0১৬- ১৮ ই জন সেন্ট পিটার্সবার্গে শুরু হচ্ছে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরাম. বিগত কয়েক বছর ধরে এটি এমন এক সম্মেলনে পরিনত হয়েছে, যেখানে দেশী ও বিদেশী ব্যবসায় এবং প্রশাসন সরাসরি জনসমক্ষে আলোচনা করতে পারেন. এই ফোরামের প্রধান ঘটনা ঐতিহ্য অনুযায়ী হতে চলেছে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতির বক্তৃতা. প্রসঙ্গতঃ "রেডিও রাশিয়া", যে সমস্ত বিশেষজ্ঞদের প্রশ্ন করেছে, তাঁদের জবাব অনুযায়ী বিশ্বের বৃহত্তম কোম্পানী গুলির নেতাদের বিশ্বের অর্থনীতির উন্নতি ও বিনিয়োগের পরিবেশ সংক্রান্ত বক্তব্যও কিছু কম গুরুত্বপূর্ণ নয়. সাধারন ভাবে যা বলা হয়ে থাকে, সেই ভাবে সেন্ট পিটার্সবার্গ তিন দিনের জন্য শুধু রাশিয়ার সাংস্কৃতিক রাজধানীই হতে চলছে না, বরং হতে চলেছে ব্যবসায় ও রাজনৈতিক কেন্দ্রও. পিটার্সবার্গের অর্থনৈতিক ফোরাম এই নিয়ে পনেরো বার হতে চলেছে এবং আবারও এখানে জমা হতে চলেছেন বিশ্বের উন্নত ও প্রবল ভাবে উন্নতি প্রয়াসে রত অন্যান্য দেশ গুলির নেতৃত্বকেও. তাঁদের মধ্যে থাকছেন – রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ, চিনের নেতা হু জিন টাও, স্পেনের প্রধানমন্ত্রী হোসে লুইস সাপাতেরো, ফিনল্যান্ডের রাষ্ট্রপতি তারিয়া হ্যালোনেন. আরও বেশী প্রতিনিধিত্ব মূলক হয়েছে সেই সমস্ত কোম্পানীর প্রধানদের তালিকা, যাঁরা সেন্ট পিটার্সবার্গ এসেছেন, এই কথা উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী কমপ্লেক্স "লেন একস্পো" সংস্থার জেনেরাল ডিরেক্টর সের্গেই আলেক্সেয়েভ বলেছেন: "সাতশোরও বেশী কোম্পানী আমাদের এই ফোরামে আসছেন ও অংশ নিচ্ছেন আড়াই হাজারেরও বেশী প্রতিনিধি. এই বছর ফোরামের মূল মন্ত্র হল – নতুন যুগের জন্য নেতৃত্ব. তিনটি প্রধান বিষয়ে আলোচনা হতে চলেছে – বিশ্বের অর্থনৈতিক উন্নতিতে সহায়তা করা. রাশিয়াতে সৃষ্টি যোগ্য মূলধনের নির্মাণ এবং দিগন্ত প্রসারের প্রযুক্তি. আমি বিশেষ করে উল্লেখ করতে চাই যে, এখানে আমাদের বিশ্বের ভবিষ্যত উন্নতির জন্য প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা হতে চলেছে রাশিয়া ও বিশ্ব, রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও ইউরোপীয় সংঘ". রাজনীতি ও অর্থনীতি সেন্ট পিটার্সবার্গের অর্থনৈতিক ফোরামে একান্ত ভাবেই সংযুক্ত বিষয়. ব্যবসায়ীরা প্রশাসনের কাছ থেকে আশা করেছেন স্পষ্ট সঙ্কেত – সম্পর্কের উন্নয়ন সম্বন্ধে, আইন ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ নিয়ে, কর সংক্রান্ত পরিবর্তন সম্বন্ধে ও প্রশাসনের সার্বিক লক্ষ্য সম্বন্ধেও. ক্রেমলিনের আবার প্রয়োজন উল্টো দিক থেকে যোগাযোগ. সমস্ত সিদ্ধান্তই কি ঠিক হয়েছে, নাকি কোথাও বোল্টু বেশী টাইট করে ফেলা হয়েছে? সরকারি কর্মচারীর স্বীকার করেছেন যে, ব্যবসায়ী সম্প্রদায় সব সময়েই রাজনৈতিক ও বাজার কাঠামোর পরিবর্তন নিয়ে খুব সঠিক ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করে থাকেন. আর ব্যবসায়ের মত খুবই গুরুত্বপূর্ণ. বিশেষত রাশিয়ার আধুনিকীকরণ বিষয়ে নেওয়া লক্ষ্য সংক্রান্ত বিষয়ে. এই সম্পর্কে নিজেদের ধারণা ব্যক্ত করতে তৈরী হয়েছে "ম্যাককিনসে" কোম্পানীর পরামর্শ বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা, এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ায় এই কোম্পানীর দপ্তরের সহ অধিকর্তা রুসলান আলিখানভ বলেছেন: "আরও বেশী করে এখন রাশিয়াতে বলা হচ্ছে সৃষ্টি ও সৃজনশীল মূলধন সম্বন্ধে. এটা শিক্ষা, উন্নতি ও প্রতিভাধর দের দেশ রাখার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরী করা ও