ঘনিষ্ঠতার স্বার্থে আলাপ-আলোচনা

 

 

 

সরকার, মালিকপক্ষ ও ট্রেড-ইউনিয়নের অংশগ্রহণক্রমে আন্তর্জাতিক শ্রমসংস্থা আয়োজিত ত্রিপাক্ষিক সম্মেলন রাশিয়া সমর্থন করে, যেখানে সকল পক্ষের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সমানাধিকার থাকবে. আন্তর্জাতিক শ্রমসংস্থার শততম সম্মেলনে এ কথা বলেছেন রাশিয়ার প্রধানমণ্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিন জেনেভায়.

 

 

 

 আন্তর্জাতিক শ্রমসংস্থার প্রধান জুয়ান সোমাবিয়া রাশিয়ার প্রধানমণ্ত্রীর সঙ্গে আলাপ করিয়ে দিয়ে উল্লেখ করেন, যে এই প্রথম রাশিয়ার মতো মহান দেশের প্রধানমন্ত্রী এই সম্মেলনে ভাষণ দিচ্ছেন. প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে অর্থনৈতিক উন্নয়নের এমন মডেল উদ্ভাবণ করা দরকার যা হবে দৃঢ় এবং সঙ্গতিপূর্ণ এবংযা শুধুমাত্র মুষ্টিমেয় মানুষ বা দেশের কল্যাণে নয়, সমগ্র বিশ্ববাসীর অগ্রগতিতে সাহায্য করবে. এ ব্যাপারে আন্তর্জাতিক শ্রমসংস্থার বিশেষ ভুমিকা রয়েছে- শ্রমজীবিদের স্বার্থরক্ষা, কর্মক্ষেত্রে তাদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা আর যথোপযুক্ত সামাজিক গ্যারাণ্টি বজায় রাখা. পুতিন উল্লেখ করেন, যে অর্থনৈতিক সংকটকালে এই সংস্থার ভূমিকা লক্ষ্যণীয়.

 

 

 

 রাশিয়ায় আর্থিক সংকট চলাকালীন এমন সব গুরুত্বপুর্ণ ব্যবস্থা গৃহীত হয়, যা জাতীয় অর্থনীতিকে বাঁচিয়েছে. একই সময়ে শ্রম আইনের উত্কর্ষসাধন করা হয়, যাতে আন্তর্জাতিক তথ্যপরিণীত প্রগতিশীল স্ট্যান্ডার্ডগুলি প্রতিফলিত হয়েছে. ২০১০ সালে আন্তর্জাতিক শ্রমসংস্থা নিরুপিত চারটি চুক্তি অনুমোদন করা হয়েছে, যার মধ্যে আছে সেই চুক্তি, যা কর্মক্ষেত্রে ট্রেড ইউনিয়নগুলির কার্যকলাপ সম্প্রসারিত করে.

 

 

 

 তবে এ লক্ষ্য পূরণ করা গেছে বলা যেতে পারে. ভবিষ্যতে রাশিয়ায় এক তৃতীয়াংশ কাজের জায়গার আধুনিকীকরণ করা হবে. এটা হল দেশের সর্বস্তরে আগামী ১০-১৫ বছরের লক্ষ্য. এ লক্ষ্য পূরণের জন্য গোটা সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে, যার অর্থ হল সরকার, বাণিজ্যিক শ্রেণী ও ট্রেড ইউনিয়নগুলির যৌথভাবে কাজ করা- বলেন পুতিন.

 

 

 

রাশিয়ার অর্থনীতিতে সরকারি বাজেট থেকে অপ্রাসঙ্গিক কর্মনিয়োগ বাদ দেওয়া হবে. তার বদলে অন্ততঃ আড়াই কোটি আধুনিক ও উচ্চহারে বেতনপ্রাপ্য কর্মক্ষেত্র তৈরি করা হবে.

 

 

 

   তবে আরও বড় কর্তব্য সামনে. প্রধানমণ্ত্রী ইতিপূর্বে ঘোষিত বিবৃতির পুণরাবৃত্তি করে বলেছেন:

 

আমরা আগামী দশ বছরের মধ্যে দুনিয়ার বৃহত্তম পাঁচটি অর্থনীতির অন্যতম একটি হওয়ার উচ্চাকাঙ্খি লক্ষ্য স্থির করেছি আর জি.ডি.পি বর্তমানের ২০০০০ ডলার থেকে বাড়িয়ে ৩৫০০০ ডলারেরও বেশি করতে চাই. এই লক্ষ্যসাধনের জন্য শ্রমের উত্পাদন ক্ষমতা দ্বিগুণ করা আর খনিজ সম্পদ নিস্কাষণ শিল্পক্ষেত্রে তা ৩-৪ গুণ বাড়ানো অপরিহার্য.

 

 

 

যাই হোক না কেন বিশ্ব আর্থিক সংকটের পরবর্তী পর্যায় প্রমাণ করেছে যে সবার জন্য গ্রহণযোগ্য সমাধান কারও কাছেই নেই. প্রয়োজন আলাপ-আলোচনা শুরু করার এবং রাশিয়া সর্বোতভাবে এতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণে প্রস্তুত.

 

 

 

আমরা আগামী বছরের শরত্কালে রাশিয়ায় উচ্চস্তরের আন্তর্জাতিক সম্মেলন আহ্বাণের প্রস্কাব দিচ্ছি, যেখানে আন্তর্জাতিক শ্রমসংস্থা নিরূপিত যোগ্য শ্রমনীতি নিয়ে পারস্পরিক মত বিনিময় করা যাবে- এই বক্তব্য রাখেন রাশিয়ার প্রধানমণ্ত্রী জেনেভায়, আন্তর্জাতিক শ্রমসংস্থার শতবার্ষিকী সম্মেলনে.