শাংহাই সহযোগিতা সংস্থা গঠনের সময় থেকে বিগত ১০ বছর দেখিয়েছে যে, রাষ্ট্রগুলির স্ট্র্যাটেজিক নির্বাচন ছিল সঠিক এবং দূরদর্শিতাপূর্ণ. শাংহাই সহযোগিতা সংস্থা গড়ে উঠেছে বিশ্ব স্বীকৃতি পাওয়া আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সহয়োগিতার ক্ষেত্রে মর্যাদাসম্পন্ন সংস্থা হিসেবে. এ সম্বন্ধে বলেছেন রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দমিত্রি মেদভেদেভ আস্তানায় সংস্থার দশম জয়ন্তী শীর্ষ সাক্ষাতে.

   মনে করিয়ে দিই যে, শাংহাই সহযোগিতা সংস্থা গঠিত হয়েছিল শাংহাই পাঁচের ভিত্তিতে, য়াতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল রাশিয়া, চীন, কাজাখস্তান, কির্গিজিয়া ও তাজিকিস্তান, পরে ২০০১ সালে তাতে যোগ দেয় উজবেকিস্তান. আজ শাংহাই সহযোগিতা সংস্থার অন্তর্ভুক্ত দেশগুলি (রাশিয়া, কাজাখস্তান, চীন, কির্গিজিয়া, তাজিকিস্তান, উজবেকিস্তান), পর্যবেক্ষক দেশগুলি (ভারত, ইরান, পাকিস্তান, মঙ্গোলিয়া) এবং সংলাপের শরুক দেশগুলির ভূভাগে বাস করে পৃথিবীর জনসংখ্যার অর্ধেক মানুষ. সেইজন্য  এমন ফর্মেটে সম্পর্ক বিকাশের ক্ষমতা সীমাহীন না হলেও খুবই বেশি. ইউরেশিয়া অঞ্চলে শাংহাই সহয়োগিতা সংস্থা বিশ্বাসভরে মুখ্য ভূমিকা পালন করছে, অন্যান্য আন্তর্জাতিক জোট ও সঙ্ঘকে সরিয়ে দিয়ে. এর প্রমাণ হল – শীর্ষ সাক্ষাতে প্রায় সমস্ত প্রভাবশালী আন্তর্দেশীয় সংস্থার প্রতিনিদিদের উপস্থিতি, জোর দিয়ে বলেন রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দমিত্রি মেদভেদেভঃ

   শাংহাই সহয়োগিতা সংস্থায় একনিষ্ঠভাবে গড়ে তোলা হচ্ছে আমাদের অঞ্চলে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে প্রতিক্রিয়ার ফলপ্রসূ ব্যবস্থা. এ হল মুখ্য কর্তব্য, যা আমরা সমাধান করছি. আমরা চেষ্টা করছি ভবিষ্যতেও সংস্থার ক্ষমতা বৃদ্ধির, আমাদের জনগণের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার. সেই সঙ্গে আঞ্চলিক সন্ত্রাসবিরোধী বিন্যাস, তার আর্থিক বনিয়াদ ও কর্মী গোষ্ঠী মজবুত করে. নার্কোটিকের বিরুদ্ধে সংগ্রামও বিপুল গুরুত্ব ধারণ করে.

   সংস্থার বিকাশের নতুন নতুন পরিপ্রেক্ষিত প্রত্যক্ষভাবে দেখায় যে, সংস্থা বর্তমানের বিপদের বিরোধিতার বাস্তব ব্যবস্থা হয়ে উঠছে এবং ধীরে ধীরে পরিণত হচ্ছে পূর্ণপরিসরের বিশ্ব রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কেন্দ্র. এ সব বিপদ সম্পর্কে ভালভাবেই জানা আছেঃ আফগান নার্কোটিকের চোরা-চালান, আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ, বিচ্ছিন্নতাবাদ ও অপরাধপ্রবণতা, মধ্য এশিয়া ও নিকট প্রাচ্যের কোনো কোনো দেশে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা. এ সবের বিরোধিতার জন্য সংস্থার কাঠামোতে নিয়মিত আয়োজিত হয় মিলিত সামরিক ও সন্ত্রাসবিরোধী মহড়া. আর ২০১১-২০১৬ সালের জন্য একক নার্কোটিকবিরোধী স্ট্র্যাটেজি – বর্তমান শীর্ষ সাক্ষাতে বিশেষ আলোচনার বিষয়. আফগানিস্তান থেকে আসা প্রত্যেক কিলোগ্রাম হেরোইনের জন্য বিপুল “মূল্য” দিতে হচ্ছে. এ দেশে বিগত দশ বছরে নার্কোটিকের উত্পাদন কয়েক গুণ বেড়েছে.

