রাশিয়া আধুনিকীকরণের পথে উন্নতি করার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করতে সক্ষম ও যথেষ্ট শক্তিশালী দেশ বাইরের থেকে আসা ঝুঁকি কমানোর জন্য. এই রকমের এক ঘোষণা সেন্ট পিটার্সবার্গের আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরামে বক্তৃতা দিতে গিয়ে রাশিয়া রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ আজ করেছেন. আর এই বক্তৃতার মূল সুর খুবই স্পষ্ট: রাশিয়া "সবুজ পথ" খুলে ধরছে সারা বিশ্বের সমস্ত বিনিয়োগকারীদের জন্যই. এই ভাবেই দেশে বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ীদের জন্য দীর্ঘ সময়ের ভিসা দেওয়া হবে, যাঁদের রাশিয়াতে নিজেদের বেশ ভাল রকমের ব্যবসা রয়েছে ও তার মধ্যে সেই সমস্ত প্রকল্পের কাজ রয়েছে, যেমন, স্কোলকোভা উদ্ভাবনী কেন্দ্রে ও মস্কো শহরে নির্মীয়মাণ আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ কেন্দ্রে.

    বিশ্ব বিনিয়োগ সঙ্কট সারা পৃথিবীতেই খুব ভারসাম্যের অভাব ঘটিয়েছে. এই প্রসঙ্গে বিনিয়োগকারীরা অবশ্যই নতুন বাজার অন্বেষণে ব্যস্ত হয়েছেন, কিন্তু তাঁরা আমাদের দেশকে বেছে নেবেন কি না  - তা অনেকটাই আমাদের নিজেদের উপরেই নির্ভর করছে, এই কথা উল্লেখ করে দিমিত্রি মেদভেদেভ বলেছেন:

    "রাশিয়ার উচিত্ হবে নতুন সব সম্ভাবনা প্রস্তাব করার – তা ক্রমবর্ধমান গ্রাহক চাহিদা থেকে শুরু করে বহু পরিকাঠামো উন্নয়ন সম্পর্কিত প্রকল্প পর্যন্ত সবই, যা আমাদের প্রতিবেশী দেশ গুলির সঙ্গে বর্তমানে একক অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্মাণের জন্যই প্রয়োজন. এটা বাস্তবেই বর্তমানের বিশ্বে আমাদের এক বিশাল ও আগ্রহের বাজারে পরিনত করেছে".

    বিশ্ব অর্থনীতির জন্য আরও বেশী করে বিপদ হয়েছে খনিজ তেলের দামের দ্রুত পরিবর্তন. নিকট প্রাচ্যের ও উত্তর আফ্রিকার ঘটনা, জাপানের বিপর্যয়ের ফল – এই সমস্ত ঘটনাই তেলের দাম বাড়িয়েছে. কিন্তু রাশিয়া কাঁচামালের বেশী দামের উপর নির্ভর করে পরিকল্পনা করছে না – এটা আমাদের পরিকল্পনার সঙ্গে মেলে না, এই কথা উল্লেখ করেছেন দিমিত্রি মেদভেদেভ. বর্তমানের রাশিয়ার লক্ষ্য – বিশ্ব অর্থনীতির অংশ হওয়া, আর এর মানে হল, বিশ্বের নেতৃত্বে থাকা অর্থনৈতিক সংস্থাগুলির সম্পূর্ণ অধিকার শালী সদস্য হওয়া, এই প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি বলেছেন:

    "আরও বেশী করে রাশিয়ার অর্থনীতির বিশ্ব অর্থনীতিতে সমাকলন – একই সঙ্গে হবে কোন ব্যতিক্রমী পট পরিবর্তন ছাড়াই. তাই আমরা বিদেশী বিনিয়োগের জন্য বাধার উচ্চতা নামিয়ে আনবো ও আশা করবো রাশিয়ার বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা ও পরবর্তী পর্যায়ে অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থায় প্রবেশ. বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা সম্পর্কে যা বলা যেতে পারে, তা হল মনে করি এই বছরেই বাস্তবে এই কাজ শেষ হতে পারে. যদি না, আবার কোন নতুন রাজনৈতিক খেলা শুরু হয়".

    এই সমস্ত খেলার সারার্থ মেদভেদেভ সহজেই বুঝিয়ে দিয়েছেন রাশিয়া অনেকদিন থেকেই বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় অন্যান্য দেশের থেকে অনেক বেশী করে তৈরী আছে. কিন্তু তার কাছ থেকে চেষ্টা হচ্ছে অনেক বেশী ছাড় আদায় করার, তিনি বলেছেন:

    "এই ধরনের পদ্ধতি মেনে নেওয়া যেতে পারে না, আর খোলাখুলি ভাবে রাশিয়ার জন্য লাভ জনক নয়, এমন কোন সিদ্ধান্তের পথে আমরা কখনোই যাবো না. যদি আমাদের সহকর্মী দেশেরা রাশিয়ার প্রতি ন্যায্য পথে এই ধরনের আন্তর্জাতিক সংস্থায় প্রবেশের পক্ষে যেতে তৈরী না থাকেন, তবে এটা খুব বাজে রকমের কাজ হবে. কিন্তু তখনও আমরা আমাদের কাজ অন্য পথে সমাধা করবো – দ্বিপাক্ষিক চুক্তি সম্পাদনের মাধ্যমে. যে ভাবেই হেক, আলাদা কোন রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক স্বার্থ আমাদের সফল উন্নতির পথে অন্তরায় হতে পারে না".