তারই সঙ্গে বিশ্বায়িত হওয়া রুশ মানুষদের ঘরে ফেরানো, সেই সমস্ত প্রতিভাশালী রুশ লোকেদের ফিরিয়ে আনা, যাঁরা কোন একটা সময়ে নিজেদের কর্ম জীবনে উন্নতির প্রয়োজনে দেশের বাইরে চলে গিয়েছিলেন. এখানে খুবই প্রসারিত ভাবে আলোচনা করা হবে রাশিয়াতে স্থিতিশীল অর্থনৈতিক উন্নতিকে কি ভাবে সহায়তা করা যায়". পিটার্সবার্গের অর্থনৈতিক ফোরাম – এটা একই জায়গায় বিভিন্ন শিল্পের নেতৃত্ব স্থানীয় কুশীলব দের একত্রিত করার সম্ভাবনাও. আর আলোচনার জন্য বিষয়েরও কিছু খামতি নেই. প্রসঙ্গতঃ, এখানে যে সমস্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকে, তা বাজার অর্থনীতির উন্নতি করে আগামী বহু বছর ধরেই, এই কথা উল্লেখ করে "নেস্টলে রাশিয়া" কোম্পানীর কর্পোরেট রিলেশন দপ্তরের ডিরেক্টর আন্দ্রেই বাদের বলেছেন: "এটা রাশিয়ার এক বিরল ঘটনা, যখন বাজারের সমস্ত প্রধান কুশীলবেরা এক জায়গায় জমা হন, আলোচনার জন্য খুবই সুবিধাজনক ও আরও বেশী করে আগ্রহজনক এক চত্বরে, স্বাধীন ভাবে মত বিনিময় করার জন্য. এই ফোরামে কেউ একটি মাত্র নির্দিষ্ট প্রশ্নের সমাধান করতে আসেন না. বড় কোম্পানীর নেতাদের জন্য এখানে যে সমস্ত প্রশ্ন উত্থাপিত হয়, সে গুলি যথেষ্ট বিস্তারিত বিষয়ে ও তা সমস্ত শিল্পকেই স্পর্শ করে. এটা মাঝারি ও দূর ভবিষ্যতের অর্থাত্ আগামী তিন থেকে দশ বছর সময়ের মধ্যে সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা". পিটার্সবার্গের ফোরামের একটি অন্যতম বিরল বিষয় হল এখানে রাশিয়ার মন্ত্রীসভার মন্ত্রীদের সকলকেই সরাসরি খোলা আলোচনার জন্য পাওয়া যায়. মন্ত্রীদের কাছে, তাঁদের দপ্তরের কাজকর্ম অথবা সেই বিষয়ে কোন বিতর্ক থাকলে কোন আলাদা করে সময় চেয়ে নিতে হয় না. তাঁরা – অন্যান্য বহু প্রস্তাব প্রকাশ ও গোল টেবিল বৈঠকে অংশগ্রহণকারীদের মতই এখানে আসেন, এই কথা উল্লেখ করে "শ্লুমবার্গার রাশিয়া" কোম্পানীর উপ সভাপতি গ্লেব অভসিয়ান্নিকভ বলেছেন: "আমাদের জন্য, অর্থাত্ কোম্পানীদের জন্য, যাঁরা রাশিয়ার খনিজ তেল ও গ্যাস নিয়ে কাজ করছেন, তাঁদের জন্য খুবই মনোযোগের বিষয় হল এখানের জ্বালানী শিল্প সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনার সময়, যেখানে এই শিল্পের বিশ্বের সমস্ত বড় কর্পোরেশনের নেতারা থাকেন, যাঁরা বর্তমানে বিশ্বে শতকরা আশি শতাংশ খনিজ তেল ও গ্যাস উত্তোলনের কাজ করছেন. তাঁদের মত, যা এই ফোরামে তাঁরা জানিয়ে থাকেন, তা বাজারের জন্য খুবই মূল্যবান. এখানে আগ্রহের বিষয় হল উপ প্রধানমন্ত্রী ইগর শুভালভের সঙ্গে সাক্ষাত্কার, যিনি বর্তমানে বিদেশী বিনিয়োগের বিষয়ে পর্যবেক্ষণের কাজ করছেন ও বিনিয়োগকারীদের খুবই সাহায্য করে থাকেন আর জ্বালানী শক্তি মন্ত্রী ইগর সেচিনের সঙ্গেও সাক্ষাত্কার – যিনি সমগ্র জ্বালানী শক্তি শিল্প বিষয়ে পর্যবেক্ষক. সাধারন ভাবে আমরা পরিকল্পনা করছি শোনার, কারণ এই আলোচনাতে উপস্থিত থাকবেন আমাদের বায়না যাঁরা দিয়ে থাকেন সেই সমস্ত রুশ ও বিদেশী খনিজ তেল ও গ্যাস উত্পাদক কোম্পানীর নেতারা, আর তাঁদের মতামত আমাদের জন্য ভীষণ জরুরী. অবশ্যই আমরা খুশী হব ভবিষ্যতের খনিজ তেল ও গ্যাস শিল্পের উন্নতি নিয়ে আলোচনাতেও অংশ নিতে পেরে, যেখানে নতুন উদ্ভাবনী প্রযুক্তি ব্যবহার করে খনিতে কাজ করা হবে অবশ্যই "কালো সোনার" দাম নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী শুনতেও চাইব". এই ফোরাম ঐতিহ্য মেনেই অংশগ্রহণকারীদের জন্য খুবই বড় লাভ নিয়ে আসে. আর তা শুধু ধারণা সম্বন্ধেই নয়. গত বছরের পিটার্সবার্গ ফোরামে পাঁচ বিলিয়ন ইউরো অর্থের চুক্তি সম্পাদিত হয়েছিল. আর এই বছরে আয়োজকেরা আশা করেছেন সাফল্যের.