   অর্থনৈতিক সহযোগিতার প্রসার - সংস্থার আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্তব্য, উল্লেখ করেন রাশিয়ার নেতাঃ

   আঞ্চলিক নিরাপত্তা সুদৃঢ় করা ছাড়া অর্থনীতি হল আমাদের মিলিত কাজের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য. গত বছরের ডিসেম্বরে সংস্থার সদস্য রাষ্ট্রগুলির সরকারের নেতাদের বৈঠকে বহুপাক্ষিক অর্থনৈতিক সহযোগিতার কর্মসূচি বাস্তবায়নের পথনির্দেশ প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়. তা হওয়া উচিত পূর্ণাঙ্গ দলিল,যাতে সূত্রবদ্ধ হবে সংস্থার বড় বড় প্রকল্প. বিশেষ ভেঞ্চার তহবিল সৃষ্টি, সংস্থার কারবারী সহযোগিতার ঐক্যবদ্ধ কেন্দ্র গঠন সংক্রান্ত প্রস্তাবও পরিপ্রেক্ষিতপূর্ণ.

   কাজাখস্তানের রাষ্ট্রপতি নুরসুলতান নজরবায়েভও উচ্চ মূল্যায়ন করেন নিরাপত্তার ক্ষেত্রে মিলিত প্রচেষ্টারই শুধু নয়, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিকাশেরও.

   বিগত বছরগুলিতে সংস্থার সদস্য দেশগুলির মাঝে পণ্য-আবর্তন সাতগুণ বেড়েছে. অংশগ্রহণকারী রাষ্ট্রগুলি ইউরেশীয় যোগাযোগ প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু করেছেঃ মোটর ও রেলপথ নির্মাণ, পাইপলাইনের জাল তৈরি করা. আমরা অর্থনৈতিক সমন্বয় প্রসারের জন্য স্ট্র্যাটেজিক বনিয়াদ গঠন করেছি. প্রতিষ্ঠিত হয়েছে কারবারী পরিষদ, আন্তঃব্যাঙ্ক সংগঠন,পরিচালিত হচ্ছে সংস্থার অর্থনৈতিক সম্মেলন.

   উল্লেখ করতে চাইঃ সংস্থার দুই সদস্য – রাশিয়া ও চীন – রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য. সংস্থা সক্রিয়ভাবে পারস্পরিক ক্রিয়াকলাপ চালাচ্ছে প্রধান প্রধান আঞ্চলিক বিন্যাসের সাথে – ইউরেশীয় অর্থনৈতিক সমিতি, যৌথ নিরাপত্তা চুক্তি সংস্থা, এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠনের সাথে. সংস্থায় যোগ দেবার জন্য আবেদন করেছে পর্যবেক্ষক দেশ – ভারত ও পাকিস্তান. বিশ্লেষকদের মতে, সংস্থার প্রসারের প্রক্রিয়া শক্তি সঞ্চয় করবে. অন্ততপক্ষে এমন অ-পশ্চিমী রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক মেরু বিকশিত হচ্ছে বাস্তববাদী বিশ্ব রাজনৈতিক কারণে. সংস্থা গোড়া থেকেই ঘোষণা করেছে যে, তা কোনো সামরিক জোট বা গোষ্ঠী নয়, যা করুর বিরুদ্ধে নির্দেশিত, এ হল উন্মুক্ত আন্তর্জাতিক বিন্যাস. ১৫ই জুন সংস্থার সভাপতিত্বের ভার কাজাখস্তানের কাছ থেকে এসেছে চীনের হাতে.

   আস্তানা শীর্ষ সাক্ষাতের ফলাফলের ভিত্তিতে স্বাক্ষরিত হয়েছে মিলিত ঘোষণাপত্র, যাতে সংস্থার ১০ বছরের কাজের মূল্যায়ন করা হয়েছে এবং পরিপ্রেক্ষিতে সহযোগিতার স্ট্র্যাটেজি সূত্রবদ্ধ হয়েছে, সংস্থায় নতুন সদস্যদের গ্রহণ করার জন্য “সবুজ আলো” দেখানো হয়েছে. দমিত্রি মেদভেদেভের স্বীকৃতি অনুযায়ী, সংস্থার সচিবালয় এবং রাষ্ট্রসঙ্ঘের নার্কোটিক ও অপরাধপ্রবণতা সংক্রান্ত বিভাগের মাঝে পারস্পরিক সমঝোতার স্মারকলিপির স্বাক্ষর এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ. আস্তানায় তাছাড়া, তথ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রসমূহের ব্যবহারের নিয়ম সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারণ অ্যাসেম্বলির পরবর্তী অধিবেশনে পেশ করার প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে. তাছাড়া, সংস্থার সদস্য দেশগুলির নেতারা একসারি দ্বিপাক্ষিক সাক্ষাতেও মিলিত হন এবং আঞ্চলিক পারস্পরিক ক্রিয়াকলাপ ও বিশ্ব প্রক্রিয়ায় নিজেদের স্থিতি মিলিয়ে দেখেন.