    মেদভেদেভ একই ভাবে বিশ্বাস করেন যে, আন্তর্জাতিক হিসাবের ক্ষেত্রে আরও বেশী করে রুবল ও ইউয়ানের ব্যবহার বিনিয়োগ ব্যবস্থাকে আরও আরাম দায়ক ও নমনীয় করতে পারে.

    রাশিয়া আন্তর্জাতিক ইনস্টিটিউট গুলিতে নিজেদের অবস্থানকে সব চেয়ে বেশী করে ব্যবহার করবে, এই কথা বলেছেন রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি, তিনি এই ক্ষেত্রে মনে করেছেন বড় আট অর্থনৈতিক ভাবে উন্নত দেশের ফোরাম, ব্রিকস ফোরাম. একই সঙ্গে এই দুই কাঠামোতে রাশিয়ার কাজ দেশকে সুযোগ করে দিয়েছে বিভিন্ন অবস্থানের মধ্যে ঐক্যতান আনার জন্য এক ধরনের সেতুর কাজ করার ও আজকের দিনের আরও বেশী অর্থনৈতিক ভাবে প্রভাবশালী জি ২০ দেশের ফোরামের ফলপ্রসূ ভাবে ব্যবহার করার.

    আজকের রাশিয়া বেশ কয়েকটি উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছে, যা খুবই প্রসারিত ভাবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রভাবশালী মঞ্চে আলোচিত হচ্ছে. এটা – যেমন পারমানবিক নিরাপত্তা ও মেরু প্রদেশে নিরাপদ ভাবে কাজ করার বিষয় নিয়ে আলোচনা, তেমনই বুদ্ধি প্রসূত সম্পত্তি ও স্রষ্টার অধিকার সংক্রান্ত আইন নিয়ে সমস্যা সমাধান. কিন্তু আমাদের আরও এগিয়ে যেতে হবে, এই বিষয়ে জোর দিয়ে দিমিত্রি মেদভেদেভ বলেছেন:

    "আমি মনে করি যে, বর্তমানে সর্বজনীন উন্নতির নীতি ও অর্থনৈতিক রাজনীতির প্রসঙ্গে বিশ্বে নেতৃত্বদানকারী দেশ গুলির মধ্যে নতুন গুণ সম্পন্ন চুক্তি করা প্রয়োজন রয়েছে. বহু পাক্ষিক নিয়মাবলীর আধুনিকীকরণ করার প্রয়োজন. আর রাশিয়া এই প্রক্রিয়াতে এক মূখ্য কুশীলবের ভূমিকা নেবে".

    মেদভেদেভ একই সঙ্গে জানিয়েছেন যে, রাশিয়ার সরকার খুবই শীঘ্র রাশিয়ার শেয়ার পত্র বিদেশের বাজারে বিক্রয়ের বিষয়ে বাধা নিষেধ প্রত্যাহার করতে চলেছে. সেই সমস্ত প্রক্রিয়া, যা আজ রাশিয়ার ভিতরে রয়েছে, এক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি বিশেষ করে আলাদা করে দিয়েছেন সরকারের সমর্থনে বেশী সক্রিয়ভাবে ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারীদের উন্নয়নে সহায়তার কথা. রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেছেন যে, সরকারের কোনও প্রয়োজন নেই বিপুল পরিমানে সম্পত্তির মালিক থাকার, আর এর অর্থ হল, ব্যক্তি মালিকানায় প্রত্যর্পণের কাজ আরও প্রসারিত হওয়া, এই বিষয়ে তিনি বলেছেন:

    "আমি মনে করি বহু ক্ষেত্রেই বড় কোম্পানী গুলিতে নিয়ন্ত্রণ মূলক ও নানা ক্ষেত্রে বাধা দেওয়ার উপযুক্ত রকমের শেয়ার সরকারের হাতে থাকার কোনও দরকার নেই, যা আজ সরকারের কুক্ষিগত রয়েছে. বেশী সন্তর্পণে কাজ করা দরকার শুধু পরিকাঠামো সংক্রান্ত একচেটিয়া কোম্পানী ও সেই সমস্ত কোম্পানীর ক্ষেত্রে, যা দেশের সামরিক নিরাপত্তার প্রয়োজনে রয়েছে, তাদের জন্য".

    ১লা আগষ্টের আগে সরকার ব্যক্তি মালিকানায় পরিনত করার উপযুক্ত কোম্পানী ও সম্পত্তির তালিকা আবার পরিবর্তিত ভাবে প্রকাশ করতে বাধ্য হবেন. রাষ্ট্রপতি বিশ্বাস করেন যে, এই ব্যক্তি মালিকানাতে রূপান্তর করা হবে আধুনিক ও স্বচ্ছ নীতি মেনেই, যাতে এখানে ফলপ্রসূ বিনিয়োগকারীদের আনা যেতে পারে ও রাশিয়ার বাজেটের জন্য আরও বেশী অর্থ যোগাড় করা সম্ভব হয়.