার মার্কিন দুতাবাসে হামলার সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন। ঐ বোমা হামলায় ২০০-র অধিক ব্যক্তি নিহত হয়েছিল।

তাই বলাই যেতে পারে যে,আল-কায়দা বেশ দক্ষ,চতুর ও বিচক্ষন একজন নেতাকে পেয়েছে। তবে আল জাওয়াহিরি  সম্পর্কে পেন্টাগনের প্রধান রবার্ট গেইটস যে মন্তব্য করেছেন তার সাথে একমত পোষন করা বেশ কষ্টকর। ঐ মন্তব্যে তিনি বলেছিলেন,বিন লাদেনের যে অভিজ্ঞতা ছিল তা আল জাওয়াহিরির মধ্যে নেই। আল জাওয়াহিরির দীর্ঘ সময়ের সন্ত্রাসী কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা একেবারে উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না। তাছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ইতিপূর্বে জানিয়েছে, বিন লাদেনেরই অনুরুপ পরিনতি আল জাওয়াহিরির জন্য অপেক্ষা করছে।

এই বিষয়ে রেডিও রাশিয়াকে জানান দূরপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ইগর হালোভ।তিনি বলছেন,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ওসামা বিন লাদেনর সহকর্মীদের হত্যার অভিযান চালিয়ে যাবে।আজ হোক কাল হোক একদিন তারা করবেই।পশ্চিমা ধারার রাখাল বালক রাজনীতি বলতে কি বুঝায় সেই বিষয়টি এখানে বোঝা দরকার। আমরা সব খারাপ ব্যক্তিদের গুলি করবো এবং শুধুমাত্র ভালরাই অবশিষ্টি থাকবে।বর্তমান পেক্ষাপটের আলোকে এই ধারনা কাজ করছে না। যদিও শীর্ষ নেতাদের হত্যা করার ঘটনার প্রভাব যা দীর্ঘ সময় ধরেই থাকে। তবে আল-কায়দা অনেক প্রসারিত একটা সংগঠন।স্থানীয় কর্মীদের সাথে অনেক সময় শীর্ষ নেতাদের কোন যোগাযোগ থাকে না। ইন্টারনেটের মাধ্যমে তারা একে অপরের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করেন।

ইগর হালোভ মনে করছেন যে,সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য সামাজিক অবস্থা বিবেচনা করা দরকার।দেখা যায় যে,বেকারত্ব ও দারিদ্রতাই অধিকাংশ লোকজনের আতংকবাদী দলে যোগদানের অন্যতম কারণ। তবে এক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ মনে করছেন,রাশিয়ার উত্তর কাবকাজে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান কার্যক্রমে রুশ প্রশাসন সঠিক ধারায় কাজ করছে।ঐ অঞ্চলের আর্ত-সামজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে সরকারের বেশ কিছু প্রকল্প পরিচালিত হচ্ছে। যখন  মানুষের স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থকার একটা অবলম্বন তৈরী হয় তখন স্বভাবতই সন্ত্রাসবাদী ধারনা নিজ ইচ্ছায় চলে যায়।এই উদাহরন প্রযোজ্য হতে পারে আফগানিস্তান,পাকিস্তান ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের জন্য যেখানে আল-কায়দা বা অন্যান্য সন্ত্রাসবাদী সংগঠন বেশ তত্পর রয়েছে ।