রাশিয়া খুবই কঠোর ভাবে সিরিয়াতে আভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংঘর্ষে বাইরের থেকে উসকানি দেওয়ার বিষয়ে সরব হয়েছে.এই ধরনের এক ঘোষণা আস্তানা শহরে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার জয়ন্তী বর্ষের শীর্ষ সম্মেলনের মঞ্চ থেকে করেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রী সের্গেই লাভরভ.

    মন্ত্রীর কথামতো, আজ সিরিয়াতে "বহু উসকানি দেওয়ার লোক অস্ত্র হাতে তৈরী" হয়েছেন. এখন মূল কথা হল – এমন ভাবে বিষয়টিকে না দাঁড় করানো, যাতে মনে হয় যে, সিরিয়ার নিরাপত্তা রক্ষী বাহিনী ও সামরিক বাহিনী শুধু শান্তিপ্রিয় মিছিল কারীদের বিরুদ্ধেই কাজ করছে – এই কথা উল্লেখ করেছেন কূটনীতিবিদ. লাভরভ বিশ্বাস করেন যে, এই দেশের পরিস্থিতি ততটা সহজ নয়, যতটা আপাতঃ দৃষ্টিতে কিছু লোক মনে করেছেন. শুধু সেই জন্যই আন্তর্জাতিক সমাজের পক্ষে কোন তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না, যখন সেই দেশের বিরোধী পক্ষের উচিত হবে সিরিয়ার প্রশাসনের সঙ্গে নিজেদের তরফ থেকে আলোচনা শুরু করার.

    একই সময়ে বেশ কিছু ইউরোপীয় দেশ রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অধিবেশনে সিরিয়া সমস্যা নিয়ে আলোচনা করার জন্য চাপ দিয়ে চলেছে. এর আগে আরও একটি সিদ্ধান্তের খসড়া প্রস্তাব করেছিল ফ্রান্স, ইতালি, গ্রেট ব্রিটেন, জার্মানী ও পর্তুগাল. তাতে সিরিয়াতে অবিলম্বে হিংসা প্রত্যাহার ও রাজনৈতিক কাঠামো সংশোধনের আহ্বানের কথা বলা হয়েছিল. কিছু তথ্য অনুযায়ী এই খসড়া বিশেষ করে নরম সুরে করা হয়েছিল, যাতে কিছু নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য দেশের প্রতিনিধিদের মনে না হয় যে, সামরিক অনুপ্রবেশ শুরু করার কথা বলা হচ্ছে, যা হয়েছিল লিবিয়ার ক্ষেত্রে. এর আগের খসড়া ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রী অ্যালেন জ্যুপ্পে র বাহবা পাওয়ার জন্য আগে আগেই ঘোষণা স্বত্ত্বেও প্রয়োজনীয় সংখ্যক সমমনা সদস্য খুঁজে পেতে নিষ্ফল হয়েছিল. এর বিরুদ্ধে বক্তৃতা দিয়েছিল রাশিয়া ও চিন, যাদের নিরাপত্তা পরিষদে ভেটো প্রয়োগের ক্ষমতা রয়েছে. মস্কোর মত অনুযায়ী নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা সিরিয়ার আভ্যন্তরীণ কলহে বিবদমান কোন এক পক্ষের অবস্থানের প্রতি সম্মতি সূচক হয়ে যাবে, যা সরাসরি ভাবেই রাষ্ট্রসংঘের মূল সংবিধানের নীতি বিরোধী. আরও একটি কিছু কম বিপজ্জনক বিষয়ও রয়েছে. আরও এই রকমের একটি সিদ্ধান্ত এমনকি নিজেদের জোটকে দিয়ে বের করে নিয়ে যেতে পারলে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, একই ভাবে রাষ্ট্রসংঘকে আন্তর্জাতিক আইন পালনের জন্য আহ্বায়ক একটি সংস্থা থেকে, আইন বিরোধী একটি সংস্থায় পরিনত করে তার উপরে কবরের ক্রশ পুঁতে ফেলতে সক্ষম হবে.

    রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্ত সিরিয়ার সম্পর্কে কোন ভাল দিকে নিয়ে যাবে না, এই বিষয়ে আস্থা রেখে রাজনীতিবিদ আন্তন চেরনভ বলেছেন:

    "সিরিয়া নিয়ে আজ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার পশ্চিমের সহযোগী দেশেরা কি করতে চাইছে? খুবই সম্ভবতঃ রাষ্ট্রপতি বাশার আসাদ তাঁর বাবার চেয়ে বেশী লিবারেল হওয়া স্বত্ত্বেও বহু প্রশ্নে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পছন্দসই নন. নতুন সিদ্ধান্তের লক্ষ্য হল এইভাবে সিরিয়ার লোকেদের কোন সাহায্য করা নয়, বরং ওয়াশিংটনের দিক থেকে নিজেদের গূঢ় অভিসন্ধি সিদ্ধি করা. যদি এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তবে সিরিয়াতে পরিস্থিতি খুবই দ্রুত অস্থিতিশীল হয়ে পড়বে, যার ফলে পশ্চিমের সুবিধা হবে এই দেশের পরিস্থিতিতে আবার নাক গলানোর. এর ফল হতে পারে লিবিয়ার থেকে অনেক খারাপ".

    আন্তন চেরনভ বলেছেন রাশিয়ার অবস্থান এই সিরিয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রতিবাদ করে যে চেষ্টা চলছে, তা বর্তমানে খুবই সঠিক. তার উপরে মস্কোর মত দামাস্কাসে এখনও শোনা হচ্ছে. তাই এখন গুরুত্বপূর্ণ হল নিজেদের নিকট প্রাচ্যে নিজস্ব স্বার্থ সম্বলিত দেশ বলে প্রমাণ করা ও বিরোধকে শান্তিপূর্ণ পথে সমাধানের প্রয়াস করা. এর জন্য একটা সম্ভাবনা ২৭ শে জুন সিরিয়ার বিরোধী পক্ষের প্রতিনিধি দলের মস্কো সফরের সময়ে থেকে যাচ্ছে, বিরোধী লোকসভার সদস্যরা চেয়েছেন রাশিয়ার রাষ্ট্রপতির আফ্রিকার বিশেষ প্রতিনিধি মিখাইল মার্গেলভের সঙ্গে দেখা করতে, যিনি সব দেখে শুনে মনে হয়েছে যে, বেনগাজির পরে হয়তো এবারে দামাস্কাস যাবেন.